বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন




আজব সৌরবাড়ি

খবরপত্র অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ১০৬ বার পঠিত




বিশ্বখ্যাত স্থপতি রম্ফ ডিশ এক অভিনব বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িটি দিনে একবার নিজের অক্ষের উপর পুরো ঘুরে যায়। ফলে সবসময়েই সুর্যের দিকে মুখ থাকে সেই বাড়ির। ফলে সেটি চাহিদার তুলনায় চার গুণ বেশি জ্বালানি উৎপাদন করে। গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকেই তিনি স্থপতি হিসেবে সৌরশক্তি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে চলেছেন। অনেক সমালোচক তার স্বপ্নকে অবাস্তব মনে করতেন। কিন্তু মডেল বাড়ি তৈরি করে তিনি হাতেনাতে প্রমাণ করে দিয়েছে, যে সেটা সত্যিই সম্ভব। তিনি বলেছেন, “নিজেই কিছু করে দেখানোর সুযোগ পেয়েছিলাম। অন্যের জন্য নির্মাণের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে নিজের জন্য বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে আরও ঝুঁকি নেওয়া যায়। পরীক্ষামূলক বাড়ি হিসেবে আমি হেলিওট্রপ তৈরি করেছি। পরিবেশসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে উন্নতির চেষ্টা করেছি।”
সমালোচকদের মুখ এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ স্ক্রাইবুর্গ শহরে ৬০টি বাড়ি তিনি বানিয়েছেন, যেগুলো নিয়ে একটা আস্ত সৌরবসতি তৈরি হয়েছে। প্রত্যেকটি বাড়িই নিজের জন্য প্রয়োজনীয় জালানি নিজেই উৎপাদন করে। ছাদে সোলার প্যানেলের সাহায্যে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। অভিনব স্থাপত্য ও দক্ষিণমুখী অবস্থানের কারণে বাড়িগুলি গরম রাখার জন্য মাত্র এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানির প্রয়োজন হয়। এমনকি একটা গোটা বাণিজ্যিক ভবনও ‘প্লাস এনার্জি হাউস’ হয়ে উঠেছে। একেবারে নতুন ধরনের বহির্কাঠামোর ফলে এটা সম্ভব হয়েছে।
ভ্যাকুয়াম প্লেট দিয়ে বাইরের দেয়াল মুড়ে দেয়া হয়েছে, যার ইনসুলেশন ক্ষমতার ফলে বেশি উত্তাপ প্রবেশ করতে পারে না। তাছাড়া এটি প্রচলিত উপকরণের তুলনায় এক দশমাংশ পাতলা। বাড়ির রঙিন খোলসের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আসল রহস্য। এক অভিনব ভেন্টিলেশন সিস্টেমের দৌলতে ইলেকট্রিক শক্তিচালিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজনই হয় না। রাতে শীতলবাতাস ভেতরে প্রবেশ করে। দিনের বেলায় ব্যবহৃত বাতাস বাইরে বার করে দেওয়া হয়। এক রেকিউপারেটর গ্রীষ্মে বাতাস শীতল করে এবং শীতে উত্তাপ দেয়।
ভিন্ন ধরনের বসতির স্বপ্নের মাধ্যমে রম্ফ ডিশ এক নতুন ধারার ভাবনাচিন্তার জন্ম দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্পকর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা আগে আমাকে পাগল বলতেন, পরে আমার ভাবনা বাস্তবায়ন করার প্র পাগল হিসেবে আমাকে যেন মেনে নেওয়া হলো। তারপর আমাকে পথপ্রদর্শক বলা হলো। এখন প্রশ্ন হলো, এবার আমাকে কি তাহলে বিশেষজ্ঞ বলা হবে?
রম্ফ একাই সৌরশক্তি ব্যবহার করছেন না। ইউরোপের সবচেয়ে বড় সৌর গবেষণা কেন্দ্র ও ফ্রাইবুর্গ শহরে অবস্থিত। ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়াররা সৌরশক্তি নিয়ে মৌলিক নানা গবেষণা করছেন। তারা প্রোটোটাইপ তৈরি করছেন এবং বাড়ির নতুন বহির্কাঠামো তৈরি করছে। তাঁদেরই একজন পদার্থবিদ টিলমান কুন। তিনি বলেছেন, ‘বাড়ির বাইরের অংশকেও সৌরশক্তি সংগ্রহের কাজে লাগানো আমাদের লক্ষ্য। তাই আমরা নতুন মাল্টিফাংকশানাল সোলার এলিমেন্ট তৈরি করছি, যার সাহায্যে সেখানে সৌরশক্তি উৎপাদন করা যাবে।’
সর্বশেষ আইডিয়া হলো আংশিক স্বচ্ছ জানালার কাচ তৈরি করা, যার মধ্যে সোলার প্যানেল বসানো থাকবে। অথচ সেই জানালা দিয়ে বিনা বাধায় বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে। বিশেষ ধরনের পর্দার সাহায্যে সেইকাচ একদিকে রোদের তাপ প্রতিরোধ করবে, অন্যদিকে সৌরশক্তি উৎপাদন করবে। বিশেষত বড় আকারের ভবনের জন্য এমন ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

ই-খ/খবরপত্র




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..










© All rights reserved © 2018 Daily Khoborpatra
Theme Developed BY ThemesBazar.Com