রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

অরিত্রীর আত্মহত্যায় ক্ষমা চাইলেন গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান

খবরপত্র ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ১২ বার পঠিত

অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষমা চাচ্ছেন স্কুলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদাররাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে স্কুলের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬টি দাবির মধ্যে এটি ছিল একটি দাবি।

শিক্ষার্থীদের অপর দাবি গভর্নিং বডির সকল সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ স্বার্থে যদি আমার পদত্যাগ করতে হয় তাহলে অবশ্যই করবো। তাদের দাবির বিষয়টি আমি কমিটির বৈঠকে তুলবো।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ৬টি দাবির মধ্যে অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। আমাদের গভর্নিং বডির সদস্যসচিব স্কুলের অধ্যক্ষ মামলার আসামি থাকায় আমরা তাকে পাচ্ছি না। তার এই পদে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে কমিটির মিটিং আহ্বান করবো। সেখানে বাকি সিদ্ধান্ত হবে।’

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বলবো শিক্ষার্থীরা, তোমরা ক্লাসে ফিরে এসো।’

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-
(১) অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
(২) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) কোনোভাবেই কোনও শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবে না।
(৪) কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করতে হবে।
(৫) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সকলের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।
(৬) গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে হবে।

এদিকে গতকাল বুধবার (৫ ডিসেম্বর) গভর্নিং বডির সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, আগামী শনিবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে পূর্বনির্ধারিত রুটিনে পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া বুধবারের (৫ ডিসেম্বর) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর)। আর বৃহস্পতিবারের (৬ ডিসেম্বর) পরীক্ষা হবে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর)।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শান্তিনগরে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কারণে অরিত্রী অধিকারীর বিরুদ্ধে নকল করার অভিযোগ আনেন ভিকারুননেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকারা। তারা তার বাবা-মাকে ডেকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা করতে বলেন।

অরিত্রীর বাবার ভাষ্য, ‘৩ ডিসেম্বর আনুমানিক বেলা ১১টায় আমার স্ত্রী বিউটি অধিকারী ও মেয়ে অরিত্রী অধিকারীকে নিয়ে আমি স্কুলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা প্রথমে ক্লাস টিচার হাসনা হেনার কাছে যাই। তিনি আমাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখেন এবং পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রভাতী শাখা প্রধান জিনাত আক্তারের কাছে নিয়ে যান। তিনি আমাদের দেখেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং আমাদেরকে বলেন, আপনার মেয়েকে টিসি দিয়ে দেবো। তিনি রাগান্বিত অবস্থায় আছেন বুঝতে পেরে আমি তার কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু তিনি বলেন, আমার কিছু করার নেই। তখন আমরা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদৌসের সঙ্গে দেখা করতে যাই। আমার মেয়ে তার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মেয়ের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে আমরাও ক্ষমা চাই। তারপর আমরা কেঁদে ফেলি। আমাদের বা অরিত্রীর কারও ক্ষমা প্রার্থনাই অধ্যক্ষের হৃদয় গলাতে পারেনি।’

খবরপত্র/এমআই

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Daily Khoborpatra
Theme Developed BY ThemesBazar.Com