শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::




মাথাপিছু ‍আয় বাড়লে খর্বকায় ও স্বল্প ওজনের শিশুর হার কমে 

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০




এনআইপিএন ও এইচকেআই’র গবেষণা 

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি খর্বকায় ও স্বল্প ওজনের শিশুর হার কমাতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে। মাথাপিছু আয় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে খর্বকায় শিশুর সংখ্যা কমে শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে স্বল্প ওজনের শিশু কমাতে সহায়তা করে প্রায় শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে অপুষ্টির অন্যতম এই দুই সূচকের মান ১ শতাংশ হারে কমাতে হলে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
ন্যাশনাল ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্ম ফর নিউট্রিশন (এনআইপিএন) ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের (এইচকেআই) গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘পলিসি কোশ্চেন ফর্মুলেশন ফর আন্ডারস্ট্যান্ডিং নিউট্রিশনাল ইস্যুজ অ্যান্ড ইন্টারভেনশন’ শীর্ষক খসড়া প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বি আইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান এবং এনআইপিএন পলিসি সাপোর্ট অফিসার নিগার সুলতানা। গবেষণায় ১৯৯৬ সাল থেকে অপুষ্টির প্রধান তিনটি সূচক খর্বকায় (স্টান্টিং), স্বল্প ওজন (আন্ডার ওয়েট) এবং ক্ষীণকায় (ওয়াস্টিং) সূচকের গতি-প্রকৃতির সঙ্গে জাতীয় আয়ের সম্পর্ক পরিমাপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন দশকের অধিক সময় ধরে দেশের মানুষকে অপুষ্টি ও দারিদ্র্য মুক্ত করার লক্ষ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুষ্টি খাতে সরকারের বিনিয়োগ বেড়েছে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতার গতির সঙ্গে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নীত হচ্ছে। পুষ্টি পরিস্থিতি মোকাবেলার অন্যতম কার্যকর উপায় হচ্ছে দেশের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে অসুরক্ষিত পরিবারগুলো এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে হবে।
এ বিষয়ে বি আইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের অপুষ্টির প্রধান সূচকগুলোয় সাম্প্রতিক সময়ে অর্জন বেশ ভালো। তবে এসডিজি ও সরকারের পুষ্টি বিষয়ক যে লক্ষ্যমাত্রাগুলো রয়েছে, সেটি অর্জনে আরো উদ্যোগ প্রয়োজন। পুষ্টি কার্যক্রমে যেমন পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে, তেমনি বেশকিছু বিষয়কে বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে পুষ্টি কার্যক্রমে নারীকে আরো সংবেদনশীলভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদনশীলতাকে আরো বৃদ্ধি করা এবং শহরে অপুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আরো সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আর সেই উদ্যোগে কার্যকর নীতিসহায়তা বাড়ানোর দরকার।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে (এসডিজি) ২০২৫ সালের মধ্যে অপুষ্টির হার ২৭ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। পুষ্টিসেবার ব্যাপ্তি, মান ও পুষ্টি আচরণে উন্নতি দরকার। তবে শহর বা নগরে বস্তির পুষ্টি পরিস্থিতি বেশ খারাপ। বস্তির প্রায় অর্ধেক শিশু খর্বকায়। সেখানকার ৬-২৩ মাস বয়সী ৭৫ শতাংশ শিশুকে রীতি (আইওয়াইসিএফ) মেনে খাওয়ানো হয় না। বস্তিতে কিশোরী গর্ভধারণ তুলনামূলক অনেক বেশি। অপুষ্টি রোধে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে আরো বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। সমাজের সব স্তরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনের জন্য এমনভাবে প্রচারণা চালাতে হবে, যেন বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের পুষ্টিজনিত অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, (আইসিডিডিআর,বি) পুষ্টি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, আগামী দিনে শহরে অপুষ্টি রোধ করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষি পুষ্টিবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিতে হবে। এছাড়া আমিষ জাতীয় খাদ্যের উৎপাদন ও ভোগ বাড়াতে গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে।
দেশে অতি ওজন, স্থূলতা ও অসংক্রামক ব্যাধির (এনসিডি) প্রকোপ বাড়ছে। প্রজনন বয়সী ৩৯ শতাংশ নারীর ওজন বেশি বা তারা স্থূলকায়। প্রায় ৩২ শতাংশ পুরুষ ও ১৯ শতাংশ নারী উচ্চরক্তচাপে ভুগছে অথবা তারা রক্তচাপ কমাতে ওষুধ সেবন করছে। ১০ শতাংশের বেশি নারী ও পুরুষের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com