বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
ভূরুঙ্গামারীতে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট মণ দরে বিক্রি হচ্ছে খড় নরসিংদী জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসারদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান শ্রীপুরে পাঠাগার উদ্বোধন ঝালকাঠিতে প্রতিপক্ষের টেটা বৃদ্ধার বুকে,মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন আইসিইউতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন মানবতা ও প্রগতিশীল চিন্তার ধারক এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনাবসান প্রতি বছরই উচ্চশিক্ষায় আসন ফাঁকা থাকে পাঁচবিবিতে ইউএনও এর হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা: পরিশোধ করতে পারছেন না ব্যাংক ‍ঋণ দুর্গাপুরে প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা আরবদের মাঝে লাফিয়ে বাড়ছে এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা, কিন্তু কেন?




সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রবাসে গণ-ধর্ষণের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে সরকার

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সারা দেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ - ছবি: খবরপত্র




সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়

সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রবাসে গণ-ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সব বিরোধী দল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে ঘটনার জন্য সরকারের দলীয় করণ,দুর্নীতি সন্ত্রাসবাদ লালনকে দায়ী করেছে। সিলেট আওয়ামী লীগের কলেজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছে। সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবতার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি’র উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। ওবায়দুল কাদের নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

তিনি বলেন, ‘দেশের আইন নিজস্ব গতিতে চলছে। বিচার বিভাগের ওপর সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই। দেশের মানুষ দেখেছে, নিজ দলের সমর্থক কিংবা নেতারাও অপরাধী হলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা দেয়নি। সিলেটে এমসি কলেজের ঘটনায়ও শেখ হাসিনা সরকার কঠোর অবস্থানে। অপরাধী যেই হোক ছাড় পাবে না।’
দলের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কিউ এম মাহবুব এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. মফিজুর রহমান।
গ্রেফতার এড়াতে দাড়ি কেটে ফেলে সাইফুর, ভারতে পালাতে চেয়েছিল অর্জুন: গ্রেফতার এড়াতে দাড়ি কেটে ফেলেও রক্ষা হয়নি সাইফুরের। শুক্রবার পর্যন্ত প্রবল প্রতাপ ছিল তাদের। করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে সরকারিভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তাদের কারণে কর্তৃপক্ষ খুলে রাখতে বাধ্য হয় মুরারি চাঁদ (এমসি) ছাত্রাবাস। এই কলেজের ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান যার দাপটে হোস্টেল সুপার ছেড়ে দিয়েছেন তার বাংলো। তার নেতৃত্বে ছাত্রাবাসে থাকা মানে আড্ডা, নেশা, দলবেঁধে ফুর্তি তো ছিলই, হাতে অস্ত্র থাকায় চাঁদাবাজিও ছিল কলেজ ও আশেপাশের এলাকায়। তবে এতেই কি আর প্রমাণ হয় নেতাগিরি? তার প্রমাণ রাখতে গত শুক্রবার কলেজ মাঠে ঘুরতে আসা এক দম্পতিকে ছাত্রাবাসে তুলে এনে স্বামীকে ব্যাপক মারধর আর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে সাইফুর রহমান ও তার দল। তবে এ ঘটনা চাউর হওয়ায় প্রভাবশালী সবাই যখন মাথার ওপর থেকে আশীর্বাদের হাত তুলে নিলো তখন চোখে সর্ষেফুল দেখতে দেখতেই রাজত্ব ফেলে দীনভিখারির মতো পালিয়ে আত্মগোপন করার চেষ্টা চালায় পরম তেজি সাইফুর ও মামলাভুক্ত তার অপর সহযোগীরা। যে শখের দাড়ি রেখে বীরদর্পে নিজের চেহারা দেখাতো সাইফুল, সেই দাড়ি কেটে এলাকা ছাড়ার ফন্দি করে সে। অন্যদিকে, আরেক ‘বীর’ অর্জুন লস্কর হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় পালিয়ে যায় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যাওয়ার ধান্দায়। তবে দুজনের আশাতেই বালি ঢেলে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিলেট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান গ্রেফতার এড়াতে দাড়ি কেটে চেহারা পাল্টে ফেলার চেষ্টা করে। তবুও তার রক্ষা হয়নি। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা খেয়াঘাট থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সাইফুর রহমান লাগঞ্জের চান্দাইপাড়া গ্রামের তাহিদ মিয়ার ছেলে। তাকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মহানগরের শাহপরাণ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সাইফুর গ্রেফতার এড়াতে বাঁচতে তার মুখের দাড়ি কেটে ফেলে। সে সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। গ্রেফতারের পর সাইফুর পুলিশের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। এমসি কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সাইফুর এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে। তার ইভটিজিং ও হয়রানির কারণে এমসি কলেজ থেকে অনেক মেয়ে অন্য কলেজে চলে যায়। এমনকি কলেজে সাইফুরসহ তার সহযোগীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজিও করে আসছে।
হবিগঞ্জপ্রতিনিধি জানান, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার অন্যতম আসামি অর্জুন লস্করকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্তের কাছের একটি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোর ৬টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকার দুর্বলপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন তাকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অর্জুন মাধবপুর উপজেলার মনতলা সীমান্ত দিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গ্রেফতারের পর তাকে সিলেটে নিয়ে গেছে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
প্রশ্নবিদ্ধ এমসি কলেজের তদন্ত কমিটি, বহাল তবিয়তে হোস্টেল সুপার: এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে সিলেটে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কলেজের ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ছাত্রাবাসের হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিনকে। অথচ মূলত তার আশ্রয়-প্রশ্রয়েই এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের কয়েকটি ব্লক দখল করে রাখে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এদিকে নিরাপত্তা পালনে গাফিলতির অভিযোগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ছাত্রাবাসের দুই নিরাপত্তা কর্মীকে বরখাস্ত করা হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিন।
এ বিষয়ে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি যাতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করে সেজন্য সবার পরামর্শ অনুযায়ী কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে আহ্বায়ক রাখা হয়েছে। আর ছাত্রাবাসের বিস্তারিত বিষয় জানার জন্য হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিনকে রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব নেওয়া আরেক হোস্টেল সুপার কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ ভট্টাচার্যকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তাকে কমিটিতে রাখার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা ন্যক্কারজনক। এই ঘটনায় আমরাও হতবাক। হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিনকে কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে কারণ তিনি এই ছাত্রাবাসের অনেক পুরাতন হোস্টেল সুপার। তার অনেক বিষয় জানা রয়েছে। অতীতে কী হয়েছে আর বর্তমানে কীভাবে কী ঘটনা ঘটেছে তা জানার জন্য তাকে রাখা হয়েছে। অন্য কোনও কারণ নেই। দায়িত্ব পালনের অবহেলার অভিযোগে ছাত্রাবাসের দুই নিরাপত্তা কর্মীকে বরখাস্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কাজ হলো ছাত্রাবাসের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় দেখাশোনা করা। ছাত্রাবাসের ভেতরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে অথচ তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। তারা তাদেও দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় জরুরি বৈঠকে বসে রাসেল মিয়া ও সবুজ আহমদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা মাস্টার রোলে চাকরি করতেন।
এমসি কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ছাত্রাবাস থেকে দুই নিরাপত্তা কর্মীকে বরখাস্ত করা হলেও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্র জানায়, এমসি কলেজ হোস্টেল সুপারের বাংলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করছে ধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান। তার দখলে থাকা ওই বাংলো থেকেই পুলিশ শুক্রবার একটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানার এসআই মিল্টন সরকার বাদী হয়ে সাইফুরকে একমাত্র আসামি করে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে এমসি কলেজ বন্ধ থাকলেও ছাত্রাবাস খোলা ছিল। ছাত্রাবাসে শুধু সাইফুর নয় হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছাত্রাবাসে থাকতো অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের কর্মীরা নানা ধরনের উৎপাত করলে হোস্টেল সুপার একেবারেই নীরব ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার এমসি কলেজে ঘুরতে আসা এক দম্পতিকে আটক করে জোর করে ছাত্রাবাসে তুলে আনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে মারধর করে ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে সাইফুরসহ অন্যরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী শুক্রবার রাতে বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে ৬ জনকে। সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলো এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com