শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৮ অপরাহ্ন




ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, কাল অধ্যাদেশ

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সচিবালয় প্রান্তে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীপরিষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন -ছবি পিআইডি




ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। আজ মঙ্গলবার এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট অধ্যাদেশ জারি করবেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে আইনের সংশোধনীর অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। সচিবালয় থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যুক্ত ছিলেন। পরে আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, সংশোধিত আইন মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও থাকবে। আগামী কালই এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হবে। সম্প্রতি দেশে একাধিক ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

সিলেটের এমসি কলেজে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ-ধিক্কার জানায় হাজার হাজার মানুষ। টানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে রাজপথে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন এসব কর্মসূচিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কেউ কেউ ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আগে জানিয়েছিলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মৃত্যুদণ্ডের বিধানের প্রস্তাব নিয়ে সমাজ এবং আইনবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন,‘রাজনীতির কারণেই সামাজিক কাঠামোগুলো ভেঙে পড়ছে। মানুষ প্রতিরোধ করতে শক্তি হারিয়ে ফেলছে। সরকারি এবং বিরোধী দল এর জন্য দায়ী। এখানে দুটি বড় দল। দুটি বড় দলই ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে দুর্নীতি করেছে। আর দুর্নীতির এই মহামারি থেকেই সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।’ সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে (৩৭) বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এছাড়া প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এমতাবস্থায় ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি উঠেছে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মনে করেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে মৃত্যুদণ্ডই যথেষ্ট নয়। তার মতে, এ সমস্যার সমাধানের জন্য মূলে যেতে হবে। সমাজের পতন কেন ঘটল, তা খুঁজে বের করতে হবে।
ধর্ষণ প্রসঙ্গে গত সোমবার ১২ অক্টোবর একটি নিউজ পোর্টালের সাথে মেনন। এ সময় তিনি কথাগুলো বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, যা ঘটছে, তা রীতিমতো অস্বস্তির। এটি সামাজিক অপরাধ এবং তা ক্রমশই সমাজকে বিষিয়ে তুলছে। আমরা সম্প্রতি ধর্ষণের যে কটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করলাম, তা নিঃসন্দেহে সমাজ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। সামাজিক আন্দোলন বা সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে ধর্ষণের মতো অপরাধ কমিয়ে আনতে। কিন্তু সচেতনতার অভাবেই ধর্ষণ হচ্ছে। এটি এখন আর একতরফাভাবে বলা যাবে না। রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটছে, তা ধর্ষণের মতো অপরাধকে উসকে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক দ্র্বুৃত্তায়নের কথা বলছেন। এই প্রশ্নে ভোট, নির্বাচনের প্রসঙ্গও আসে… এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি তা মনে করি না। ভোট, নির্বাচন আর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এক জিনিস নয়। এর সঙ্গে ভোট, নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকারের কোনো সম্পর্ক নেই। সমাজের সর্বত্রই দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য। আর তাদের কারণেই সামাজিক অপরাধ বেড়ে চলছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ আর বিচারের ক্ষেত্রে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ দেখাতে হবে। প্রশাসনের ওপর আস্থার যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজনীতির কারণেই সামাজিক কাঠামোগুলো ভেঙে পড়ছে। মানুষ প্রতিরোধ করতে শক্তি হারিয়ে ফেলছে। সরকারি এবং বিরোধী দল এজন্য দায়ী। এখানে দুটি বড় দল। দুটি বড় দলই ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে দুর্নীতি করেছে। আর দুর্নীতির এই মহামারি থেকেই সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। রাজনীতির সঙ্গে ঢালাওভাবে এমন ঘটনাকে সম্পৃক্ত করা ঠিক না। আর সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনায় অপরাধীকে কিন্তু ছাত্রলীগের এক নেতাই আটক করে দিয়েছে। ফলে ধর্ষণের জন্য ছাত্রলীগকে এককভাবে দায়ী করতে পারি না। তবে হ্যাঁ, ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে অপরাধ ঘটানো সহজ হয়। তার মানে এই নয় যে, রাজনৈতিক শক্তি সরাসরি এমন অপরাধে ইন্ধন দিচ্ছে।
ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদ- রাখার দাবি উঠেছে এবং সরকার হয়তো এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আপনি কী ভাবছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মৃত্যুদ- দিলেই ধর্ষণ কমবে, আমি তা মনে করি না। এমন সাজা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। আমাদের মূলে যেতে হবে। সমাজের পতন কেন ঘটল, তা খুঁজে বের করতে হবে। সৌদি আরবে ধর্ষককে প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কি ধর্ষণ হচ্ছে না? নারীর প্রতি সহিংসতা আরও বাড়ছে সেখানে। কাজেই আমি মনে করি না, ফাঁসি হলেই সমাধান হয়ে যাবে। অনেক কারণেই সমাজের এই অস্থিরতা। কেন রাজনীতি, অর্থনীতির দুর্বৃত্তায়ন তা নিয়ে আগে ভাবতে হবে।
আপনারাও ক্ষমতার অংশীদার। এই পরিস্থিতি আপনাকে অস্বস্তি দেয় কি-না? এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, সরকারে আছি বলে অস্বস্তি নয়, একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই অস্বস্তি বোধ করছি। সমাজের একজন মানুষ হিসেবে এমন পরস্থিতিতে কেউ ভালো থাকার কথা নয়। রাজনীতিক হিসেবে আমি এমন ঘটনার প্রতিবাদ করছি। আমার দল প্রতিবাদ করছে। আমরা সংসদে বলছি। সরকারে আছি বলেই ধর্ষণের দায় নিতে পারি না।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com