বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন




মাদক ঘাঁটি হিলি সীমান্তের ‘বালুরচর বস্তি’

মোসলেম উদ্দিন হিলি (দিনাজপুর) :
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০




করোনার মধ্যেও থেমে নেই মাদক কেনা-বেচা। আর এসব কেনা-বেচা হচ্ছে মাদকের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের হিলি চেকপোস্ট মুক্তিযোদ্ধা সংলগ্ন অবস্থিত রেলওয়ের জায়গার অবৈধ দখলের বালুরচর বস্তিটি। বলতে গেলে প্রকাশ্যেই চলছে এসব অপরাধমুলক কর্মকান্ড। মাদক কেনা-বেচার পাশাপাশি এখানে মাদকের আসরও বসে প্রতিনিয়ত। বস্তিটি উচ্ছেদ সহ মাদক কেনা-বেচা বন্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। রোববার (১৮ অক্টবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখানে যেসব মাদক পাওয়া যায় তার মধ্যে, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, প্যাথেডিন ইনজেকশন সহ বিভিন্ন ধরণের মাদক। প্রতিদিনই ভারত থেকে এসব মাদকদ্রব্য দেশে পাচার হয়ে আসছে। এর একটি অংশ বালুরচর বস্তিতে ঢুকে। এখানকার মাদক নির্মূলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বর্তমানে কোন উদ্যোগ নাই। একারণে মাদক কারবারীরা বীরদর্পে তাদের এসব অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েদের দিয়েও এসব কাজে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বস্তিটির সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সাবেক কমান্ডার লিয়াকত আলি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত লাগোয়া রেলওয়ের বালুরচর জায়গাটি অবৈধ ভাবে দখল করে ঘর-বাড়ী নির্মাণ করে বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত এই কারবারীরা। আর এসব অবৈধ বাড়ী-ঘরে চলছে আড্ডা। শুধু মাদকের নিরাপদ ঘাঁটি নয়, এখানে অসামাজিক কার্যকলাপ সহ বিভিন্ন অপরাধও সংঘঠিত হয়। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও অপরাধীদের কাছে বালুরচর নিরাপদ জায়গা। এখানকার মাদকের আখড়া সবার কাছে ওপেন সিক্রেট। স্থানীয় সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক জানান, বালুরচর বস্তিতে দির্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকার মাদকের বেচা-কেনা হয়ে আসছে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে অনেকেই আজ সংসার এবং সমাজ ছাড়া হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর আগে থানা পুলিশের সহযোগীতায় বস্তিটির মাদকের জমজমাট আসর ভেঙে দেওয়া হয়ে ছিলো। কিন্তু কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও তারা বেপরোয়া ভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদের সরকারি ফোন ০১৩২০-১৩৬৭০৩ নাম্বারে পাঁচবার যোগাযোগ করলে ফোনটি ব্যস্ত পায়। সেহেতু তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। হিলি-হাকিমপুর সার্কেলের (ভারপ্রাপ্ত) সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার জানান, মাদকের কোন ছাড় নেই, মাদক নির্মুলে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে আসছি। আমি হাকিমপুর থানার ওসিকে বালুরচর বস্তিটির বিষয়ে অবগত করবো, তিনি যেন ওই বস্তি থেকে মাদক নির্মুলের অভিযান পরিচালনা করেন। এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল রাফিউল আলম জানান, ইতিমধ্যে আমি রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সীমান্তের বালুরচর বস্তির বিষয়ে কথা বলেছি। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা এই অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ অভিযান চালাবো। তিনি আরও জানান, এই বস্তিতে আগেও মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিলো। মাদক বিরোধী অভিযান আমাদের অব্যহত রয়েছে। প্রয়োজনে থানার ওসিকে নিয়ে সেখানে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com