রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন




পাটকল চালুর দাবিতে খুলনায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আটক ৮

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০




বন্ধ হওয়া রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকল চালুর দাবিতে খুলনার আটরা শিল্পাঞ্চলের ইস্টার্ন গেটে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি (উত্তর) সোনালী সেন।

কেএমপি’র এডিসি জানান,পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের শ্রমিকরা গতকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে ইস্টার্ন গেটে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এরপর পুলিশ অবরোধকারীদের মহাসড়ক থেকে তুলে দেয়। এসময় শ্রমিকরা প্রতিরোধ করে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।
সংঘর্ষে ৯ শ্রমিক ও ৩ পুলিশ আহত হয়েছেন। একজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মিডিয়া সেল থেকে জানানো হবে। পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা জানান, শ্রমিকরা সকালে শান্তিপূর্ণ অবরোধ শুরু করেন। পুলিশ সবাইকে তুলে দেওয়ার পর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপে ২ শ্রমিক আহত হন। এদের মধ্যে জেজপআই’র আহমেদ তাসনিম শ্যামলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও এক নারী শ্রমিক আহত হয়েছেন।
পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের নেতারা জানান, বিজিএমসির দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে পাটকলে লোকসান হয়েছে। লুটপাটের জন্যই পাটকল ও পাটশিল্প আজ ধ্বংসের পথে। অথচ বিজিএমসির দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে সৃষ্ট লোকসানের দায় সাধারণ পাটকল শ্রমিকদের ওপর চাপাচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের অন্যায় শাস্তির ফল ভোগ করছেন শ্রমিকেরা। অবিলম্বে পাটকল চালুর দাবি জানান তারা। আহত শ্রমিকদের কয়েকজন হলেনÍ নাজমা খাতুন, খাদিজা বেগম, হাফিজা বেগম, সুমি রায়, শেফালী বালা, সুচিত্রা বিশ্বাস, সাফিয়া। অন্যদের নাম জানা যায়নি।
শ্রমিক নেতারা আরও জানান, করোনাভাইরাস মহামারিতে সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কর্মহারা এই শ্রমিকদের কেউ কেউ সহজ পেশা হিসেবে রিকশা চালাচ্ছেন। কেউবা ফল বিক্রেতা কিংবা নির্মাণ শ্রমিকের কাজেও নেমেছেন। আর এখনও কাজ জোগাড় করতে না পেরে বেকার জীবন পার করছেন অনেকে। ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির আহবায়ক ও পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্য মুনীর চৌধুরী সোহেল জানান, বিনা উসকানিতে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এর ফলে ২ শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। বিজিএমসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও ভ্রান্ত নীতির কারণে পাটশিল্পে লোকসান হচ্ছে। লোকসানের এই দায় নিষ্ঠুরভাবে শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিষ্ঠুর এ খেলা বন্ধ করতে হবে। লুটপাটের এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। ২৫ পাটকল বন্ধ করা সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার পাটকল বন্ধের জন্য এই করোনাকালকে বেছে নিয়েছে। যাতে শ্রমিকরা আন্দোলন করতে না পারে। তিনি দ্রুত বন্ধ পাটকলগুলো চালুর দাবি জানান।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com