রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতের নির্দেশ

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সচিবালয় প্রান্তে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় সভাপতিত্বে করেন ছবি পিআইডি




করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায় (সেকেন্ড ওয়েভ) মোকাবিলায় বাইরে বের হওয়া মানুষের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোভিড নিয়ে স্পেশাল আলোচনা হয়েছে। সব জায়গা থেকেই আমরা দেখছি, ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং থেকে দেখছি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সেই সব জায়গা থেকে আবার একটা প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েক দিন থেকে মিটিংয়ে কথাবার্তা বলছেন। সেখানে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন যে, সবাই যাতে একটু কেয়ারফুল থাকি, পার্টিকুলারলি আমাদের দিক থেকে আমরা যেন সবাই মাস্ক ব্যবহার করি।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাকি কী হবে না হবে সেটা তো একটা আনসার্টেন বিষয়। মাস্ক যদি আমরা সবাই ব্যবহার করি, তাহলে অটোমেটিক আমাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে আসে। সেজন্য মানুষকে আরও বেশি করে সচেতন করতে হবে। অনেকের মধ্যে একটু রিল্যাক্স ভাব দেখা যাচ্ছে।’ ‘কোনোভাবেই পাবলিক প্লেস বা মসজিদ বা অন্য গ্যাদারিং, সামনে দুর্গাপূজা, যেসব অনুষ্ঠান হবে কোনো অবস্থায়ই কেউ যেন মাস্ক ছাড়া না আসে। এটা আরেকটু ইনফোর্স করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা দৃঢ় ইচ্ছা ও আশা প্রকাশ করেছে যে, সবাই যদি মাস্ক ব্যবহারে সচেতন হয়, তাহলে অটোমেটিক্যালি এটা থেকে রিলিভ পাব।’ খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা যেন সবাই নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করি। অন্তত যখন বাইরে আসি।’
‘এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হবে কি-না’ জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “অলরেডি গতকাল কমিশনার কনফারেন্স ছিল, সেখানে আমরা ক্লিয়ার কাট ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আমরা বলে দিয়েছি তারা যেন ইমামদের মাধ্যমে সব মসজিদ থেকে অন্তত জোহর ও মাগরিব নামাজের পর মাইক বা সামনাসামনি নামাজের সময় সচেতন করেন। প্রত্যেকটি মসজিদ, অন্যান্য বাজার বা গণজমায়েত হয়- এমন স্থানে যাতে স্লোগানের মতো (লেখা) থাকে যে, ‘অনুগ্রহ করে মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করবেন না।’ এটা সবার কাছেই রিকোয়েস্ট থাকবে।” তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হবে। কালকে কমিশনারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাস্ক পরাতে যেভাবে যতটুকু সম্ভব মানুষকে রিকোয়েস্ট, মোটিভেট করে বা ফোর্স যদি করতে হয়, আইন প্রয়োগ যদি করতে হয় আইন প্রয়োগ করব।’

হাসিনা-মোদি ভার্চুয়াল বৈঠক ১৭ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ মোদি ঢাকায় আসতে পারেন। গত রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে আগামী বছরের ২৬ মার্চ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং মোদি আসতে পারেন। এছাড়া আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে ইউএনএইচসিআর-সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে চাপ রয়েছে। তবে রোহিঙ্গারা সেখানে গেলে ভালো থাকবেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা রাখাইনে যেভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন, ভাসানচরে গেলে সেভাবেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। এছাড়া ভাসানচরে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখন কোনো পানি ওঠে না। তাই ভাসানচরে গেলে কোনো সমস্যা হবে না। সেটা একটা সুন্দর জায়গা।
মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও ওয়েবাসাইট বন্ধ করে দিয়েছে- এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, এটা মিয়ানমার সরকারের ব্যাপার। আমাদের কিছু বলার নেই। তবে আমরা খোলামেলা, আমরা তাদের কোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করিনি। ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী গত ৫ অক্টোবর ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত ৮ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি। ঢাকায় যোগ দেয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটাই প্রথম বৈঠক।

দুর্গাপূজায় শেখ হাসিনার উপহার পেলেন মমতা: আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপহারের তালিকায় রয়েছে জামদানি শাড়ি ও সন্দেশ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার সামগ্রী ভারতে পাঠানো হয়। এদিন সন্ধ্যায় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাই কমিশনের উপ হাইকমিশনার তৌফিক হাসান উপহারটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় ‘নবান্ন’তে গিয়ে তাঁর হাতে পৌঁছে দেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান হাবিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ প্রটোকল অফিসার আতাউর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার সামগ্রী বেনাপোলে পাঠানো হয়। সেটা গ্রহণের জন্য পেট্রাপোলে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের প্রথম সচিবের সহকারী আলম হোসেন। দুপুরের দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে উপহার সামগ্রী নিয়ে ওপারে পেট্রাপোল চেকপোস্টে পৌঁছে দেন বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ হাইকমিশনের ( মিনিস্টার, পলিটিক্যাল) বিএম জামাল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো উপহার সামগ্রী সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছে। এরপর সেটা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছে দেন কলকাতা মিশন প্রধান তৌফিক হাসান।
কলকাতা মিশনের উপ হাই কমিশনার তৌফিক হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে জামদানি শাড়ি ও সন্দেশ পাঠিয়েছেন।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com