মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন




ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে প্রস্তুত ৭৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক

খবরপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০




সারা দেশে বৃষ্টি, জলজট, দুর্ভোগ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ আশঙ্কায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের পরিপ্রেক্ষিতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি বিষয়ক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীনের সভাপতিত্বে সভায় ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপকূলীয় জেলাগুলোতে জেলা প্রশাসনের সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় উপকূলীয় জেলাগুলোর আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্তও নেন সংশ্লিষ্টরা। এরই অংশ হিসেবে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কর্মী বাহিনীকে প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করা নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারকে ৪ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও মেঘ মানচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত কিছুদিন ধরে যে ঘূর্ণাবর্তটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল, সেটি ধীরে ধীরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠাছে। এ কারণে দেশের সবক’টি সমুদ্র বন্দরে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
রাত থেকেই বৃষ্টি, জলজট, দুর্ভোগ: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি। তবে মধ্যরাত থেকে বৃষ্টি অঝোরে চলছে। গতকাল শুক্রবার সকালেও তা চলমান। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে নিম্নচাপের প্রভাবে চলমান এই বৃষ্টি থাকতে পারে আরো কয়েকদিন। এদিকে, টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ছুটির দিন থাকলেও ব্যক্তিগত কাজে এক স্থান থেকে অন্যত্র চলাচলকারীরা ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মিরপুর, মতিঝিল, ধানম-ি, কারওয়ান বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় বেশ বেগ পেতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের। এসব এলাকায় কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমেছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং উপকূলকে ৪ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই নিম্নচাপের কারণে এখন বৃষ্টি হচ্ছে।
সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে উপকূলীয় নিম্নচাপ সম্পর্কে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে ২২ থেকে ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত দেশের উপকূল থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি জোয়ার হতে পারে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com