বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন




মিঠা পানির গলদা চাষে সফল কালীগঞ্জের স্বপন কুমার

হুমায়ুন কবির কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) :
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০




জেলায় প্রথম পরীক্ষামূলক চাষ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ করে সফল হয়েছেন স্বপন কুমার বিশ্বাস নামে এক কৃষক। জেলায় প্রথম তিনি পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৮০ শতাংশ জমির ৬৬ শতক জলাকর এলাকায় ৩২ শত রেনু গলদা চিংড়ীর চাষ করেন। সাত মাস পর এখন ৮ থেকে ৯ চিংড়িতে এক কেজি হচ্ছে। এক কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকায়। রোববার ১০ কেজি চিংড়ি সংগ্রহ করে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। সফল এই মাছচাষী স্বপান কুমার বিশ্বাসের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১নং সুন্দরপুর দূর্গাপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামে। এছাড়া সে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। মাছচাষী স্বপনের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহে ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বাগেরহাট থেকে রেনু গলদা চিংড়ি আনা হয়। সাত মাসে মাছের খাবার ও পরিচর্যায় খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। পুকুরে যে চিংড়ি আছে তা তিনশ কেজির উপরে হবে। সে হিসাবে চিংড়ি বিক্রি করা যাবে তিন লক্ষাধিক টাকা। চিংড়ি চাষের ঝুকি সম্পর্কে মাছচাষী স্বপন কুমার জানান, পানিতে এ্যামোনিয়া গ্যাস আর অক্সিজেন ঠিক রাখতে হয়। আর রাতে শিয়ালের উপদ্রব ঠেকাতে পারলে চিংড়ি চাষ লাভজনক করা সম্ভব। সফল এই মাছচাষী স্বপন কুমার এর আগে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ক্ষেত্র সহকারী হিসাবে চাকরি করতেন। এখন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আছেন। ফলে একই উপজেলায় বাড়ি হওয়ায় তিনি সহজেই গ্রামের বাড়িতে গলদা চিংড়ির চাষ করার সুযোগ পেয়েছেন। স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, আমি মৎস অফিসে চাকরী করি। মাছ চাষ সম্পর্কে প্রচুর প্রশিক্ষণ নেওয়া আছে। ফিসারিজের উপর চার বছরের ডিপ্লোমা করা আছে। কিন্তু সরকারী অফিসের দ্বায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাছ চাষের সুযোগ ছিল না। বর্তমানে আমার এলাকায় চাকরী করছি। যে কারনে গ্রামের বাড়িতে একটি পুকুরে গলদা চিংড়ির সাথে দেশীয় অন্যান্য মাছের সমন্বিত মাছ চাষ করার সুযোগ হয়েছে। আমার মাছ চাষ দেখাশোনা করে আমার ছেলে। কালীগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রেজা জানান, ঝিনাইদহের আবহাওয়া এবং পানি গলদা চাষের জন্য উপযুক্ত। এ এলাকার চাষীরা যদি গলদা চাষ শুরু করেন তাহলে জেলার কৃষকরা একদিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, অন্যদিকে দেশীয় মাছের চাহিদা পুরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। স্বপনের চিংড়ি চাষ সম্পর্কে বলেন, কালীগঞ্জ মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারীগরি সহযোগীতা করা হয়েছে। এছাড়া চিংড়ি চাষের প্রতিটি পর্যায়ে সুচারুভাবে দেখভাল করা হয়েছে বলেও যোগ করেন এই সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com