রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন




শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০




মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বাতিল করা হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর এ ভাইরাসের বিস্তার রোধে ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। কয়েক দফায় সেই ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষ ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
প্যাকেজিং জটিলতায় বিঘ্নিত পাঠ্যবই সরবরাহ: বই ছাপানো হলেও প্যাকেট জটিলতার কারণে মাধ্যমিকের একটি বইও পাঠানো সম্ভব হয়নি। অন্যান্য বছর সাধারণ প্যাকেটে বই পাঠানো হলেও এ বছর ‘করোগেটেড’ (ঢেউ তোলা) প্যাকেটে বই পাঠানোর নিয়ম করা হয়। তুলনামূলক দামি এই প্যাকেট ব্যবহারে অনিহা মুদ্রণকারীদের। এতে বইয়ের ছাড়পত্র মেলেনি। যে কারণে ছাপা হওয়া দুই কোটি বই বিভিন্ন প্রেসে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই পাঠানোর ব্যাপারে অবশ্য পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, মাধ্যমিকের একটি বইও পাঠানো সম্ভব হয়নি, মুদ্রণ ও বাঁধাই করে ছাপাখানায় রাখা আছে। অবশ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক দাবি করছেন তারা দুই কোটি বইয়ের ছাড়পত্র দিয়েছেন।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন বলেন, ‘মাধ্যমিক স্তরের দুই কোটি বই মুদ্রণ ও বাঁধাই শেষ হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্যাকেট করে ফেলেছিলেন কিন্তু পরিদর্শনে গিয়ে আমরা দেখি দরপত্রের শর্তানুযায়ী নির্দিষ্ট কাগজের কার্টনে প্যাকেট করা হয়নি। এ কারণে সেগুলো ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। ‘করোগেটেড’ পেপারটি তুলনামূলক দামি, এটি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।’
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাধ্যমিকে চার ধরনের মোট ১১টি বইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলো হল- ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস। এই তিন বিষয়ের আছে মোট আটটি বই। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির আনন্দপাঠ বা দ্রুতপঠন বইগুলো নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। মাধ্যমিকের বইয়ে এবার নতুন সংযোজন হচ্ছে প্রত্যেকটির কভার পেজের ভেতর দুই অংশে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ওপর বাছাইকৃত ৭২টি চিত্র। এছাড়া নবম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই পরিবর্তন করে সহজ পাঠ করা হচ্ছে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, নানা কারণে এ বছর বইয়ের মুদ্রণ কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে মাধ্যমিকের প্রায় আড়াই কোটি এবং প্রাথমিক স্তরের বেশ কিছু বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ থেকে প্রাথমিকের বই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হলেও প্যাকেটিং সমস্যার কারণে মাধ্যমিকের বই পাঠানো শুরু করা যায়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশের সকল জেলায় ৩৫ কোটি পাঠ্যবই পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com