সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এ বছর প্রথমবারের মতো মৌসুমি ফল আনারসের ছোট একটি চালান রফতানি হয়েছে। এই আনারস উৎপাদিত হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়াতে। ফুলবাড়িয়া উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফুলবাড়িয়ার নাওগাঁও, সন্তোষপুর, রাঙ্গামাটিয়া, কৃষ্ণপুর, কালাদহ, পাহাড় অনন্তপুর ও হাতিলেট এলাকায় প্রচুর আনারস চাষ হয়। এখানকার কৃষকরা জলডুবি, হানিকুইন ও ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষ করেন। বিশেষ করে ফুলবাড়িয়ার আনারস চাষিরা লাভজনকভাবে আনারস চাষ করে আসছেন এবং এতে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৬৫০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তাগাছা উপজেলায় ২০ হেক্টর এবং ভালুকায় অল্প পরিমাণে আনারসের আবাদ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের আনারসের সুনাম দেশজুড়ে রয়েছে এবং এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত। তবে বিপণন ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কাক্সিক্ষত লাভ থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে আনারস চাষিদের।
জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে অক্টোবর মাস পর্যন্ত আনারস চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। আনারস যেহেতু দ্বি-বর্ষজীবী ফল, তাই এর ফলন পেতে প্রায় ১৮ মাস থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। চারা লাগানোর পর থেকে ফল পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত দুই দফা ভিটামিন স্প্রে করাসহ ফল পাকার আগে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করেন চাষিরা। দ্রুত ফলন পেতে অনেক চাষি বিভিন্ন হরমোন এবং চকচকে কমলা বর্ণ ধারণের জন্য বিভিন্ন রাইপেন জাতীয় কেমিক্যাল মিশ্রিত স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তবে গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় আনারস বিক্রিতে বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে আনারস চাষিদের। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আনারস বিক্রি করতে হলে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে যায়। এ ছাড়া বৃষ্টিতে সব কৃষকের আনারস একসাথে পেকে যাওয়ায় দাম একেবারেই পড়ে যায়। তখন উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন চাষিরা। তাই তাদের দাবি আনারস সংরক্ষণের জন্য অত্র অঞ্চলে সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করার পাশাপাশি রফতানিমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের।
শালবন সংলগ্ন মুক্তাগাছা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামেও আনারস চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা। মুক্তাগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা পারভীন জানান, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আনারস চাষে সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এজন্য কৃষকদের পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। উপজেলায় বর্তমানে ১৫-২০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হলেও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা আরো বৃদ্ধি করার ব্যাপারে আশাবাদের কথা জানান তিনি।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য লাভজনক কৃষি পণ্য আবাদে কৃষকরা আগ্রহী হওয়ায় আবাদের পরিমাণ কমেছে। আনারসের ফলন বাড়াতে কৃষকদের দিকনির্দেশনাসহ নানা পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে চাষিদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া একটি পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে চলতি মৌসুমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঁচ শ’ পিছ আনারস রফতানি করা হয়েছে। আগামীতে আরো বেশি পরিমাণে অন্যান্য দেশেও রফতানির উদ্যোগ নেয়া হবে।