শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৪২ অপরাহ্ন




যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর কারাবাস: আপিল বিভাগ

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০




যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর কারাদণ্ড। তবে আদালত, ট্রাইব্যুনাল চাইলে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ৩০ বছরের বিধান প্রযোজ্য হবে না। আসামিপক্ষের পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের বিপরীতে রায় ঘোষণায় আপিল বিভাগের রায়টি বহাল রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
ভার্চুয়াল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেনন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আর আসামি পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আইনজীবী শিশির মনির। এর আগে গত ২৪ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।
গত বছরের ১১ জুলাই আপিল বেঞ্চ এ রিভিউ শুনানি শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এ রিভিউ শুনানিতে আইনি মতামত তুলে ধরেন চার অ্যামিকাস কিউরি। তারা হলেন-ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান, মুনসুরুল হক চৌধুরী ও এ এম আমিন উদ্দিন।
একটি হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদ- দিয়ে ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। তাদের মৃত্যুদ- অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি নিয়ে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তারা হলেন আতাউর মৃধা ওরফে আতাউর ও আনোয়ার হোসেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করেন। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদ- কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়। সে সঙ্গে আদালত যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস বলে সাত দফা অভিমত দেন। তবে আপিল বিভাগের দেওয়া এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে আসামি আতাউর মৃধা।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে সাভারের একজন ব্যবসায়ী জামান হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে আপিল বিভাগ বলেছিলো যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর নয়, আমৃত্যু কারাবাস। কিন্তু পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে এ বিষয়ক একটি রিভিউ আবেদন হয় এবং ওই আবেদনের চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ আজ বলেছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে ৩০ বছরের কারাদণ্ড।
রিভিউ আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, “আপিল বিভাগ শর্ট অর্ডারে বলেছেন বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী যাবজ্জীবন সাজার অর্থ হবে ৩০ বছর কারাদণ্ড। তবে কোনো নির্দিষ্ট আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি কোনো ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাগারের আদেশ দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির জন্য কোনো রেয়াত বা বেনিফিট প্রযোজ্য হবে না। তাকে আমৃত্যুই কারাগারে থাকতে হবে। তবে সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ হবে ৩০ বছর”। তিনি বলেন, আইনজীবী ও আইনজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিলো তার প্রাথমিক সমাধান হলো যে ৩০ বছর ধরেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়টি হিসেব করতে হবে। তবে আমৃত্যু কারাগারের বিষয়টি কারাগারে কিভাবে মেনটেইন করা হবে তা নিয়ে পরে সরকারের দিক থেকে নির্দেশনা আসতে পারে, বলছিলেন তিনি। মূলত ২০১৭ সালের আপিল বিভাগ জামান হত্যা মামলার আসামিদের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে আমৃত্যু কারাবাসের কথা বলার পর আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কারণ এর আগে সরকারেরই একটি সার্কুলারে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত বলে বলা হয়েছিলো। এসব নিয়ে বিভ্রান্তির জের ধরেই ব্যবসায়ী জামান হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আইনজীবীরা ২০১৭ সালের নভেম্বরে রিভিউ আবেদন করেছিলেন। ২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার দায়ে ২০০৩ সালে ঢাকার একটি আদালত কামরুল, আতাউর ও আনোয়ার নামের তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো। এর বিরুদ্ধে আতাউর ও আনোয়ার হাইকোর্টে আপিল করেছিলো। পরে তাদের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০০৭ সালে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল করেন আসামী পক্ষ। সে আপিলের ওপার শুনানি শেষ মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে আপিল বিভাগ বলেছিলো যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com