রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংবাদিকদের সম্মানে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ইফতার মাহফিল ডিএসসিসিতে ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ শক্তিশালী প্লেয়ারদের সঙ্গে সমঝোতা করলে খুব আরামে থাকা যেতো: আসিফ মাহমুদ কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বদনাম করা বড় পাপ : মির্জা আব্বাস ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের এক দলের জায়গায় আরেক দল বসেছে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি: নাহিদ সংসদের নেতিবাচক সংস্কৃতি মুছে ফেলতে চায় বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম না পেয়ে মাথায় হাত চাষিদের ‘ভাগ্য পরিবর্তনে’ হোটেল পরিবর্তন করলো ভারতীয় দল

গাজায় যুদ্ধ হচ্ছে না, চলছে গণহত্যা

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান গাজায় গণহত্যা চালানোর জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, সেখানে যুদ্ধ নয় বরং গণহত্যা চালানো হচ্ছে। তিনি যুদ্ধ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে গাজায় ৭০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে গণহত্যা চলছে। গত ২৩ মাস ধরে ইসরাইল প্রতি ঘণ্টায় একটি শিশুকে হত্যা করেছে। এগুলো শুধু সংখ্যা নয়, প্রতিটি একটি জীবন, একটি নিদোর্ষ মানুষ।’
তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসে এমন মানবিক বিপর্যয় আর হয়নি। দুই বা তিন বছরের শিশুকে অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই অঙ্গচ্ছেদ করতে হচ্ছে। বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এটি মানবতার সর্বনি¤œ পর্যায়। গাজায় কোনো যুদ্ধ নেই, এখানে কোনো পক্ষ নেই। এটি আগ্রাসন, গণহত্যা এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের নীতি।’
তুর্কি প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি অন্যদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে উপস্থিত না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তুরস্ক ‘ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে কথা বলে, যাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে’।
এরদোগান গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, নিরবচ্ছিন্ন মানবিক প্রবেশাধিকার এবং ইসরাইলের ‘গণহত্যাকারী চক্রকে’ জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিমতীর ছাড়াও সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন, লেবানন ও কাতারে তার আগ্রাসন সম্প্রসারণ করছে ইসরাইল। যা বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
জাপানের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়াকে সময়ের ব্যাপার বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘে (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের জন্য প্রশ্নটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কি-না তা নয়, বরং প্রশ্নটি হলো কখন।’
জাতিসঙ্ঘের প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। গাজায় প্রায় দুই বছরের যুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচারে হামলা এবং নারী ও শিশুসহ ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যুর পর দেশটিকে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার এই তালিকায় চলতি সপ্তাহে ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাম যুক্ত করেছে।
শিগেরু ইশিবা বলেন, ‘ইসরাইলি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকেই স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলে মনে হচ্ছে।’
ইসরাইল সরকারের অব্যাহত একতরফা পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য, প্রশ্নটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কি-না তা নয়, বরং প্রশ্নটি হল তা কখন। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে যদি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে এমন আরো পদক্ষেপ নেয়া হয়, তাহলে জাপান এর জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’ ইশিবা বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিলিস্তিনের টেকসইভাবে টিকে থাকতে পারা এবং ইসরাইলের সাথে পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করতে পারা।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে তার ভূমিকা গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ফিলিস্তিনি পক্ষকে অবশ্যই এমন একটি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।’
নেতানিয়াহুর গাজা ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্ববিবেককে কাঁদাচ্ছে
গাজা যখন দখল করে নিচ্ছে ইসরাইলের নৃশংস আগ্রাসন, তখন হামাসকে উল্টো আলটিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আসকারা পেয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজাবাসীকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি গাজাবাসীকে বলেছেন, ‘এখনই চলে যাও।’ একটি দেশ বিশ্ববাসীর চোখের ভিতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে যখন প্রকাশ্যে এই দখলদারিত্ব চালাচ্ছে তখন দৃশ্যত নীরব বসে আছে মুসলিম নামধারী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি। তাদের কর্মকা- প্রশ্নবিদ্ধ করে। ইসরাইলের এসব কর্মকা-ের বিরুদ্ধে বৃটেন, ফ্রান্স সহ বেশ কিছু দেশ পদক্ষেপ নিলেও মুসলিম বিশ্ব সেখানে অনুপস্থিত। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ইসরাইলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে গণহারে হত্যার এবং জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করার জন্য অভিযোগ করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সোমবার বলেন, ইসরাইল ‘অপরাধের পর অপরাধ’ করে চলেছে। আর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা ‘বিশ্বের বিবেককে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি করার মতো মামলা রয়েছে। জানুয়ারিতে আদালতের রায় অনুযায়ী তেলআবিবকে গণহত্যা রোধে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। ভলকার তুর্কের এই গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরাইলি বাহিনী গাজার সবচেয়ে বড় নগরী গাজা সিটিকে ধ্বংস করে দিয়ে নগরীটিতে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানায়, রবিবার সকাল থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৫০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। ১০০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারদের শিবিরের পাশের আবাসিক ভবনগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দুই শতাধিক তাঁবু ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি জানান, তুফফাহ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধার করা হচ্ছে। আজ-জারকা জেলায় ভবনগুলো বোমায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মসজিদ ও খেলার মাঠও হামলার শিকার। আল জাজিরার গাজার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন- একটির পর একটি সুউচ্চ টাওয়ার ভেঙে পড়তে দেখা হৃদয়বিদারক। শুধু ভবনই নয়, এগুলোর সঙ্গে জড়িত জরুরি সেবাও ধ্বংস হচ্ছে, যা মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য, বিশেষত প্রায় দুই বছরের যুদ্ধে টিকে থাকার পর। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুধু সোমবারই কমপক্ষে ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২ জন নিহত হয়েছেন গাজা সিটিতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও ছয়জন মারা গেছেনক্ষুধা ও মারাত্মক অপুষ্টিতে। এর মধ্যে দু’জন শিশু। সোমবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ওসামা বালুশাও ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২৫০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তারা সবাই ফিলিস্তিনি। কারণ ইসরাইল বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় ঢুকতে দেয় না। এটি আধুনিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় একটি ট্যাঙ্কের নিচে রোডসাইড বোমা বিস্ফোরিত হলে তাদের চার সেনাও নিহত হয়েছে। সোমবার ইসরাইল নতুন উচ্ছেদ হুমকি দেয়। মানচিত্র প্রকাশ করে বলে, গাজার জামাল আবদেল নাসের স্ট্রিটের একটি ভবন ও পাশের তাঁবুগুলো খালি না করলে মৃত্যু নিশ্চিত হবে। বাসিন্দাদের তথাকথিত ‘মানবিক এলাকা’ আল-মাওয়াসিতে যেতে বলা হয়। কিন্তু আল-মাওয়াসি নিজেই বহুবার বোমা হামলার শিকার হয়েছে। বছরের শুরুতে এখানে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ অবস্থান করতো। এখন মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, সেখানে ৮ লাখেরও বেশি মানুষ ঠাসাঠাসি করে অস্থায়ী ক্যাম্পে বাস করছে। গাজার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তারা। রয়টার্স, আল-জাজিরা।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com