বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পিকআপ থেকে ব্যবসায়ীদের ফেলে দিতো ওরা  করোনার করাল গ্রাসে নিম্ন আয়ের মানুষ টাইম স্কেলের মামলা ৩ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান : প্রধানমন্ত্রী সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান গরিবদের আগে করোনা ভ্যাকসিন দিয়ে সরকার দেখবে মানুষ বাঁচে না মরে: রুহুল কবির রিজভী আগ্রহী হলে বিএনপিকে যেন আগে ভ্যাকসিন দেয়া হয় : তথ্যমন্ত্রী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে দুর্ব্যবহার : কুষ্টিয়ার এসপিকে হাইকোর্টে তলব আসাদের স্মৃতিস্তম্ভে ছাত্রদলের শ্রদ্ধা কড়াইল বস্তিবাসীর পাশে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিন




পদ্মায় ফেরি ডুবি: চালকের বুদ্ধিতে রক্ষা পেলো ৪ শতাধিক যাত্রী

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০




ফেরি রাণীগঞ্জ পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার পর অর্ধ নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। “ফেরির তলা ফেটে যাওয়ার পর বুঝলাম হাতে সময় কম। যেকোনো সময় ডুবে যাইতে পারে। পরে তাড়াতাড়ি করে ঘাটে সব যাত্রীবাহী গাড়ি আনলোড করি। কাউকে কিছু বুঝতে দেই নাই।” পদ্মা নদীতে একটি দুর্ঘটনা কবলিত ফেরি ঘাটে এসে ডুবে যাবার আগে কীভাবে সাহসিকতার সাথে ফেরিটিতে থাকা ১৯টি যানবাহন ও ৪০০ যাত্রীকে রক্ষা করেছেন, বিবিসিকে সেই কথা জানালেন চালক মো. ফজলুল করিম।

রাণীগঞ্জ নামের এই ফেরিটি একটি ডাম্ব ফেরি। অর্থাৎ এই ফেরিনৌকার নিজস্ব এঞ্জিন নেই, যানবাহন ওঠানোর পর অন্য একটি শক্তিশালী জাহাজ ফেরিটিকে ঠেলে নিয়ে যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে এই মডেলের ফেরিগুলোর প্রচলন হয়। যার কিছু এখনো পদ্মা নদীতে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের মধ্যে চলাচল করে। রাণীগঞ্জ ফেরিটির বয়স অন্তত ষাট বছর হবে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় সংবাদদাতারা। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফেরিটি ৭টি ট্রাক, ৫টি যাত্রীবোঝাই বাস ও ৭টি ছোট গাড়ি নিয়ে মাওয়ার শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যায় ফেরিটি। পাশেই চলছে পদ্মা সেতু নির্মানের কাজ। ফেরিটিতে যাত্রী ও কর্মীসহ চার শতাধিক মানুষ ছিল। রাত এগারোটার দিকে পদ্মা সেতু সংলগ্ন হাজরা চ্যানেলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেতু স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপের সাথে প্রবল বেগে ধাক্কা খায় ফেরিটি। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে ফজলুল করিম দেখতে পান ফেরির তলা ফেটে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। প্রাথমিকভাবে সাব মার্সিবল পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বুঝতে পারেন হাতে সময় কম। যেকোনো সময় ফেরি ডুবে যেতে পারে। এমন অবস্থায় ফেরির কর্মচারীদেরকে তিনি দায়িত্ব দেন বালি, কম্বল যা কিছু আছে সেগুলো দিয়ে যতোটা সম্ভব পানি প্রবেশ ঠেকাতে। এরপর তিনি দ্রুত গতিতে ঘাটের দিকে রওনা হন। তখনও ঘন কুয়াশা না পড়ায় ২০ মিনিটের মধ্যে বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছে যায় ফেরিটি ততোক্ষণে ফেরির ওপরে পানি উঠতে শুরু করেছে বলে জানান মি. করিম।
কিন্তু তিনি কোন যাত্রীকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। একে একে সব গাড়ি আনলোড করার পর তিনি ঘাটের উল্টো পাশেই ফেরিটি নোঙর করেন।ফেরির কর্মী ও পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মধ্যরাতে সম্পূর্ণ ফেরিটির নব্বই শতাংশ ডুবে যায়। “আমার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম। আমার মাথাতে এটাই ছিল যে ঘাবড়ানো যাবে না। আমি ধৈর্য হারাই নাই আর জাহাজের কোন যাত্রীকে বুঝতে দেই নাই যে এই ঘটনা ঘটেছে। কেউ বুঝেও নাই, কতো বড় বিপদ থেকে আল্লাহয় আমাদেরে বাঁচাইছে।” বিবিসিকে বলছিলেন ফজলুল করিম।
ফেরিটি এখনো নদীর কিনারে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় আছে। ফেরিটি তুলে আনার জন্য ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক কাজ করছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন মি. করিম। সূত্র: বিবিসি বাংলা।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com