শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
তারেক রহমান দেশে ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বর বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ পাহাড়ি জনপদ কাশেম নগরের রহস্যঘেরা বাংলোবাড়ি এখন থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারিতে গজারিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় শীতবস্ত্র বিতরণ বগুড়া সদরে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ রায়পুরে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশের পোশাক ছিঁড়ে মারধর আহত দুই শেরপুরে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে আন্তঃদলীয় সম্প্রীতি সংলাপ সভাপতি মিজান, সাধারণ সম্পাদক মন্টু ফুলবাড়ীতে ৪টি ইটভাটায় অভিযানে ৬ লাখ টাকা জরিমানা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুফিবাদী উদারধারার মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে হবে লালমোহনে নবনির্মিত সড়কের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

সুনামগঞ্জ সদর আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার আবিদকে চান সকল ভোটাররা

আল হেলাল সুনামগঞ্জ
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের সর্ববৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সারাদেশে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে বেশ কিছু আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা ও ৬৩টি আসন শুন্য রাখার মধ্যে দিয়ে দলটির ডিপ্লোম্যাসি পরিলক্ষিত হওয়ায় সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলায় বুকভরা আশা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আধিপত্য বিস্তার বহাল রেখেছেন জেলা জাতীয়তাবাদী দলের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবিদুল হক আবিদ। আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিশ বহু আগে থেকেই বিএনপির সাথে সখ্যতা রেখে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ ৩ নির্বাচনী এলাকা জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কয়ছর এম আহমদের জাায়গায় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করতে পারেন সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী। অন্যদিকে শুন্য থাকা সুনামগঞ্জ ২ নির্বাচনী এলাকা দিরাই-শাল্লা আসনে ভাগ বসাতে পারেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মাওলানা শুয়াইব আহমদ। সুনামগঞ্জ জেলায় বরাবরই জমিয়তুল উলামায়ে ইসলামের শক্তিশালী সাংগঠনিক মজবুত ভিত্তি থাকে। প্রতিটি নির্বাচনে অন্যান্য দলের বিজয়ী প্রার্থীদের জয়লাভেও এই দলটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থানের পরেই সারা জেলা জুড়ে জমিয়তের শক্ত অবস্থান। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থীরা জেলাজুড়ে প্রচারণা চালান। বড় বড় জোটের প্রার্থীদের কাছে অনেক সময় ছাড় দিলেও কখনও মাঠ ছাড়েননি জমিয়তের ধর্মপ্রাণ নেতারা। এছাড়া সাংগঠনিক শক্তিশালী ভিত্তির কারণে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সুনামগঞ্জ জেলাকে সবসময় প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের দাপট প্রভাব না থাকায় জেলার ৫টি আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দিন দিন বিদ্রোহী প্রার্থীদের আগাম সম্ভাবনা যেমন দেখা দিয়েছে তেমনি জমিয়তুল উলামায়ে ইসলামের একক প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় আলাদা গ্রহনযোগ্যতা গড়ে উঠেছে। জেলা জমিয়ত নেতারা জোটের কাছে সুনামগঞ্জ জেলায় ২টি আসন দাবী করলেও সুনামগঞ্জ সদর আসনটিকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা। জমিয়ত ও খেলাফত মজলিশের নেতাকর্মীরা বলেন,সুনামগঞ্জ সদর আসনে একাধারে ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া। ১/১১ এর সময় দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকলেও ফজলুল হক আছপিয়া দলের কঠিন দু:সময়ে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থেকেছেন। এসময় তাকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সততা ও বিশ্বস্থতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির শাসনামলে তিনি সদর আসনে ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। তাই তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারীকে বিএনপির মনোনয়ন দিলে দল ও জোটের নেতাকর্মীরা একবাক্যে ব্যারিস্টার আবিদকে সমর্থন দেবে। কিন্তু অন্যকোন প্রার্থী বিএনপির মনোনয়ন পেলে মাঠপর্যায়ে দল ও জোটের প্রার্থীদের সমর্থন লাভ করাটা দু:সাধ্য হয়ে পড়বে। ব্যারিস্টার আবিদুল হক একাধারে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি,ঢাকা বার এসোসিয়েশন ও সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নিয়মিত সদস্য। প্রখ্যাত সিনিয়র আইনজীবী,সংবিধান ও কোম্পানী আইন বিশেষজ্ঞ ড. এম. জহির সাহেবের তত্ত্বাবধানে তিনি সুনামের সাথে আইন পেশা শুরু করেন। ব্যারিস্টার আবিদ বলেন,আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম। পরবর্তীতে লন্ডনে “ল” গ্রাজ্যুয়েশনের সময়ে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ইউকের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি ও বিদেশে বিগত আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছি। দেশে ফিরে ২০১৩ সাল থেকে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হই। আমি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বিগত কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দলের জন্য একনিষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার সুবাধে গত ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের সবকটি আন্দোলনে আমি সর্বদা সরব ও সোচ্চার ছিলাম। বিগত ২০১৭ সালে দলীয় কর্মসুচি চলাকালীন সময়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী আমাকে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আইনী লড়াইয়ে আমি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমি নিজেকে শুধু রাজপথেই সীমাবদ্ধ না রেখে আদালত প্রাঙ্গনে সুনামগঞ্জবাসী তথা দেশের আনাচে কানাচে নির্যাতিত,নি:গৃহিত ও কারাগারে আটক থাকা বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আইনী সহযোগীতা প্রদানে ছিলাম অগ্রজ। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আমি সুনামগঞ্জ সদর,বিশ্বম্ভরপুর,জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মীদেরকে বিনা পয়সায় আইনী সহযোগীতা দিয়ে জেল থেকে বের করতে আইনী ভূমিকা রাখি। আমার তখনকার সময়ের রাজনৈতিক তৎপরতা ও মামলা নিয়ে বাংলাদেশের বিখ্যাত দৈনিক ডেইলি স্টার ও ৭১ টিভিতে টকশোতে আলোচিত হয়। সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকার গণমানুষের সাথে রয়েছে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমি সর্বদা জনবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। আমি ১৯৯৬ সালে থেকে অদ্যাবধি নীরবে নিভৃতে এই আসনের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছি। সবসময় জনগনের সুখে দু:খে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বিগত ২০২২ সালের বন্যায় আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী ত্রাণ বিতরন করেছি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এ সম্পর্কে তৎকালীন সময়ে স্থানীয় পত্র পত্রিকায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা হয়। নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা বলেন,বিগত আন্দোলন সংগ্রামের দিনে আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে রাজনীতি করেছেন অনেকেই। এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে সহজেই এমপি পদ ভাগিয়ে নিতে চান। কিন্তু আমরা সৎ,যোগ্য,নিবেদিত ও পরীক্ষিত নেতাকে। সুনামগঞ্জ জেলার সকল প্রার্থীদের মধ্যে ব্যারিস্টার আবিদুল হক আবিদ এমন একজন প্রার্থী যাকে নিয়ে সারাদেশে গৌরব ও অহংকার করা যায়। বিশেষ করে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের একজন নেতাও বানভাসী মানুষের পাশে দাড়াননি। এসময় সারা সুনামগঞ্জ জেলায় একজন নেতাই বন্যাদূর্গত এলাকায় সাধ্যমতো বানভাসী মানুষদের ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। আর তিনি হচ্ছেন ব্যারিস্টার আবিদ। তাই আমাদের বক্তব্য একটাই দুর্যোগে,দূর্বিপাকে হাতের কাছে যাকে পাই তিনি হচ্ছেন ব্যারিস্টার আবিদ ভাই। সুনামগঞ্জ সদর আসনে প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক প্রয়াত বিএনপি নেতা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মরহুম ফজলুল হক আছপিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাঁর সুযোগ্য পুত্র ব্যারিস্টার মোঃ আবিদুল হককে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের জন্য বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া,সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান ও মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃণমূল পর্যায়ের সকল বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com