কক্সবাজারের চকরিয়া মানিকপুরের ৩টি ও সংলগ্ন লামায় ফাইতং ইউনিয়নের ৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তা জমির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালতের একটি টিম। টিমটি মানিকপুরের গিয়াস উদ্দিেেন মালিকানাধীন ৩টি ইটভাটার চিমনি ভেঙে দিয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেন চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. জমির উদ্দিন ও ঢাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম। সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানিক দল সকালবেলা ৩টি ইটভাটা উচ্ছেদের শেষে দুপুর ১২ টার পর পাহাড়ি সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন, উদ্দেশ্য ফাইতংয়ের আরো ৫ টি ইটভাটা উচ্ছেদ। দেখা যায়, পাহাড়ী সড়ক পথে ঢুকার মুখেই সড়ক দখল করে কাফনের কাপড় পরে মানববন্ধনের ব্যানার টাঙ্গিয়ে শুয়ে পড়েছেন একদল ইটভাটা মালিক ও শ্রমিক। এ অবস্থায় দুপুর থেকে আটকে মুখোমুখি হন প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিক। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানিক দলে আরো আছেন, লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ, বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল সালাম, আবদুল লতিফ জনি, পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিনসহ সেনাবাহিনী, র্যাব, ফাইতং পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারের চকরিয়া মানিকপুর এলাকায় মো. গিয়াস উদ্দিনের মালিকানাধীন তিনটি ইটভাটা অগই-১, অগই-২ ও অগই-৩ অবৈধভাবে পরিচালিত হওয়ায় এস্কেভেটর ব্যবহার করে ভাঙচুর করা হয়। ভাটা মালিক পরিবেশ বান্ধব যুক্তি দেখালেও ভাটাগুলো পরিবেশ আইন লঙ্ঘন, সরকারি জমি দখল ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত বলে জানান অভিযানিক দল। ভাটা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও পথসভা করেন মালিক শ্রমিক। ইটভাটা মালিকদের অন্যতম সমন্বয়কারী ইরফানুল হক ও এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা চকরিয়া পেকুয়ার সংসদ সদস্য প্রার্থী এবি ওয়াহেদ অভিযানানিক দলের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে দাবী করেন ‘ইটভাটা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে হাজারো শ্রমিকের পরিবার পথে বসবে। দেশের উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে তাই ভাটা চালু রাখার জন্য আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। একই সাথে আলোচনার জন্য ৩ দিন সময় প্রার্থনা করেন অভিযানিক দলের কাছে। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পরিবেশ অধিদপ্তরের দলকে ফাইতং এলাকায় অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ স্থগিত করে সন্ধ্যা ৪’৪৫ টায় পিছু হটতে দেখা যায়। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, চকরিয়ার মানিকপুর এলাকার তিন ইটভাটা ভাঙা হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, ‘অবৈধ ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী কোনো ইটভাটা রেহাই পাবে না। জনস্বার্থে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রশাসন বলছে, পরিবেশ আইনের প্রয়োগ ও অবৈধ দখল রোধে নিয়মিত অভিযান চলবে। এই বলে চকরিয়া হয়ে লামা উপজেলা অভিমুখে রওয়ানা দেন। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন ধরনের মামলা করেছেন কিনা জানার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম ও লামা উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুবায়েত আহমেদকে ফোন দিয়ে রিসিভ না করায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা করেছেন কিনা নিশ্চিত হওয়া যায় নি।