সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ জসিম উদ্দিনের উদ্যােগে এবার চট্টগ্রামের রাউজানে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার আরও দুটি আরসিসি সড়ক ঢালাই কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সড়ক দুটি হলো নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট থেকে দক্ষিণ নোয়াপাড়া এবং পূর্ব কচুখাইন থেকে পশ্চিম কচুখাইন পর্যন্ত। এলাকাবাসি সড়ক দুটির নাম করণ করেছেন আলহাজ জসিম উদ্দিন সড়ক ৬ এবং ৭। ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় নোয়াপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ নোয়াপাড়া গ্রামের স্থানীয় সুলতান আহমদ চৌধুরী জামে মসজিদ এলাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে এ কাজের উদ্বোধন করেন সমাজ ও জনকল্যাণ মূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলহাজ জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের মেঝ ভাই আলহাজ মোহাম্মদ মোক্তার আহমদ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মাস্টার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক আহমদুল হক, আলহাজ মুহাম্মদ ইয়াছিন, ফারুকে আজম, সমাজসেবক খসরুল আমিন চৌধুরী, প্রকৌশলী নুর আম্বিয়া, সাংবাদিক এস এম ইউসুফ উদ্দিন, ইউপি সদস্য মাসুদ পারভেজ। এতে দোয়া ও মোনাজাত করেন কচুখাইন মুহাম্মীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাওলানা নঈমুদ্দিন আল হোসাইনি। দক্ষিণ নোয়াপাড়া গ্রামবাসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবক মান্নান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, ইন্জিনিয়ার শাহজাহান আলী, জানে আলম, নূরউদ্দিন রওশন, ডাঃ এয়াকুব আলী, ডাঃ শফিকুর রহমান, মুহাম্মদ ইলিয়াছ মাষ্টার, জহির উদ্দিন, আবদুল আজিজ, জাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শওকত, মুহাম্মদ সাকিব, মুহাম্মদ ইফতি প্রমুখ। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়ক দুটি উন্নয়নের সম্পূর্ণ খরচের অর্থায়ণ করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৬ বার সেরা রেমিটেন্স প্রেরণকারী হিসেবে পুরস্কার পাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ব্যবসায়ী নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সামমাহালদার পাড়ার স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলহাজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আলহাজ মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এই ব্যবসায়ীর উদ্যােগে ঢালাই করা সড়ক দুটি নোয়াপাড়া চৌধুরীহাট বাজার থেকে দক্ষিণ নোয়াপাড়া শাপলা সংঘ ক্লাব পর্যন্ত। অপরটি পূর্ব কচুখাইন থেকে ও পশ্চিম কচুখাইন পর্যন্ত সংযুক্ত। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় যানবাহন চলাচল অনুপযোগী ও অবহেলিত ছিলো সড়ক দুটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, দুই দশকের বেশী সময় ধরে সড়কট দুটি সরকারীভাবে সংস্কার কাজ না করায় স্থানে স্থানে খাদ হয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মানুষ চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। একারণে গ্রামবাসির আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই সড়ক দুটি দীর্ঘস্থায়ী টেকসই সড়ক করার উদ্যোগ নেন প্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। আলহাজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন সূত্রে জানাগেছে, সড়ক দুটি পাশে ১৪ থেকে ১৬ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। দুটি সড়কের দৈর্ঘ সাড়ে তিন কিলোমিটার। দুটি সড়কে ব্যয় হচ্ছে ৩০ কোটি টাকা। উন্নতমানের লোহা, বিদেশী পাথর ও সিলেটের বালু দিয়ে করা হচ্ছে সড়কগুলোর টেকসই মানের কাজ। যা যুগ যুগ ধরে অক্ষত থাকবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই সড়ক ঢালাই কাজ শেষ করা হবে। পাশাপাশি সড়কের দুপাশে লাগানো হবে উন্নতমানের সৌরবিদ্যুৎ চালিত সােলাট সড়ক বাতি। একেকটা বাতিতে ব্যয় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। একেকটি সড়কে লাগানো হবে শতাধিক বাতি। এছাড়াও প্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ জসিম উদ্দিনের উদ্যােগে শুধুমাত্র নোয়াপাড়া ইউনিয়নেই শতকোটি টাকায় আরও ৮ টি প্রধান প্রধান সড়ক পূর্ণনির্মাণ করার কাজ চলমান রয়েছে। সড়কগুলো হলো নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কাপ্তাই সড়কের ইউনুছ ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে কচুখাইন এলাকা, পথেরহাট বাজার থেকে চৌধুরীহাট, চৌধুরীহাট থেকে ঘাটকুল সড়ক, কাপ্তাই সড়কের শীল পাড়া থেকে তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়ক, শেখ পাড়া সড়ক এবং চৌধুরীহাট থেকে দক্ষিণ নোয়াপাড়া সড়ক ও পূর্ব কচুখাইন থেকে মিয়া আলী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক। এসব সড়ক গুলো গ্রামবাসি আবেদন করে নাম করণ করেছেন প্রবাসী ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নামে। বিপুল ব্যয়ে উন্নতমানের টেকসই সড়ক করায় গ্রামবাসি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তাঁর নামে সড়ক উৎসর্গ করেন।