রাজিবুল ইসলাম নামে কথিত এক ঠিকাদারের ‘ডাহা মিথ্যা’ মামলায় দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত রবিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ইতোপূর্বে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা ও উপসচিব (প্রশাসন) গোলজার রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয় দৈনিক নওরোজ-এ। তারা এসব সংবাদের কোন প্রতিবাদও পাঠাননি। এমনকি তাদের কাছে বক্তব্য জানতে চাইলেও কোন কথা বলেননি।
তাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার উদ্দেশ্যেই আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা ‘মিথ্যা মামলা করিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি’ করেন। এই কথিত চাঁদাবাজি মামলার আসামি নওরোজ পত্রিকার সম্পাদক শামসুল হক দুররানী জামিন নিতে আদালতে হাজির হন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি আদালতে যান। জামিন নামঞ্জুর হলে আদালতে তিনি বলেন, লিয়াকত আলী মোল্লা চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা জজ থাকাকালে হেরোইনের বিভিন্ন মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। ফলে বদলি হতে হয় তাঁকে। এর প্রতিক্রিয়ায় লিয়াকত আলী ও উপসচিব (প্রশাসন) গোলজার রহমান আমার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ করিয়েছেন। গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন শামসুল হক দুররানী। তার পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান সম্পাদকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ১২ নভেম্বর রাজিবুল ইসলাম নামের কথিত এক ঠিকাদার শামসুল হক দুররানীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জামালপুরের মেলান্দহ থানার উপজেলা বীজ অফিসে রাজিবুল ইসলামের ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩২ টাকার একটি কাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কাজের সাইটে অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। গত ৭ নভেম্বর রাজিবুল ইসলামকে এক ব্যক্তি ফোন করে সাভার বাসস্ট্যান্ডে দেখা করতে বলেন। জামালপুরে সাইটের কাজে যে ঝামেলা চলছে, তা সমাধান করে দেবেন বলে জানান তিনি। রাজিবুল ইসলাম সেখানে গেলে ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, জামালপুরের সাইটের কাজ ঠিকঠাকভাবে করতে হলে শামসুল হক দুররানীকে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা জজ থাকাকালে হেরোইনের বিভিন্ন মামলা, এমনকি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের মামলায় আসামিদের জামিন দেন। আমি তার বিরুদ্ধে নিউজ করি। এ কারণে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বদলি করা হয়। লিয়াকত আলী ও উপসচিব (প্রশাসন) গোলজার রহমান এজন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার ব্যবস্থা করেছেন।’
এ সময় আইন সচিবের দিকে ইঙ্গিত করে নওরোজ সম্পাদক বলেন, ‘বিচারকেরা অন্যায় করলে কি নিউজ করা যাবে না? কিছু লেখা যাবে না?’
আইন সচিবই মামলা করিয়েছেন কীভাবে বুঝলেন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুররানী বলেন, ‘এটা পুলিশ আমাকে বলেছে। তার নাম আমি বলব না।’
কথিত এই মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার পক্ষে কোন আইনজীবীও ছিলেন না। তাই স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়, উপরের নির্দেশে এই মামলা হয়েছে। জামিনও নাকচ হয়েছে।
একদা এক ব্যক্তি এ রকম মিথ্যা মামলায় আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ আমি চোর বটে”।