চলতি বছরের বেশকিছু ঘটনাপ্রবাহ আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালেও বিশ্ববাসীর নজর কাড়বে বলে মনে করে বিশ্লেষকরা। বিশ্ব রাজনীতি থেকে খেলাধুলা, জলবায়ু সংকট ও মহাকাশ অভিযানের মতো ঘটনাগুলো থাকবে এর মূলকেন্দ্র। চাঁদ ঘুরে আসার মানব মিশন থেকে শুরু করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণের লড়াই- সব মিলিয়ে আগামী বছরটি হবে বেশ ঘটনাবহুল। নিচে ২০২৬ সালের পাঁচটি বড় বিষয় তুলে ধরা হলো।
জলবায়ু সংকট: বিশ্ব কি এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?
বিশ্ব ইতোমধ্যেই রেকর্ড তাপমাত্রার মুখে পড়েছে এবং ২০২৬ সালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৯ সালের মধ্যে অন্তত একটি বছর আরও বেশি উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বহুপাক্ষিক জলবায়ু কূটনীতি যে পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, তার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে জলবায়ু কর্মীরা
বলছেন, ২০২৬ সালেই আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিকে নতুন করে ভাবতে হবে। এপ্রিলে কলম্বিয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানি ধীরে ধীরে বন্ধের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কতটি দেশ সাড়া দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ
২০২৬ সালের জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। ৪৮টি দেশ অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। যা চলবে প্রায় ছয় সপ্তাহ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসন ও বাণিজ্য ইস্যুতে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন বিশ্বকাপকে রাজনৈতিকভাবেও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে। মাঠের লড়াইয়ে ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনার পাশাপাশি নজর থাকবে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। যিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। কেপ ভার্দে, উজবেকিস্তান ও কুরাসাওয়ের মতো দেশগুলো প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলবে।
গাজা, ইসরাইল ও নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তা অত্যন্ত ভঙ্গুর। গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, পুনর্গঠন এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার- সবকিছুই অনিশ্চিত। ৭৬ বছর বয়সী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৬ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হতে চান। তবে তার জোট সরকার দুর্বল এবং গাজা যুদ্ধ শুরুর পেছনের ব্যর্থতা নিয়ে দেশটির ভেতরে তার বিরুদ্ধে প্রবল অসন্তোষ রয়েছে। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু নতুন করে সামরিক পথ বেছে নেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কার নিয়ন্ত্রণে যাবে?
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র লড়াই হবে। যদিও ডনাল্ড ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন, তবে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান তার রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে আরও মজবুত করবে। বর্তমানে হাউস ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ফলাফল নির্ধারণী হতে পারে। ডেমোক্রেটরা আশা করছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঐতিহাসিক ধারা অনুযায়ী তারা আসন পুনরুদ্ধার করতে পারবে। কংগ্রেসের একটি কক্ষও যদি ডেমোক্রেটদের হাতে যায়, তবে ট্রাম্পের নীতিগত অগ্রগতি বড় বাধার মুখে পড়বে।
চাঁদের পথে মানুষ
২০২৬ সালে আবারও মানুষকে চাঁদের দিকে পাঠানোর পথে বড় অগ্রগতি হতে পারে। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের আওতায় নভোচারীদের নিয়ে চাঁদ প্রদক্ষিণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা এপ্রিলের মধ্যেই উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে। চীনও পিছিয়ে নেই। ২০২৬ সালে তারা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অনুসন্ধানের জন্য চ্যাংই-৭ মিশন পাঠাতে চায় এবং মানববাহী মহাকাশযানের পরীক্ষা চালাবে। ভারতও মহাকাশ অভিযানে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। ২০২৭ সালে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৬ সাল প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে চলেছে। সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি