বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের গৌরবময় পথচলায় যুক্ত হলো আরও একটি নতুন দিন। অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম প্রাতঃসমাবেশ (এসেম্বলি) কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ জানুয়ারি, প্রাতঃসমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, ত্রিপিটক থেকে পাঠ, গীতা পাঠ এবং বাইবেল থেকে পাঠের মাধ্যমে সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি প্রদর্শন করে সমাবেশের কাজ শুরু হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং কলেজ সংগীত পরিবেশিত হয়। একইসাথে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
সমাবেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় দেশের ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়াত ব্যক্তিবর্গকে। যাঁদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয় তাঁরা হলেন-বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এবং বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সম্মানিত সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর অগ্রজ শশীমোহন চাকমা, প্রতিষ্ঠানের অকাল প্রয়াত শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার চৈত্রি (দ্বাদশ শ্রেণি, মানবিক বিভাগ, দিবা শাখা) এবং নুসরাত জাহান (একাদশ শ্রেণি, বিজ্ঞান বিভাগ, প্রভাতি শাখা)। শোক পালন শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয় যা তাদের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাবোধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন প্রতিষ্ঠানের রেক্টর প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় কুমার ধর এবং কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী। সমাবেশের শেষভাগে রেক্টর প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি নতুন বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নতুন বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম প্রাতঃসমাবেশের (এসেম্বলি) সমাপ্তি হয় শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল প্যারেডের মাধ্যমে। বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের সবুজ প্রাঙ্গণে ইংরেজি বর্ষের প্রথম প্রাতঃসমাবেশটি মূলত: ২০২৬ সালের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা।