মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাইম ব্যাংকের “এমপাওয়ারিং ইয়ুথ” বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন একটি স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশন: প্রিন্সিপাল নুরে আলম তালুকদার পেকুয়ায় অগ্নিকা-ে ১০ বসতবাড়ি পুড়ে ছাই: ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জগন্নাথপুরে অসহায়-মানুষের মধ্যে ৫০টি ছাগল উপহার দিল সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে ফকিরহাটে দুই বাসের সংঘর্ষে নারীসহ ১৫জন আহত দুর্গাপুরে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, মা-মেয়েসহ আহত ৪ মধুপুরে নবনির্বাচিত এমপি মহোদয়ের সাথে এক ঝাঁক কলম সৈনিকের সাক্ষাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেনের জানাজার নামাজ সম্পন্ন ভোলায় বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে “ঈদ আনন্দ বাজার” উদ্বোধন আমি দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই-শফিকুর রহমান

ইরানে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে বিক্ষোভ, সরকারের পক্ষে বিশাল সমাবেশ

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

কয়েক সপ্তাহের টানা বিক্ষোভের পর ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরেনিস্তেজ হয়ে আসছে। একই সঙ্গে, রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারের পক্ষে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট জানিয়েছে, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের মাত্রা কমতে শুরু করেছে। সংস্থাটির মতে, সরকারের দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের ফলে আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থি পাল্টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, রাজধানীতে ডাকা সরকারপন্থি সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নগালাবি স্কয়ারেও আরেকটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব সমাবেশে অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে?
ইরানে ইন্টারনেট ফের চালু করার ঘোষণা প্রসঙ্গে কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক মেহরান কামরাভা বলেন, সরকার মূলত রাস্তায় গণজমায়েত ঠেকাতেই ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল। তার মতে, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেই কর্তৃপক্ষ আবার ইন্টারনেট চালু করতে যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এরই মধ্যে জানিয়েছেন, খুব শিগগির ইন্টারনেট চালু করা হবে। কামরাভার কথায়, ইরানের নেতৃত্ব দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলকে দেখাতে চায় যে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা আলোচনায় আগ্রহী।
কামরাভা বলেন, ‘এটি তেহরানের জন্য সবচেয়ে গুরুতর সংকটগুলোর একটি। সরকার এখন সংকট ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। তারা একদিকে জনসমর্থন দেখাতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিতে চায় যে রাষ্ট্র এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।’ এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি চলমান অস্থিরতাকে ‘বিক্ষোভ’ নয়, বরং ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী উপাদান’ সরকারি ভবন, পুলিশ স্টেশন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে।
আরাঘচি বলেন, ‘যা চলছে তা প্রতিবাদ নয়, এটি দেশের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী যুদ্ধ।’ তিনি আরও দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অডিও প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।
সরকারের এই কঠোর অবস্থান এবং সরকারপন্থি সমাবেশের মধ্য দিয়ে ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্র: আল-জাজিরা
শিগগির ইন্টারনেট পুনরুদ্ধার হবে: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, খুব শিগগির দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পুনরুদ্ধার করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার এ বিষয়ে অগ্রগতির জন্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছে। খবর আল জাজিরার।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হবে। ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান আন্দোলন দমনে টানা চার দিন ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এর আগে ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের কাজে তিনি (মাস্ক) খুব দক্ষ। তার একটি অসাধারণ কোম্পানি আছে। এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানে ব্যবহৃত স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক নিয়ে মাস্কের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। এর আগে মাস্ক ২০২২ সালের বিক্ষোভের সময়ও ইরানিদের ওপর সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ এড়াতে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখনকার আন্দোলনের সময় বাইডেন প্রশাসন মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানে স্টারলিংক চালুর বিষয়ে সহযোগিতা করে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারনে বর্তমানে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে তার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী এই আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
ইরানে হস্তক্ষেপের জন্য ট্রাম্পকে আহ্বান জানালেন রেজা পাহলভি
ইরানের প্রয়াত শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই আবেদন জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াশিংটন এলাকায় বসবাসকারী রেজা পাহলভি লিখেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার দৃষ্টি, সমর্থন ও পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। অনুগ্রহ করে ইরানের জনগণকে সহায়তা করতে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি কী ধরনের হস্তক্ষেপ চান, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
পাহলভি লিখেন, আমি জনগণকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এবং সংখ্যার জোরে নিরাপত্তা বাহিনীকে চাপে ফেলতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছি। গত রাতে তারা সেটাই করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই অপরাধী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপনার হুমকি তাদের সন্ত্রাসীদেরও কিছুটা দমিয়ে রেখেছে। কিন্তু সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষ আবার রাস্তায় নামবে। আমি আপনাকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করছি।
গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, চলমান বিক্ষোভের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনোভাবেই পিছু হটবে না। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ‘রক্তে রাঙা’। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে এসব কথা বলেন খামেনি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে বিক্ষোভ বাড়তে থাকলেও এ বিষয়ে এটাই খামেনির প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। ভাষণে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। খামেনি বলেন, ট্রাম্পের ‘হাত এক হাজারেরও বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত’। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে জুনে সংঘটিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সমর্থন ও সরাসরি হামলা চালিয়েছে, তার দায়ও ওয়াশিংটনের ওপর বর্তায়।
খামেনি আরও দাবি করেন, ‘অহংকারী’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিণতিও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ক্ষমতাচ্যুত ইরানি রাজতন্ত্রের মতোই হবে। তিনি বলেন, গত রাতে তেহরানে একদল ভাঙচুরকারী নিজেদেরই একটি ভবন ধ্বংস করেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য। এ সময় তার সমর্থকরা ‘যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।
খামেনি বলেন, সবাই জানে, শত শত হাজার ‘সম্মানিত’ মানুষের রক্তের বিনিময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাশকতাকারীদের সামনে আমরা কখনোই পিছু হটবো না।
বিক্ষোভের মুখে পিছু হটবে না ইরান, ট্রাম্পের হাত ‘রক্তে রাঙা’ বললেন খামেনি
বিক্ষোভের মুখে পিছু হটবে না ইরান, ট্রাম্পের হাত ‘রক্তে রাঙা’ বললেন খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি/ ২০২৪ সালের ১০ মে তেহরানে সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের সময় তোলা
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, চলমান বিক্ষোভের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনোভাবেই পিছু হটবে না। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ‘রক্তে রাঙা’। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে এসব কথা বলেন খামেনি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে বিক্ষোভ বাড়তে থাকলেও এ বিষয়ে এটাই খামেনির প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। ভাষণে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। খামেনি বলেন, ট্রাম্পের ‘হাত এক হাজারেরও বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত’। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে জুনে সংঘটিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সমর্থন ও সরাসরি হামলা চালিয়েছে, তার দায়ও ওয়াশিংটনের ওপর বর্তায়।
খামেনি আরও দাবি করেন, ‘অহংকারী’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিণতিও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ক্ষমতাচ্যুত ইরানি রাজতন্ত্রের মতোই হবে। তিনি বলেন, গত রাতে তেহরানে একদল ভাঙচুরকারী নিজেদেরই একটি ভবন ধ্বংস করেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য। এ সময় তার সমর্থকরা ‘যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।
খামেনি বলেন, সবাই জানে, শত শত হাজার ‘সম্মানিত’ মানুষের রক্তের বিনিময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাশকতাকারীদের সামনে আমরা কখনোই পিছু হটবো না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ইরানের বিভিন্ন বড় শহরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরাচারের পতন চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন ও একাধিক সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরোধিতায় রাস্তায় নামে বিপুলসংখ্যক মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ পুরো দেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে ইরান টানা ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণভাবে অফলাইনে ছিল, যা চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের একটি প্রচেষ্টা।
বিশ্লেষকদের মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে টিকে থাকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যেই ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসানের দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে সরকার উৎখাতের আগ্রহ ‘অবিশ্বাস্য রকমের’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যার পথ বেছে নিলে ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে ও যুক্তরাষ্ট্র সে জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের বিশাল আয়াতুল্লাহ কাশানি বুলেভার্ডের একটি অংশে বিপুল জনসমাগম হয়। উত্তরাঞ্চলীয় শহর তাবরিজ, পূর্বের ধর্মীয় নগরী মাশহাদ ও কুর্দি অধ্যুষিত পশ্চিমাঞ্চলের কেন্দ্রীয় শহর কেরমানশাহসহ বিভিন্ন এলাকায়তেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শহর ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রবেশপথে আগুন দেওয়ার দৃশ্যও ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এসব ছবি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মারকাজি প্রদেশের রাজধানী শাজান্দে গভর্নরের কার্যালয়েও আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়।
এদিকে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরকারের পক্ষে পাল্টা সমাবেশের চিত্র প্রচার করা হয়। সেখানে বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ সরকারের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখিয়ে তেহরানের মেয়রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিক্ষোভে ৪২টিরও বেশি বাস, সরকারি যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে ও অন্তত ১০টি সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বিক্ষোভকে ২০২২-২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস এই তথ্য জানিয়েছে।
তেহরান থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক ভিডিওগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা না গেলেও, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী ‘নাশকতাকারীদের’ বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহের ছেলে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা পাহলভি বলেন, এই বিক্ষোভ দেখিয়েছে যে কীভাবে বিশাল জনসমাগম দমনমূলক শক্তিকে পিছু হটতে বাধ্য করতে পারে। তিনি শুক্রবার আরও বড় বিক্ষোভের আহ্বান জানান, যাতে ভিড় আরও বড় হয় ও সরকারের দমনক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com