মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

নতুন পুলে বদলে গেল জীবনের চাকা মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালীতে দুর্ভোগের অবসান, স্বস্তিতে ৪ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী উত্তর ও দক্ষিণ চিংড়াখালী সংযোগ খালের ওপর নতুন একটি পুল নির্মাণের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছে দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগের। এই পুল নির্মাণের ফলে চিংড়াখালীসহ পাশ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর, হোগলাপাশা ও বনগ্রামএই চার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ১০ গ্রামের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ ফিরে পেয়েছেন স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সচল হয়েছে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনযাত্রার চাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সংযোগ খালের ওপরের পুরোনো পুলটি ভেঙে পড়লে পুরো এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীকে নৌকায় পারাপার করে চলাচল করতে হতো। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো তাদের। শুধু শিক্ষার্থী নয়, চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে হাট-বাজারে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষদেরও। চিংড়াখালী বাজার, কামলা বাজার, চন্ডীপুর বাজার ও নারিকেলবাড়িয়া বাজারে সাপ্তাহিক কেনাকাটা করতে গিয়ে নৌকা পারাপার ছিল একমাত্র ভরসা। ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতেও মাসের পর মাস সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। অবশেষে কিছু সরকারি অর্থায়ন এবং চিংড়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক আমিনুল ইসলামের নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ খালের ওপর নির্মিত হয় একটি নতুন কাঠের পুল। পুলটি চালু হতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা। সহজ হয়ে যায় চলাচল, স্বস্তি ফিরে আসে মানুষের মুখে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানহা ইসলাম, জান্নাতী আক্তার ও মুহিন ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, এখন আর নৌকায় পার হয়ে স্কুলে যেতে হয় না। ভাঙা পুলে পড়ে যাওয়ার ভয় নেই। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। যারা এই পুল করে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেন, সহকারী শিক্ষক এস. এম. রফিকুল ইসলাম ও এনামুল কবির, স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম সরদার, উত্তর চিংড়াখালী গ্রামের শেখ সিদ্দিকুর রহমানসহ একাধিক গ্রামবাসী বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছি।
ুবৃদ্ধ, শিশু ও শিক্ষার্থীদের আর দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পড়তে হবে না। তারা ভবিষ্যতে এই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান এবং সমাজসেবামূলক এই উদ্যোগের জন্য আমিনুল ইসলামের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সমাজসেবক আমিনুল ইসলাম বলেন এই পুলই শুধু নয়এলাকার ছোট ছোট পুল, সাঁকো, রাস্তা নির্মাণ, মসজিদ-মন্দিরে অনুদাননিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জন্মভূমির মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার একটাই উদ্দেশ্য মানবসেবা। স্থানীয়দের মতে, এই পুল শুধু একটি কাঠামো নয়এটি মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষার সুযোগ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com