মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ট্রেন থেকে চার বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে হস্তান্তর করেছে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানা পুলিশ। জিআরপি পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধা সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এক শিশুকে যাত্রীরা উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানা হেফাজতে দেন। পুলিশ শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্পষ্ট করে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। তবে মাঝেমধ্যে তার নাম লাইবুর/সাইফুল, বাবার নাম ল্যাংড়া, মায়ের নাম নাজমা/নাসিমা এবং ঠিকানা বালুর চর পয়েন্ট বলে জানায়। তবে সে কোথায় যাবে বা কীভাবে এখানে এসেছে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। এই শিশুর পিতা-মাতার সন্ধান ও ঠিকানা বের করতে শিশুর ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছ। শিশু উদ্ধারের ঘটনাটি রেলওয়ে থানার পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের সবকটি রেলওয়ে স্টেশনে মাইকিং করা হলেও তার পরিবারের সন্ধান মিলেনি। পরবর্তীতে গতকাল দুপুরে শিশুটিকে শ্রীমঙ্গল সমাজসেবা অফিসের হস্তান্তর করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ওসি খায়রুল ইসলাম তালুকদার জানান, গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকাগামী পারাবত ট্রেন থেকে কয়েকজন যাত্রী এক শিশুকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গলে রেলওয়ে থানা হেফাজতে দেন। পরে বিষয়টি শ্রীমঙ্গল থানায় আমরা অবহিত করি। রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা শিশুর পরিবারের সন্ধান পেতে গত দুইদিন নানাভাবে চেষ্টা করি। শিশুটির বয়স আনুমানিক ৩-৪ হবে। ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। যা বলছে তাও স্পষ্ট না। অবশেষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে অবহিত করা হলে রবিবার দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী সুমন পাল ও রাহুল রায় মুন্সী শিশুকে নিয়ে যান। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো: জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঢাকাগামী পারাবত ট্রেন থেকে উদ্ধার শিশুর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অফিস প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।