অনেক বাবা-মা ভাবেন, খেলনা যত বেশি, শিশুর আনন্দ তত বেশি। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা সব সময় এমন হয় না। ছোট শিশুর ঘরে সারি সারি খেলনা থাকলেও, দেখা যায় সে একটার পর একটা ধরছে, আবার ফেলে দিচ্ছে, শেষে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। কিন্তু কেন এমন হয়?
শিশুর মস্তিষ্ক এখনো ‘পছন্দ বাছাই’ শিখছে
শৈশবের প্রথম দিকের বছরগুলোতে শিশুর মনোযোগ ধরে রাখা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে ওঠে না। গবেষণা বলছে, সামনে যদি একসঙ্গে অনেক খেলনা থাকে, তাহলে শিশুর মস্তিষ্ককে প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় – কোনটা নেব, কোনটা ছাড়ব।
প্রতিটি খেলনা যেন নীরবে বলতে থাকে‘আমাকে নাও, আমাকে দেখো।’ এই অতিরিক্ত সিদ্ধান্তের চাপকেই মনোবিজ্ঞানে বলা হয় ডিসিশন ফ্যাটিগ বা সিদ্ধান্তজনিত মানসিক ক্লান্তি।
গবেষণা যা বলছে
ইনডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় (২০১৮) দেখা গেছে, যেসব শিশুর সামনে কম খেলনা ছিল, তারা একটি খেলনায় বেশি সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছে, বেশি সৃজনশীলভাবে খেলেছে ও তুলনামূলকভাবে শান্ত আচরণ করেছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত খেলনার পরিবেশে শিশুরা দ্রুত খেলনা বদলে ফেলে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে পারেনি।
খেলনা সরালেও কেন অস্থিরতা থাকে?
এ কথা জেনে অনেকে ভাবতে পারেন – খেলনা সরালেই সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু বিষয়টা তাৎক্ষণিক নয়। বারবার অতিরিক্ত উদ্দীপনায় থাকলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়। খেলনা সরানোর পরও সেই উত্তেজনা কিছুক্ষণ থাকে।
আদর করে শিশুকে বেশি খেলনা দিয়ে ক্ষতি করছেন না তো
তাই খেলাধুলা শেষ হলেও শিশু অস্থির বা বিরক্ত থাকতে পারে। মস্তিষ্কের শান্ত হতে সময় লাগে, আর তার জন্য দরকার সরলতা ও স্থিরতা।
কম খেলনায় কী লাভ?
গবেষণা ও অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা বলছে, কম খেলনা দিয়ে শিশু গভীরভাবে খেলতে শেখে। তার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি বাড়ে ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
অনেক বিশেষজ্ঞ একসঙ্গে ২–৩টি খেলনা সামনে রাখার এবং সময় সময় পাল্টে দেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে শিশুর আগ্রহও থাকে, আবার মস্তিষ্কও ক্লান্ত হয় না।
ভালো খেলা মানেই বেশি খেলনা নয়। শিশুর মস্তিষ্ক বড়দের মতো শক্তিশালী নয়, সে শান্ত পরিবেশে, সীমিত পছন্দের মধ্যেই সবচেয়ে ভালো শেখে। তাই খেলনা কমানো মানে শিশুর আনন্দ কমানো নয়; বরং তাকে মনোযোগ, স্থিরতা ও আনন্দের সুযোগ দেওয়া।
সূত্র: ইনডিয়ানা ইউনিভার্সিটি, জার্নাল অব ইনফ্যান্ট বিহেভিয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন
মানসিক-স্বাস্থ্যশিশুর-যত্নশিশু