দুই বাংলার জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন অজানার দেশে। শংকর নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। এই নামেই তিনি তার সৃষ্টিকে বাঙালি পাঠকের কাছে আপন করে রেখে গেলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। সাহিত্যিকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাঙালি পাঠক, সাহিত্যিকমহল এবং বিনোদন দুনিয়া।
তার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে দিন পনেরো আগে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জনপ্রিয় এই সাহিত্যিক। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ তিনি প্রয়াত হয়েছেন।
গত বছর শেষের দিকেও পড়ে গিয়েছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে ওঠার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকে ফের অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভর্তি করতে হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু এবার তার হাসপাতাল থেকে আর ফেরা হলো না বাড়িতে।
১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর অধুনা বাংলাদেশের যোশর জেলায় জন্ম মণিশংকরের। আইনজীবী বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেই কলকাতায় চলে আসেন। বসবাস করতে থাকেন হাওড়ায়। সেখানেই শংকরের বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া। পরবর্তীকালে তার সাহিত্যচর্চার শুরুও এখান থেকেই। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম বই কত অজানারে’ উপন্যাস লিখে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন তিনি।
কত অজানারে, চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ , ঘরের মধ্যে ঘর এপার ওপার, জন অরণ্য-র মতো বহু উপন্যাসের স্রষ্টা তিনি। সাহিত্য একাডেমিসহ বহু পুরষ্কারে তিনি সম্মানিত হয়েছেন।
শংকর শুধুমাত্র একজন সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি সমাজের একজন পর্যবেক্ষক ছিলেন। তার লেখায় কলকাতা জীবন্ত চরিত্র হয়ে উঠেছিল। স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে গবেষণা করে অনেক বই লিখেছেন।
চৌরঙ্গী এবং জন অরণ্যসহ তাঁর অনেক উপন্যাস জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
তার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের (শংকর) প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। চৌরঙ্গী থেকে কত অজানারে, সীমাবদ্ধ থেকে জনঅরণ্য – তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে।