ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১লা মার্চ থেকে ৩০এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত দুই মাস চলবে এই নিষেধাজ্ঞা। এ সময় নদীতে মাছ ধরা, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ বন্ধ থাকবে। দুই মাসের চলমান নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এই উপজেলার জেলেরা। তবে কর্মহীন জেলেদের দাবি এই দুই মাস এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা ও বরাদ্দের চাল দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল এবং তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তুম পর্যন্ত প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় নদীতে কোনো জেলে মাছ শিকারে নামতে পারবেন না। লালমোহন উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৬ জন। এছাড়া নিবন্ধনের বাহিরেও রয়েছেন আরও কয়েক হাজার জেলে। এসব জেলেরা উপজেলার অন্তত ২৭টি ছোট-বড় মৎস্যঘাট দিয়ে নদীতে মাছ শিকারে নামেন। লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বাতিরখাল মৎস্যঘাট এলাকার জেলে মো. নূর ইসলাম, হাদিস বেপারী ও মো. আব্দুল মমিন বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তা যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। যেহেতু এই মাছ শিকার করেই আমাদের জীবিকা জোগাড় করতে হয়, তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছি। সরকার যে চাল দেয় তাও অপ্রতুল, আবার যথা সময়ে ওই চাল দেওয়া হয় না। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো উপার্জন না থাকায় এনজিওর কিস্তিও দিতে পারবো না। তাই আমাদের দাবি; নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে যেন এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হয়। একইসঙ্গে বরাদ্দের চাল যেন যথা সময়ে বিতরণ করার উদ্যোগ নেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানান, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলবে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেরা যাতে নদীতে মাছ শিকারে না নামেন সেজন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় যেন এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হয় সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারি যে চাল বরাদ্দ রয়েছে তা দ্রুত সময়ের জন্য বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নিবন্ধিত জেলেরা তাদের জন্য বরাদ্দের নির্দিষ্ট চাল পাবেন।