জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন নাজমা পারভীন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা ও রাজনৈতিক ত্যাগের মূল্যায়ন করে দল তাঁর প্রতি আস্থা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে গোপালপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা- তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই দশক ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন। সুযোগ পেলে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। নাজমা পারভীন ১৯৯৯ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মির্জাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি গোপালপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বড়খালি গ্রামের বাসিন্দা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে বিএসএস (পাস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ১৯৮৮ সালে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা-েও যুক্ত আছেন নাজমা পারভীন। একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রামীণ নারীদের সেলাই, হস্তশিল্প ও খামার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং উপজেলায় শতাধিক নারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গঠনে ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান। নারী ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব কর্মকা-ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ‘জয়িতা’ পুরস্কার পেয়েছেন। মতবিনিময় সভায় তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনের সমাবেশে টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হন বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালের আন্দোলন কর্মসূচিতেও পুলিশি হামলায় আহত হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে বাড়িঘর ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনাও তুলে ধরেন। সভায় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকার মূল্যায়ন করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসনে দলীয় প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টুর পক্ষে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা দলের সম্পাদক মমতাজ, সহসভাপতি ফরিদা বেগম, পৌর মহিলা দলের সভাপতি মমতাজ বেগম, সহসভাপতি লাবনীসহ মহিলা দলের অন্যান্য নেতাকর্মীগণ।