শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
দেশের উন্নয়নে কাজ করলে সরকারকে সহযোগিতা, অন্যায় হলে আন্দোলন-ড. ছামিউল হক ফারুকী আগৈলঝাড়ায় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সাংবাদিক সংগঠন নড়াগাতী রিপোর্টার্স ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ জিহাদুল ইসলাম সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা মধুপুরে মন্ত্রী স্বপন ফকিরের পরামর্শে উপজাতি শিবলীমাংসাং এর পুনর্বাসন নগরকান্দা প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল নবীনগরে সাবেক এমপির মৃত্যু বার্ষিকী, দোয়া ও ইফতার মাহফিল লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক মধুপুর থানার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল টুঙ্গিপাড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিসিডিবি সিপিআরপির সহযোগিতায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মেধাবী আকাশের কিডনি প্রতিস্থাপনে দরকার ৮ লক্ষ টাকা

শাহীন আহমেদ কুড়িগ্রাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আকাশের জীবন এখন ঘন অন্ধকার মেঘে ঢাকা পরেছে। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছেলেটির দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ডায়েলেসিসের উপর বেঁচে আছে তার জীবন। প্রতিটি মুহুর্ত কাটছে তার অসহ্য যন্ত্রণা আর হতাশায়! দিনমজুর পরিবারের পক্ষে মাসে ৫০হাজার টাকার চিকিৎসা ব্যয় যোগান দিতে পথে বসার যোগার হয়েছে পরিবারটি। এরমধ্যে কিডনী প্রতিস্থাপনে নিজের বোনের সাথে ম্যাচ করলেও ৮ লক্ষ টাকার কারণে আটকে আছে তার কিডনী প্রতিস্থাপনের কাজ। জীবন বাঁচাতে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বৃত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। সরজমিনে গিয়ে কথা হয় জেলার পৌরসভা এলাকার সর্দারপাড়া গ্রামের দিনমজুর হোসেন আলীর ছেলে মো. আকাশ এর সাথে। ইতিমধ্যে তার সুন্দর চেহাড়ার মধ্যে ক্লান্তভাব ছুঁয়ে গেছে। কিছুটা হতাশ ও অভিমানি চোখে তাকিয়ে আছে সে। প্রতিবেশী ও তার পরিবারের আপনজনদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে জানা গেল, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর দুটো কিডনি বিকলের ঘটনা ধরা পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে। এরপর তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুটো কিডনিই বিকলের রেজাল্ট আসে। সেই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে তাকে ডায়ালেসিস দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ১৮০টি ডায়েলিসিসে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। এজন্য পরিবারের মাথা গোঁজার ৮শতক জমির মধ্যে ৪শতক জমি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আকাশের বাবা হোসেন আলী হার্টের রোগী হওয়ায় তার কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু পরিবারটি আকাশের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছে না। ঢাকার সিকেডি এন্ড ইউরোলজি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাহারুল ইসলামের তত্বাবধানে আকাশের কিডনী প্রতিস্থাপনে তার বোনের কিডনির সাথে ম্যাচ করায় আশার আলো দেখা গেলেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় থমকে গেছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এই মুহুর্তে অসহায় পরিবারটি তাকিয়ে আছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠান, বিত্তবান মহৎ ব্যক্তি ও প্রবাসী ভাইদের প্রতি! আকাশের প্রতিবেশী আলহাজ্ব আব্দুল কাদের জানান, জায়গাজমি বিক্রি করেও ছেলের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারছে না পরিবারটি। বড় ছেলে টেইলারের কাজ করে। তারপক্ষে পরিবারের ব্যয় মেটানো ও ভাইয়ের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশের বাবা হোসেন আলী জানান, আমি রাজমিস্ত্রীর হেলপার হিসেবে কাজ করতাম। বর্তমানে আমার হার্টের সমস্যার কারণে কাজ করতে পারছি না। এখন আমার ছেলের দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর উপায় না থাকায় বসতভিটার কিছু অংশ বিক্রি করে দিয়ে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন অর্থাভাবে চিকিৎসার করাতে পারছি না। আকাশের বড় ভাই আল আমিন জানায়, আমার ছোট ভাই হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়। ডাক্তার দেখানোর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তার দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। ক্রিয়েটিন ছিল ১২দশমিক ৭। তাৎক্ষণিকভাবে থাকে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ডা. তুষারের মাধ্যমে ডায়ালেসিস করা হচ্ছে। এরপর ভাইকে ঢাকার শ্যামলীতে সিকেডি এন্ড ইউরোলজি হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে একই রেজাল্ট পাই। এই চিকিৎসা খরচ মেটাতে আমাদের প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন প্রতিমাসে ১০টি ডায়ালেসিসে ৫০ হাজার টাকা লাগছে। এছাড়াও আমার বোনের কিডনি মিলে যাওয়ায় প্রতিস্থাপনে অপারেশন, ঔষধপত্র ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে আমার ভাইটি পূণরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। অসুস্থ্য আকাশ ক্লান্ত স্বরে জানায়, আমি যেভাবে বেঁচে আছি সেটা বেঁচে থাকা বলে না। পরিপূর্ণভাবে আমাকে বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা জরুরী দরকার। আমার চিকিৎসায় আমার পরিবার নি:স্ব হয়ে গেছে। আমি বাঁচতে চাই। যারা জাকাত দিচ্ছেন তারাসহ দেশের বিত্তবান ও প্রবাসী ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি, আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে আমাকে বাঁচতে দিন। আমি বাঁচতে চাই। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইা। শুধু আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আপনারা আমাকে বাঁচানোর সুযোগ করে দেন। আমি আপনাদের কাছে চীর কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com