রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন

ইলম চর্চায় সাহাবায়ে কেরামের অধ্যাবসায়

ইসলাম ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ইসলামের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন সেই সব সৌভাগ্যবান ব্যক্তিত্ব, যারা সরাসরি নবী করিম (সা.)-এর সান্নিধ্যে থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তা নিজেদের জীবন দিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন। তাদের কাছে ইলম শুধু তথ্যের সংগ্রহ নয়, বরং তা ছিল আমল, চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য মাধ্যম। আজ যখন ইলম অর্জন করা অনেক সহজ। হাতের কাছেই কোরআন-হাদিসের নির্ভরযোগ্য সংকলন।
সেখানে সাহাবায়ে কেরাম একটি হাদিসের সন্ধানে মাসের পর মাস সফর করতে থাকতেন।
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, এক ব্যক্তির ব্যাপারে আমি জানতে পারলাম যে, তিনি রাসুল (সা.) থেকে কিসাস সম্পর্কিত একটি হাদিস শুনেছেন। হাদিসটি জানার জন্য একটি উট ক্রয় করে বের হয়ে পড়লাম। এক মাসের দীর্ঘ সফর শেষে আমি সিরিয়ায় এসে পৌঁছাই।
খোঁজ নিয়ে জানলাম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস রা.। তার বাড়ির দরজায় গিয়ে দারোয়ানকে বললাম, তাঁকে গিয়ে বল জাবের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। শুনে ভেতর থেকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে আবদুল্লাহ? আমি বললাম, হ্যাঁ। এ কথা শুনেই তিনি ঘর থেকে বের হয়ে এলেন।
একে অপরের হালপুরসি ও সৌজন্য বিনিময় শেষে আমি বললাম, কিসাস সম্পর্কিত একটি হাদিস নাকি আপনি নবীজি (সা.) থেকে সরাসরি শুনেছিলেন। হাদিসটি শোনার আগেই আমি বা আপনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেই কি না-এ কথা ভেবে আমি দ্রুত আপনার কাছে এসেছি। তিনি তখন আমাকে হাদিসটি শুনিয়ে দিলেন। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৮৭৫৪)
একবার আইউব আনসারি রা. দীর্ঘ সফর করে মিসরে উক্ববা ইবনে আমের রা.-এর কাছে এলেন। এসেই বললেন, আমি ও আপনি বাদে ওই সময় নবীজীর দরবারে উপস্থিত ছিলেন এমন কেউই আজ জীবিত নেই।
অতএব বলুন তো মুসলমান ভাইয়ের দোষত্রুটি অপরের কাছে প্রচার না করার ব্যাপারে আপনি কী শুনেছিলেন? তিনি বললেন, আমি নবীজীকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারও ভুলÍত্রুটি ঢেকে রাখল, কিয়ামতের দিন আল্লাহও তার দোষÍত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন।’ হাদিসটি শোনার পর আবু আইউব রা. আর এক মুহূর্তও দাঁড়াননি। ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে ফের রওনা হলেন মদিনার পথে। (মুসনাদে আহমাদ ৪/১৫)
এমনকি খলিফাতুল মুসলিমিন ওমর রা. কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে কোন দ্বিধা না করে জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতেন, এ ব্যাপারে নবীজির কোনো নির্দেশনা কারও জানা আছে কি না? (আর-রিসালাহ, ইমাম শাফেয়ি: ৪২৭)
এভাবেই সাহাবায়ে কেরাম রাতের নিদ্রা বিসর্জন দিয়ে, দিনের পরিশ্রম উপেক্ষা করে, দূর-দূরান্তে সফর করে এবং প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জ্ঞান অর্জন করতেন। তাইতো তাদের ইলম-চর্চার কথা আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য এক স্বরণীয় অধ্যায়।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com