রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

শাহজাহান সাজু:
  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ এবং সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত দুটি আলাদা বিল পাস হয়েছে। এতে ওই অধ্যাদেশ দুটি আইনে রূপ পাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।
অধ্যাদেশগুলোকে অনুমোদন দিতে বিল পাসের কাজ শুরু করেছে জাতীয় সংসদ। গতকাল রোববার পাস হওয়া বিল দুটির বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, যেন অধ্যাদেশ যেভাবে আছে, সেভাবে অনুমোদন করা হয়। এ দুটি বিল পাসের মাধ্যমে মোট চারটি অধ্যাদেশ অনুমোদন পেল।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী আলাদাভাবে বিল দুটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। দুটি বিলের কোনোটিতেই কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। ফলে বিল দুটি নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি।
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল’ এবং ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল’ সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিল দুটি পাস হতে আট মিনিটের মতো সময় লাগে। কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের সদস্যদের ‘হ্যাঁ’, ‘না’ কোনোটাই বলতে দেখা যায়নি।
সংসদে সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে দুটি বিল উত্থাপনের বিষয়টি সংসদ সদস্যদের জানানো হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সম্পূরক কার্যসূচিতে কিছু বিল আনা হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কিছু অধ্যাদেশ ল্যাপস (বাতিল) করা হয়েছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং জুলাই চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চান।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিল দুটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে পরবর্তীকালে তিনি বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, এ দুটি বিল ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
তখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা চান, যেসব অধ্যাদেশ ল্যাপস করার কথা বলা হয়েছে, প্রতিটি বিষয় সংসদে উত্থাপন করা হোক। তাঁরা সেটাতে আলোচনায় অংশ নিতে চান।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে। সেখানে আলোচনার সুযোগ থাকবে। গতকাল (রোববার) যে দুটি বিল আনা হয়েছে, সে দুটির বিষয়ে বিশেষ কমিটি নিঃশর্তভাবে পাস করার বিষয়ে সর্বসম্মত হয়েছিল।
পরে একপর্যায়ে সরকারি চাকরি বিল অনুমোদনের জন্য তোলেন আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, বিলের ওপর দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব নেই। তিনি বিলের দফাগুলো সরাসরি ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে বিলের দফাগুলো পাস হয়। একই প্রক্রিয়ায় অন্য বিলটিও পাস হয়।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি এবং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত
শেষে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে?
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো যে প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা, সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী হবে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, সচিব কমিটি পর্যালোচনার কাজ করবে এবং সুপারিশ দেবে। সে অনুযায়ী ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বেতনকাঠামোর মূল কাজ সচিব কমিটি করবে। পে কমিশন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কাজ করে সচিব কমিটি। সচিব কমিটি পদ্ধতিগত আলোকে কাজ শুরু করবে, তারপর সচিব কমিটি সুপারিশ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন বেতনের সুপারিশে কী আছে
অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে।
সুপারিশ করা নতুন বেতনকাঠামোয় সর্বনি¤œ ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় জানান, সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com