রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন

স্ট্রবেরি চাষে মামুনের সফলতা

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
স্ট্রবেরি চাষ করে সাড়া ফেলেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি: বাসস

আমেরিকান ফেসটিভ্যাল জাতের সুস্বাদু ফল স্ট্রবেরি চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২)।
চলতি মৌসুমে খরচ বাদে ১০ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি। মামুনের এ সফলতা দেখে এলাকায় অনেক যুবক স্ট্রবেরি চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বাজারে স্ট্রবেরি ফলের চাহিদা, ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় প্রতিনিয়ত কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রবেরি চাষ।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদে আকর্ষণীয় স্ট্রবেরি ফলের রস, জ্যাম, আইসক্রিম, মিল্কশেকসহ শিল্পজাত খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরির সুগন্ধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। স্ট্রবেরি শীত প্রধান দেশের ফল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের যে-সব এলাকায় শীত বেশি, সে সব এলাকায় বিভিন্ন জাতের স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। স্ট্রবেরি বিদেশি শীতকালীন ফল উত্তরের বিভিন্ন জেলায় আগে থেকেই চাষ হয়। তবে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এই প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির চাষ শুরু হয়েছে। মামুনের সাফল্যের ফলে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে মামুনের স্ট্রবেরি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃত এলাকা জুড়ে টসটসে রসালো স্ট্রবেরি ঝুলে আছে। সারিবদ্ধ লাইনে স্ট্রবেরি গাছ। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে টসটসে লাল পাকা স্ট্রবেরি। বিক্রির জন্য স্ট্রবেরি তুলছেন মামুন। মামুনের পরিবারের লোকজন স্ট্রবেরি বাজারজাতের জন্য প্যাকেজিং-এর কাজ করছেন। ওই এলাকায় নতুন এই ফলের আবাদ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়রা। বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।
মামুন বাসসকে বলেন, নিজস্ব চেষ্টায় তার বাড়ির পাশে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ১০০টি চারা দিয়ে শুরু করেন স্ট্রবেরির বাগান। ভালো ফলন পাওয়ায় পরের বছর শুরু করেন স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষ। বর্তমানে তিনি ২ বিঘা জমিতে ১০ হাজার স্ট্রবেরির চারা লাগিয়েছেন। প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় আধা কেজি ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি পাইকারি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর ফল ও চারা বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত স্ট্রবেরির চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ ও বিক্রি করা যায়। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে ব্যাপকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। তাই আগামীতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা আছে।
মামুন আরো বলেন, শুরুর দিকে পরিবারের সদস্যরা স্ট্রবেরি চাষের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে আগ্রহ দেখাননি কিন্তু এখন সবাই উৎসাহ দিচ্ছে। প্রতিটি গাছে লাল টকটকে ফল দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় যুবক ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
বাগান পরিদর্শনে আসা কলেজ ছাত্রী সুমি আক্তার জানান, বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি স্ট্রবেরি বাগান দেখতে এসেছি। এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজের ছাদে রোপণ করবো। স্ট্রবেরি বাজারে দামি হওয়ায় উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয় স্বজনদের দিতে চাই।
স্থানীয় যুবক রুবেল মিয়া বলেন, মামুন ভাইয়ের স্ট্রবেরির বাগান দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এ বছর স্ট্রবেরির ফলন ভালো হয়েছে। দেখতে টকটকে লাল, খেতেও সুস্বাদু এবং এ ফল দারুণ উপকারী। ভবিষ্যতে আমিও একটা বাগান করার চিন্তা করছি। সেই লক্ষ্যে এই বাগান পরিদর্শনে এসেছি।
ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বাসসকে জানান, স্ট্রবেরি উচ্চ পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি বিদেশি ফল। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারা বিশ্বে সমাদৃত। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং মাসের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়।
তিনি বলেন, মামুন নামের একজন তরুণ কৃষক ঘাটাইলে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হয়েছেন। স্ট্রবেরি চাষ করে তিনি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। সে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া ঘাটাইলে কোনো কৃষক স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষাবাদে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ তাদেরও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com