পিরোজপুর এলজিইডির তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা ব্রিজ নির্মানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকার বকেয়া বিল না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিজেদের টাকা খরচ করে কাজ করার পরেও গত দুই বছর যাবত এলজিইডির থেকে বকেয়া বিল না পেয়ে তারা আর্থিক ও সামাজিক ভাবে ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক ঠিকাদার রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাকী বকেয়া পরিশোধ না করতে পেরে এবং ব্যাংক ঋন পরিশোধ করতে না পেরে নানাভাবে অপমান অপদস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বঞ্চিত ঠিকাদাররা তাদের দুর্দশা লাঘব করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পিরোজপুর এলজিইডির আইভিআরপি প্রকল্পের বঞ্চিত ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুরে স্বরূপকাঠির একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে হিযবুল্লা কিল্ডার্স এর পক্ষে মো, আইউব আলী হলুদ ঠিকাদারদের নানা দুর্দশার কথা লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন। এসময় উল্লেখযোগ্য ঠিকাদারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জিয়াউল এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম, কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের পক্ষে মো, বাচ্চু মিয়া প্রমুখ। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ২০২৩-২৪ ও ২৪-২৫ অর্থ বছর পিরোজপুর এলজিইডির কার্যাদেশ পেয়ে সেতু ও কালভার্টের উন্নয়ন কাজ করতে শুরু করেন। এরমধ্যে কিছু কাজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত এবং কিছু কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত এসব ঠিকাদারকে কোনো বিল পরিশোধ করছেন না এলজিইডি। আইউব আলী বলেন, ২০২৪ সনে হিযবুল্লা বিল্ডার্স কার্যাদেশ পেয়ে এক কোটি পনের লাখ টাকা ব্যয়ে মাদ্রা ঝালকাঠি সড়কে একটি আয়রন ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে বিল জমা দেয়া হয়। কিন্তু গত দুই বছরে ওই কাজের এক টাকাও পায়নি। টিকাদার রফিকুল ইসলাম জানান, ইন্দুরহাট ও মিয়ারহাট বন্দরের সংযোগ স্থাপন করতে এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণের কাজ প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করে এখন টাকার অভাবে ফেলে রেখেছেন। স্থানীয় লোকজন ব্রিজ নিয়ে ভোগান্তির জন্য ঠিকাদারকে গালাগালি করছেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার ভাই মিরাজুল ইসলামসহ একটি দুর্নীতিবাজ চক্রের দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্তের নামে সময় ক্ষেপণ করায় এলজিইডি সাধারণ ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে গড়িমসি করেছেন। সাধারণ ঠিকাদাররা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ঠিকাদাররা বিল পাচ্ছেন না কেন জানার জন্য পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান জানতে ০১৭১৬-৬০৮-৫২৫ নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ বিষয় এলজিইডির নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা প্রকৌশলী মো, রায়সুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলতে অনুরোধ করেন। তবে যতটুকু জানতে পেরেছেন বলে তিনি জানান, তা হলো দুদকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত কার্যক্রম চলার কারণে আপাতত বিল প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে।