ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

শ্রীমঙ্গলে একইদিনে পৃথক স্থান থেকে দাঁড়াশ সাপ, তক্ষক ও লজ্জাবতী বানর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একইদিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ, একটি তক্ষক ও একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা প্রাণীগুলো শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল বেলা ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নোয়াগাঁও শাইঠুলা প্রজেক্ট-২ এলাকার একটি ফিশারিতে এ ঘটনা ঘটে। গত রাতে মাছ ধরার জন্য পাতা ঠানা জালে একটি সাপ আটকা পড়ে। শনিবার দুপুরে জাল তুলতে গিয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার সাপটিকে দেখতে পান। তিনি সাপটিকে না মেরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা সাপটি দাঁড়াশ বলে শনাক্ত করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় জাল কেটে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় জালে আটকা থাকায় সাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রুপসপুর এলাকায় রুপন পালের বাসার ঠাকুর ঘরে একটি তক্ষক ঢুকে পড়ে। তক্ষকটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে রুপন পাল বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তক্ষকটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটিও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, একই দিন বেলা ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তির বলাই রবিদাসের বাসার পাশে একটি গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় একটি লজ্জাবতী বানর মাটিতে নেমে আসে। বানরটিকে দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা শিশুরা চিৎকার শুরু করে। এ সময় দুলাল রবিদাস বানরটিকে ধরে আটকে রাখেন। পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানালে পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে লজ্জাবতী বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার করা বানরটিকেও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। ফলে মাঝে মাঝে খাদ্য, আশ্রয় বা চলাচলের পথে এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণই বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবিদরা বলেন, বন্যপ্রাণী মানুষের বসতবাড়ি বা লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আঘাত করা উচিত নয়। প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের খবর দিলে সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাণীগুলোকে উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

শ্রীমঙ্গলে একইদিনে পৃথক স্থান থেকে দাঁড়াশ সাপ, তক্ষক ও লজ্জাবতী বানর উদ্ধার

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একইদিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ, একটি তক্ষক ও একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা প্রাণীগুলো শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল বেলা ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নোয়াগাঁও শাইঠুলা প্রজেক্ট-২ এলাকার একটি ফিশারিতে এ ঘটনা ঘটে। গত রাতে মাছ ধরার জন্য পাতা ঠানা জালে একটি সাপ আটকা পড়ে। শনিবার দুপুরে জাল তুলতে গিয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার সাপটিকে দেখতে পান। তিনি সাপটিকে না মেরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা সাপটি দাঁড়াশ বলে শনাক্ত করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় জাল কেটে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় জালে আটকা থাকায় সাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রুপসপুর এলাকায় রুপন পালের বাসার ঠাকুর ঘরে একটি তক্ষক ঢুকে পড়ে। তক্ষকটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে রুপন পাল বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তক্ষকটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটিও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, একই দিন বেলা ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তির বলাই রবিদাসের বাসার পাশে একটি গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় একটি লজ্জাবতী বানর মাটিতে নেমে আসে। বানরটিকে দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা শিশুরা চিৎকার শুরু করে। এ সময় দুলাল রবিদাস বানরটিকে ধরে আটকে রাখেন। পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানালে পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে লজ্জাবতী বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার করা বানরটিকেও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। ফলে মাঝে মাঝে খাদ্য, আশ্রয় বা চলাচলের পথে এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণই বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবিদরা বলেন, বন্যপ্রাণী মানুষের বসতবাড়ি বা লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আঘাত করা উচিত নয়। প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের খবর দিলে সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাণীগুলোকে উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।