ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

থমকে গেছে খুটাখালী বাস-স্টেশন থেকে কালাপাড়া ঈদগড় জিসি সড়কের নির্মাণ কাজ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বাস-স্টেশন থেকে কালাপাড়া হয়ে ঈদগড় জিসি সড়কটির তিন প্যাকেজের প্রায় ৮ মাইলের কাজটি তিন প্যাকেজে ভাগ করে, কাজের অগ্রগতির জন্য বরাদ্দ দেন স্হানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কাজটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সড়ক সংস্কার কাজটি একটি প্যাকেজ ২৬০০ মিটার। অর্থাৎ খুটাখালী বাস-স্টেশন হতে গোদারফাঁড়ি পর্যন্ত। কাজটির শুরুতে অনিয়ম।যদিও সংশ্লিষ্ট চকরিয়া উপজেলার এলজিইডির উপ-প্রকৌশলী অবগত হয়েও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করেন। সরকারি সিডিউলে কি আছে,তা শত চেষ্টা করেও, দেখার সুযোগ হয়নি। তবে সড়ক সংস্কার কাজে নি¤œমানের দেশীয় কালো পাথর, দেশীয় বালি ব্যবহার করেছেন, এমন অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী। কচ্ছপ গতিতে করা সংস্কার কাজের মেয়াদ শেষ। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। এখনো সড়কের কাজ চলমান আছে,সরেজমিনে গেলে এমন দৃশ্য দেখা যায়। কাজটি দেখতে স্হানীয়রা দেখে জানান, সড়কের দুইপাশে টেকসই পিলার বিহীন গাইডওয়াল, নিচে ২ইঞ্চির বেড আর বেডের ওপরে একটি লোহার জালিতে প্রায় ৮ইঞ্চির আরসিসি ঢালাই কাজ করেছেন। এভাবে হরিখোলা মসজিদ থেকে মাওলানা আবুল ফজলের বাড়ীর কাছাকাছি প্রায় ১০০০ মিটার ঢালাই কাজ শেষের পথে। তবে বাকী আরো ১৬০০ মিটার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।অসমাপ্ত কাজের জন্য বর্ষার ভারি বর্ষণের ফলে যানচলাচল তো দূরের কথা, হাঁটাচলায় চরমভাবে র্দূভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা। মহাসড়কের পাশে লাগানো ফলকে দেখা যায়-খুটাখালী বাজার থেকে গোদারফাঁড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাইল অর্থাৎ ২৬০০ মিটার সড়ক সংস্কার কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান”ফাস্টবিল্ড,উপকূল-১,জেবি। কাজটির মূল্য বিশ কোটি তিয়াত্তর লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার দুইশত বায়ান্ন টাকা। অর্থাৎ প্রায় ২১কোটি টাকা। কাজের চুক্তি হয়েছে-২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে চলিত বছরের ১৬ আগষ্ট পর্যন্ত। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কাজটির ৪০ভাগ বাকী রয়েছে। যদিও কাজ চলমান থাকলেও,কাজটি করার জন্য মেয়াদ বাড়িয়েছে কিনা কোনোভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানান-সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০টির মত অটোরিকশা ও ৫০টির মত ইঞ্জিন চালিত সিএনজি গাড়ী চলতো। এই সড়কটি নিয়মিত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, পথচারী, বয়োবৃদ্ধ লোক, প্রসূতি নারীর যাতায়াতের অন্তহীন কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল নিতে গিয়ে চরম র্দূভোগের শিকার হচ্ছে। সড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত সংস্কারের জন্য উপজেলা, জেলার দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপসহ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এবিষয়ে জানতে চকরিয়া উপজেলায় দায়িত্বরত এলজিইডি উপ-প্রকৌশলী কর্মকর্তার নাম্বারে বেশ কয়েক দিনে কয়েক বার যোগাযোগ করি, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে কক্সবাজার জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাসানাত মহিউদ্দিন বলেন-আমি এই জেলাতে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তাই সড়কটি সম্পর্কে অবগত নয়।এখন আপনার মাধ্যমে যতটুকু জেনেছি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্হা নিব।তাছাড়া কেন উপ-প্রকৌশল ফোন রিসিভ করেনি, তার জন্য শোকজ করা হবে। আশ্বস্ত করেছেন-কাজের বাকী অংশ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ওই অসমাপ্ত কাজের জন্য মেয়াদ বাড়িয়েছে কিনা দেখে অবশ্যই ব্যবস্হা নিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

থমকে গেছে খুটাখালী বাস-স্টেশন থেকে কালাপাড়া ঈদগড় জিসি সড়কের নির্মাণ কাজ

আপডেট সময় ০৮:০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বাস-স্টেশন থেকে কালাপাড়া হয়ে ঈদগড় জিসি সড়কটির তিন প্যাকেজের প্রায় ৮ মাইলের কাজটি তিন প্যাকেজে ভাগ করে, কাজের অগ্রগতির জন্য বরাদ্দ দেন স্হানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কাজটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সড়ক সংস্কার কাজটি একটি প্যাকেজ ২৬০০ মিটার। অর্থাৎ খুটাখালী বাস-স্টেশন হতে গোদারফাঁড়ি পর্যন্ত। কাজটির শুরুতে অনিয়ম।যদিও সংশ্লিষ্ট চকরিয়া উপজেলার এলজিইডির উপ-প্রকৌশলী অবগত হয়েও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করেন। সরকারি সিডিউলে কি আছে,তা শত চেষ্টা করেও, দেখার সুযোগ হয়নি। তবে সড়ক সংস্কার কাজে নি¤œমানের দেশীয় কালো পাথর, দেশীয় বালি ব্যবহার করেছেন, এমন অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী। কচ্ছপ গতিতে করা সংস্কার কাজের মেয়াদ শেষ। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। এখনো সড়কের কাজ চলমান আছে,সরেজমিনে গেলে এমন দৃশ্য দেখা যায়। কাজটি দেখতে স্হানীয়রা দেখে জানান, সড়কের দুইপাশে টেকসই পিলার বিহীন গাইডওয়াল, নিচে ২ইঞ্চির বেড আর বেডের ওপরে একটি লোহার জালিতে প্রায় ৮ইঞ্চির আরসিসি ঢালাই কাজ করেছেন। এভাবে হরিখোলা মসজিদ থেকে মাওলানা আবুল ফজলের বাড়ীর কাছাকাছি প্রায় ১০০০ মিটার ঢালাই কাজ শেষের পথে। তবে বাকী আরো ১৬০০ মিটার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।অসমাপ্ত কাজের জন্য বর্ষার ভারি বর্ষণের ফলে যানচলাচল তো দূরের কথা, হাঁটাচলায় চরমভাবে র্দূভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা। মহাসড়কের পাশে লাগানো ফলকে দেখা যায়-খুটাখালী বাজার থেকে গোদারফাঁড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাইল অর্থাৎ ২৬০০ মিটার সড়ক সংস্কার কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান”ফাস্টবিল্ড,উপকূল-১,জেবি। কাজটির মূল্য বিশ কোটি তিয়াত্তর লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার দুইশত বায়ান্ন টাকা। অর্থাৎ প্রায় ২১কোটি টাকা। কাজের চুক্তি হয়েছে-২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে চলিত বছরের ১৬ আগষ্ট পর্যন্ত। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কাজটির ৪০ভাগ বাকী রয়েছে। যদিও কাজ চলমান থাকলেও,কাজটি করার জন্য মেয়াদ বাড়িয়েছে কিনা কোনোভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানান-সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০টির মত অটোরিকশা ও ৫০টির মত ইঞ্জিন চালিত সিএনজি গাড়ী চলতো। এই সড়কটি নিয়মিত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, পথচারী, বয়োবৃদ্ধ লোক, প্রসূতি নারীর যাতায়াতের অন্তহীন কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল নিতে গিয়ে চরম র্দূভোগের শিকার হচ্ছে। সড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত সংস্কারের জন্য উপজেলা, জেলার দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপসহ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এবিষয়ে জানতে চকরিয়া উপজেলায় দায়িত্বরত এলজিইডি উপ-প্রকৌশলী কর্মকর্তার নাম্বারে বেশ কয়েক দিনে কয়েক বার যোগাযোগ করি, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে কক্সবাজার জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাসানাত মহিউদ্দিন বলেন-আমি এই জেলাতে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তাই সড়কটি সম্পর্কে অবগত নয়।এখন আপনার মাধ্যমে যতটুকু জেনেছি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্হা নিব।তাছাড়া কেন উপ-প্রকৌশল ফোন রিসিভ করেনি, তার জন্য শোকজ করা হবে। আশ্বস্ত করেছেন-কাজের বাকী অংশ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ওই অসমাপ্ত কাজের জন্য মেয়াদ বাড়িয়েছে কিনা দেখে অবশ্যই ব্যবস্হা নিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।