৪ হাজার ৫৯৯ মাঠ তৈরির ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
দেশের জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে দেশে ৪ হাজার ৫৯৯টি খেলার মাঠ প্রস্তুতের মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গতকাল দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে ‘শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমি’ ও খেলোয়াড়দের জন্য নবনির্মিত ড্রেসিং রুম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকল্প নেই। খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন। পরে স্মারক হিসেবে সেখানে দুটি বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, দেশের যেসব খেলার মাঠ অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে, সেগুলো উদ্ধার করা হবে। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে খেলার মাঠসহ দখল হয়ে থাকা সব মাঠ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন তিনি। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে খেলাধুলাবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক সংযোজনে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিক, এশিয়ান ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসরে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলো সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, আর্চারি, শুটিং ও হকিসহ বিভিন্ন খেলার সুযোগ তৈরি করা হবে।” তিনি বলেন, “সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়; বরং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তৈরি করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। এ জন্য বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মোঃ মামুনুর রশীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) আব্দুল ওয়াহিদ রাজু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর এবং বিএনপি নেতা মো. তাজ উদ্দিন তাজুসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে শ্রীমঙ্গলে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত জায়গাও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। পরে বিকেলে শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে মৌলভীবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জয়েন্ট স্পোর্টস কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার ক্রীড়া সংস্কৃতির উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক, ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এহসান বিন মুজাহির (শ্রীমঙ্গল) মৌলভীবাজার 

















