ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুষ্টিমান হারিয়ে ফাঁপা হচ্ছে ফসল : বাড়ছে অণুপুষ্টির ঘাটতি Logo বিক্ষোভে টালমাটাল মোদীর গদি Logo ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তিতে বন্দরের দক্ষতা ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের Logo কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলা : ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৫ ফ্লাইট বাতিল Logo দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি হচ্ছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী Logo বাংলাদেশে মারুবেনির বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় কাফকো স্থাপন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা Logo ফ্রিজের যে ২ সেটিংস বদলেই বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারবেন Logo সাইকেল চালালে কি শুক্রাণু কমে, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা Logo চাচ্চু শাকিব খানের সঙ্গে দীঘি, নতুন সিনেমা নাকি অন্য কিছু? Logo মৃত্যুর পর মানুষ যেভাবে অনুশোচনায় ভুগবে

২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ, নতুন ভবন-সীমানাপ্রাচীর ও খেলার মাঠ চান শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত, শিক্ষার পরিবেশ ফেরানোর দাবি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট থেকে ২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দখলদারির অবসানে স্বস্তি প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তবে উচ্ছেদ হওয়া দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী লিখিত নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, জমি দখলমুক্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালটে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনাগুলো ভাঙা ও নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট ও কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। এসব জায়গা দখলমুক্ত করার দাবিতে সম্প্রতি কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুই দফায় মানববন্ধন করেন। পরে বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ, বহুতল ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপসহ ছয় দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ। এ সময় সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান সেলিম বলেন, কলমাকান্দা মৌজার এসএ ১০ নম্বর দাগের সরকারি হালট এবং এসএ ৭৬ নম্বর দাগে অবস্থিত বিদ্যালয়ের জমি দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী দখল করে রেখেছিলেন। গত এক সপ্তাহ ধরে এসব জায়গা ছেড়ে দিতে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার মৌখিকভাবে তাগাদা দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় রোববার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তনি বলেন, সরকারি জমি দখলমুক্ত করে জনস্বার্থ রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এ অভিযানের উদ্দেশ্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদ হওয়া দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন ব্যবসায়ী বলেন, তাঁদের লিখিতভাবে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মৌখিকভাবে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেখানে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিলেন। এখন কোথায় ব্যবসা করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফাহিম মিয়া, নৈঋতা পত্র নবিস ও ইনতিশার অরোরা ফারহাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে তারা পরপর দুবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অবশেষে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করায় তাদের দাবি পূরণ হয়েছে। এতে তারা খুবই খুশি। এ জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায় তারা। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশগেট স্থাপন এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শাহজাহান কবীর বলেন, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট দখলমুক্ত করায় উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি। বিদ্যালয়ের পিটিএ কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি ও সরকারি হালট দখলমুক্ত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যালয়ের জমি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন। সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলে থাকলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও বলেন, দখলমুক্ত জায়গা যথাযথভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট, নতুন ভবন ও খেলার মাঠ নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে এবং সরকারি সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এ উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতা কামনা করছি। বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের জমি সংরক্ষণ, শিশুদের নিরাপত্তা, খেলাধুলার সুযোগ এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই উচ্ছেদ করা জমি পুনরায় দখল ঠেকানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, জমি দখলমুক্ত করার মধ্য দিয়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা পূর্ণতা পাবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুষ্টিমান হারিয়ে ফাঁপা হচ্ছে ফসল : বাড়ছে অণুপুষ্টির ঘাটতি

২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ, নতুন ভবন-সীমানাপ্রাচীর ও খেলার মাঠ চান শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

আপডেট সময় ০৮:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত, শিক্ষার পরিবেশ ফেরানোর দাবি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট থেকে ২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দখলদারির অবসানে স্বস্তি প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তবে উচ্ছেদ হওয়া দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী লিখিত নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, জমি দখলমুক্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালটে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনাগুলো ভাঙা ও নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট ও কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। এসব জায়গা দখলমুক্ত করার দাবিতে সম্প্রতি কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুই দফায় মানববন্ধন করেন। পরে বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ, বহুতল ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপসহ ছয় দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ। এ সময় সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান সেলিম বলেন, কলমাকান্দা মৌজার এসএ ১০ নম্বর দাগের সরকারি হালট এবং এসএ ৭৬ নম্বর দাগে অবস্থিত বিদ্যালয়ের জমি দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী দখল করে রেখেছিলেন। গত এক সপ্তাহ ধরে এসব জায়গা ছেড়ে দিতে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার মৌখিকভাবে তাগাদা দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় রোববার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তনি বলেন, সরকারি জমি দখলমুক্ত করে জনস্বার্থ রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এ অভিযানের উদ্দেশ্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদ হওয়া দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন ব্যবসায়ী বলেন, তাঁদের লিখিতভাবে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মৌখিকভাবে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেখানে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিলেন। এখন কোথায় ব্যবসা করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফাহিম মিয়া, নৈঋতা পত্র নবিস ও ইনতিশার অরোরা ফারহাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে তারা পরপর দুবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অবশেষে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করায় তাদের দাবি পূরণ হয়েছে। এতে তারা খুবই খুশি। এ জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায় তারা। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশগেট স্থাপন এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শাহজাহান কবীর বলেন, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট দখলমুক্ত করায় উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি। বিদ্যালয়ের পিটিএ কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি ও সরকারি হালট দখলমুক্ত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যালয়ের জমি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন। সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলে থাকলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও বলেন, দখলমুক্ত জায়গা যথাযথভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট, নতুন ভবন ও খেলার মাঠ নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে এবং সরকারি সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এ উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতা কামনা করছি। বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের জমি সংরক্ষণ, শিশুদের নিরাপত্তা, খেলাধুলার সুযোগ এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই উচ্ছেদ করা জমি পুনরায় দখল ঠেকানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, জমি দখলমুক্ত করার মধ্য দিয়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা পূর্ণতা পাবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে।