ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার Logo রৌমারীতে বলগেট ও ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব এলাকার মানুষ Logo রায়গঞ্জে ছয় ওয়ার্ড নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ, গণশুনানি Logo পাবনা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে প্রস্তাব প্রেরণ সংক্রান্ত সভা Logo লামায় ইউএনওকে বিদায় সংবর্ধনা Logo মঠবাড়িয়ায় বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না রান্নার এলপিজি গ্যাস Logo জাতীয় কন্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা Logo ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিলুপ্তির পথে বড়দিয়া বাজার Logo ‘অধিকার’এর ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নোয়াখালীতে আলোচনা ও মতবিনিময় Logo সুন্দরবনে সম্রাট বাহিনীর হাত থেকে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪ জেলে উদ্ধার

তারাকান্দায় ধলাই নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে বসতবাড়ি

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উলামাকান্দী এলাকায় ধলাই নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর অব্যাহত স্রোতে প্রতিদিনই ভাঙছে নদীর পাড়। এতে একটি পরিবারের স্বপ্নের বসতভিটাসহ আশপাশের বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় যে ভিটায় ছিল হাসি-আনন্দ, সন্তানদের কোলাহল আর পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়, সেই ভিটাই এখন ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে এই বসতভিটা শুধু কয়েক শতাংশ জমি নয়; এটি তাদের বহু বছরের স্মৃতি, সংগ্রাম ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে সেই আশ্রয়টুকুও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ের মাটি ধসে পড়ে। কোথাও কোথাও নদী বসতবাড়ির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কয়েকটি পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নদীভাঙন তাদের জন্য নতুন কোনো সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করলেও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবারের পক্ষে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হয় না। নদীপাড়ের বাসিন্দা সুভাসচন্দ্র দাস, সুনীল চন্দ্র দাস, অনিল চন্দ্র দাস, জগদীশচন্দ্র দাস ও শান্ত চন্দ্র দাস বলেন, নদীর পাড় যেভাবে ভাঙছে, তাতে কখন যে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই ভয়েই দিন কাটছে। চোখের সামনে বসতভিটা ভাঙতে দেখলেও আমাদের করার কিছুই নেই। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু বসতবাড়িই নয়, স্থানীয় সড়ক, ফসলি জমি ও অন্যান্য স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্য এবং এলাকার সাবেক মেম্বার আবু সিদ্দিক ফকির,খাইরুল আমিন ফকির, রফিক ম-ল, মোমেন কবির (জুয়েল) ও চাঁন মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে নদীভাঙনের কবল থেকে বসতভিটা ও স্থানীয় মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার

তারাকান্দায় ধলাই নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে বসতবাড়ি

আপডেট সময় ০৮:২৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উলামাকান্দী এলাকায় ধলাই নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর অব্যাহত স্রোতে প্রতিদিনই ভাঙছে নদীর পাড়। এতে একটি পরিবারের স্বপ্নের বসতভিটাসহ আশপাশের বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় যে ভিটায় ছিল হাসি-আনন্দ, সন্তানদের কোলাহল আর পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়, সেই ভিটাই এখন ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে এই বসতভিটা শুধু কয়েক শতাংশ জমি নয়; এটি তাদের বহু বছরের স্মৃতি, সংগ্রাম ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে সেই আশ্রয়টুকুও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ের মাটি ধসে পড়ে। কোথাও কোথাও নদী বসতবাড়ির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কয়েকটি পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নদীভাঙন তাদের জন্য নতুন কোনো সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করলেও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবারের পক্ষে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হয় না। নদীপাড়ের বাসিন্দা সুভাসচন্দ্র দাস, সুনীল চন্দ্র দাস, অনিল চন্দ্র দাস, জগদীশচন্দ্র দাস ও শান্ত চন্দ্র দাস বলেন, নদীর পাড় যেভাবে ভাঙছে, তাতে কখন যে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই ভয়েই দিন কাটছে। চোখের সামনে বসতভিটা ভাঙতে দেখলেও আমাদের করার কিছুই নেই। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু বসতবাড়িই নয়, স্থানীয় সড়ক, ফসলি জমি ও অন্যান্য স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্য এবং এলাকার সাবেক মেম্বার আবু সিদ্দিক ফকির,খাইরুল আমিন ফকির, রফিক ম-ল, মোমেন কবির (জুয়েল) ও চাঁন মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে নদীভাঙনের কবল থেকে বসতভিটা ও স্থানীয় মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করা সম্ভব হবে।