ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার Logo রৌমারীতে বলগেট ও ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব এলাকার মানুষ Logo রায়গঞ্জে ছয় ওয়ার্ড নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ, গণশুনানি Logo পাবনা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে প্রস্তাব প্রেরণ সংক্রান্ত সভা Logo লামায় ইউএনওকে বিদায় সংবর্ধনা Logo মঠবাড়িয়ায় বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না রান্নার এলপিজি গ্যাস Logo জাতীয় কন্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা Logo ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিলুপ্তির পথে বড়দিয়া বাজার Logo ‘অধিকার’এর ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নোয়াখালীতে আলোচনা ও মতবিনিময় Logo সুন্দরবনে সম্রাট বাহিনীর হাত থেকে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪ জেলে উদ্ধার

রৌমারীতে বলগেট ও ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব এলাকার মানুষ

বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে, যার কারণে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় বা অপর্যাপ্ত।
যার ফলে বালুখেকো চক্র আইনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, নিয়মিত তীরবর্তী এলাকায় বালুর স্তুপে পাহাড় সাজিয়ে প্রতিদিন বিক্রি করছে। দীর্ঘদিন থেকে বালু লুটপাট করে, অঢেল অর্থ সম্পদে বিত্তবান বণে যাচ্ছেন সাবেক সরকার দলের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী বালুর পয়েন্টের মালিক আমজাদ হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, শাহজাহান, আব্দুল মজিদ, মোতালেব অবসর আর্মি ও ফজলুল হক গং। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রম্মপুত্র নদের পাড়ে বলদমারা ও বাইশ পাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন নদীতে এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ব্রম্মপুত্র নদে দীর্ঘদিন ধরে বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না। বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় কৃষিজমি ও বসতভিটার ব্যাপক ক্ষতি করায় সম্প্রতি প্রতিকার এবং স্থায়ী ব্যবস্থার দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। অপরদিকে প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষ কষ্ট, দুঃখ, চোখে কান্না নিয়ে নদী ভাঙ্গন রোধে মানববন্ধন করে সরকারকে জানান দিচ্ছে। এদিকে জিঞ্জিরাম, ধর্ণী, সোনাভরি ও হলহলি নদী থেকে দিনে রাতে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক ও জনবসতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ তুলেছেন। বলদমারা, বাইশ পাড়া এলাকার ঘরবাড়ি, জমাজমি, গাছপালা হারানো ভুক্তভোগী জাকির হোসেন, দিলবর, ফাহিমা বেগম, নাসিমা বেগম, জয়নাল হকসহ অনেকেই জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর পারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আমরা নিঃস্ব হয়েছি। এ বিষয়ে কতবার প্রশাসনকে অভিযোগের মাধ্যমে জানানো হলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। প্রশাসনের নীরবতার পেছনে প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন এলাকার সুধীমহল। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসানকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও চিত্র দেখানো হলে, তিনি তার নোট বইয়ে ঠিকানা লিখে রেখে বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার

রৌমারীতে বলগেট ও ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব এলাকার মানুষ

আপডেট সময় ০১:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে, যার কারণে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় বা অপর্যাপ্ত।
যার ফলে বালুখেকো চক্র আইনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, নিয়মিত তীরবর্তী এলাকায় বালুর স্তুপে পাহাড় সাজিয়ে প্রতিদিন বিক্রি করছে। দীর্ঘদিন থেকে বালু লুটপাট করে, অঢেল অর্থ সম্পদে বিত্তবান বণে যাচ্ছেন সাবেক সরকার দলের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী বালুর পয়েন্টের মালিক আমজাদ হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, শাহজাহান, আব্দুল মজিদ, মোতালেব অবসর আর্মি ও ফজলুল হক গং। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রম্মপুত্র নদের পাড়ে বলদমারা ও বাইশ পাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন নদীতে এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ব্রম্মপুত্র নদে দীর্ঘদিন ধরে বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না। বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় কৃষিজমি ও বসতভিটার ব্যাপক ক্ষতি করায় সম্প্রতি প্রতিকার এবং স্থায়ী ব্যবস্থার দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। অপরদিকে প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষ কষ্ট, দুঃখ, চোখে কান্না নিয়ে নদী ভাঙ্গন রোধে মানববন্ধন করে সরকারকে জানান দিচ্ছে। এদিকে জিঞ্জিরাম, ধর্ণী, সোনাভরি ও হলহলি নদী থেকে দিনে রাতে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক ও জনবসতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ তুলেছেন। বলদমারা, বাইশ পাড়া এলাকার ঘরবাড়ি, জমাজমি, গাছপালা হারানো ভুক্তভোগী জাকির হোসেন, দিলবর, ফাহিমা বেগম, নাসিমা বেগম, জয়নাল হকসহ অনেকেই জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর পারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আমরা নিঃস্ব হয়েছি। এ বিষয়ে কতবার প্রশাসনকে অভিযোগের মাধ্যমে জানানো হলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। প্রশাসনের নীরবতার পেছনে প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন এলাকার সুধীমহল। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসানকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও চিত্র দেখানো হলে, তিনি তার নোট বইয়ে ঠিকানা লিখে রেখে বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।