ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার Logo রৌমারীতে বলগেট ও ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব এলাকার মানুষ Logo রায়গঞ্জে ছয় ওয়ার্ড নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ, গণশুনানি Logo পাবনা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে প্রস্তাব প্রেরণ সংক্রান্ত সভা Logo লামায় ইউএনওকে বিদায় সংবর্ধনা Logo মঠবাড়িয়ায় বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না রান্নার এলপিজি গ্যাস Logo জাতীয় কন্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা Logo ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিলুপ্তির পথে বড়দিয়া বাজার Logo ‘অধিকার’এর ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নোয়াখালীতে আলোচনা ও মতবিনিময় Logo সুন্দরবনে সম্রাট বাহিনীর হাত থেকে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪ জেলে উদ্ধার

পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার

বৃক্ষ প্রেমী পলাশবাড়ীর মরহুম আব্দুল হাকিম মন্ডল ধলু মাস্টার জীবিত থাকা অবস্থায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় তাল,খেজুর সহ বিভিন্ন,ফলজ, বনজ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ করে মানুষের মনে স্থান করে সাদা মনের মানুষ হিসেবে অমর হয়ে আছেন। এই বৃক্ষ প্রেমী মানুষটি হলো গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মেরীরহাট ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের চেরেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ১ কন্যার জনক। জীবিতাবস্থায় বিগত প্রায় ৩০ বছর আগে থেকেই তিনি চেরেঙ্গা গ্রামের করতোয়া বাঁধ এর রাস্তার দু’’ধারে তাল, খেজুর, বাঁশ, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু লটকনসহ উদ্ভিদ জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ শুরু করেন। তিনি হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা, ছোটট শালমারা প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শুরু করে পশ্চিম অভিমুখে রাস্তা ও করতোয়া বাঁধ এর রাস্তার দু’ধারে এবং করতোয়া পাড়া দুলাল ঠাকুরের বাড়ি পর্যন্ত এসব বৃক্ষ রোপণ করেন। এছাড়াও মেরীরহাট বাজার, লক্ষীপুর, সাইনদহ সবজির বাজার, অচিনতলা ব্রীজ পেরিয়ে সোজা পশ্চিমে কুরসিয়াপাড়া গ্রামের রাস্তার দু’ধারে, টুকনিপাড়া ঈদগাহ মাঠ হতে শুরু করে চেরেঙ্গা রশিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে, খাসবাড়ি, কদমতলী, রামকৃষ্ণপুর, আকবরনগর,দর্জি পাড়া পর্যন্ত জীবিতাবস্থায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে এসব বৃক্ষ রোপণ করে ব্যাপক সারা ফেলেন। তার এ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ পলাশবাড়ী বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ১৯৮৮ইং সালে সাদা মনের মানুষ হিসেবে সনদ প্রদান করেন। এ বৃক্ষ প্রেমী সাদা মনের মানুষটি সবাইকে কাঁদিয়ে গত ০৫/০২/২০২২ইং তারিখে মৃত্যু বরন করেন। তার ছোট ছেলে রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ফাইনাল বর্ষের ছাত্র মো. মাসুম বিল্লাহ’র সাথে এ প্রতিবেদকের সাথে বেশ কিছু বিষয়ে আলাপ হয়। একপর্যায়ে তিনি জানান,তার বাবার দেখানো পথে তারা পরিবারের সবাই এসব বৃক্ষের পরিচর্যা অব্যাহত রেখেছেন। তারা মা খন্দকার দিলরুবা বেগম তিনিও এসব গাছের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন নিঃস্বার্থভাবে। তাদের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই শুধু একটাই আশা বহুল পরিচিত ইত্যাদি’র ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বাবার অবদান টুকু যেনো তুলে ধরা হয়। তাহলে মানুষ গাছের প্রতি আরো যতœবান হবে এবং বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ হবে। আজ তার বাবার নিজের হাতে পরম যতেœ ও মমতায় বৃক্ষ গুলো বেশ বড়সড় হয়ে যেন জানান দিচ্ছে হাকিম স্যার মরেনি এসব বৃক্ষের মধ্যেই তিনি বিরাজ করছেন। তাদের বাড়িটাও যেনো একটা বাগানবাড়িতে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে তাদের বাড়িতে তালবীজ, সহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ, ওষুধি ও বিভিন্ন উদ্ভিদ জাতীয় বৃক্ষের চারা শোভা পাচ্ছে। আর এসব বৃক্ষের চারাগুলো রাস্তার দু’ধারে রোপণ করা হবে একটু বড় হলেই। কিছু অসাধু ব্যক্তি অনেক গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলে বা লাকড়ি তৈরী করে বলেও অভিযোগ করেন মাসুম বিল্লাহ ও এলাকাবাসী। তাদের দাবী সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের রোপণ কৃত গাছগুলোর দেখভালের জন্য যেনো একটু তদারকি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেই কথার সুর ধরে বলতে চাই,বৃক্ষ নিধন নয়,বৃক্ষ রোপণে ঐক্যবদ্ধ হই। তাহলেই সবুজে ভরে যাবে বাংলাদেশ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার

পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম মাস্টার

আপডেট সময় ০১:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বৃক্ষ প্রেমী পলাশবাড়ীর মরহুম আব্দুল হাকিম মন্ডল ধলু মাস্টার জীবিত থাকা অবস্থায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় তাল,খেজুর সহ বিভিন্ন,ফলজ, বনজ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ করে মানুষের মনে স্থান করে সাদা মনের মানুষ হিসেবে অমর হয়ে আছেন। এই বৃক্ষ প্রেমী মানুষটি হলো গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মেরীরহাট ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের চেরেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ১ কন্যার জনক। জীবিতাবস্থায় বিগত প্রায় ৩০ বছর আগে থেকেই তিনি চেরেঙ্গা গ্রামের করতোয়া বাঁধ এর রাস্তার দু’’ধারে তাল, খেজুর, বাঁশ, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু লটকনসহ উদ্ভিদ জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ শুরু করেন। তিনি হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা, ছোটট শালমারা প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শুরু করে পশ্চিম অভিমুখে রাস্তা ও করতোয়া বাঁধ এর রাস্তার দু’ধারে এবং করতোয়া পাড়া দুলাল ঠাকুরের বাড়ি পর্যন্ত এসব বৃক্ষ রোপণ করেন। এছাড়াও মেরীরহাট বাজার, লক্ষীপুর, সাইনদহ সবজির বাজার, অচিনতলা ব্রীজ পেরিয়ে সোজা পশ্চিমে কুরসিয়াপাড়া গ্রামের রাস্তার দু’ধারে, টুকনিপাড়া ঈদগাহ মাঠ হতে শুরু করে চেরেঙ্গা রশিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে, খাসবাড়ি, কদমতলী, রামকৃষ্ণপুর, আকবরনগর,দর্জি পাড়া পর্যন্ত জীবিতাবস্থায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে এসব বৃক্ষ রোপণ করে ব্যাপক সারা ফেলেন। তার এ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ পলাশবাড়ী বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ১৯৮৮ইং সালে সাদা মনের মানুষ হিসেবে সনদ প্রদান করেন। এ বৃক্ষ প্রেমী সাদা মনের মানুষটি সবাইকে কাঁদিয়ে গত ০৫/০২/২০২২ইং তারিখে মৃত্যু বরন করেন। তার ছোট ছেলে রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ফাইনাল বর্ষের ছাত্র মো. মাসুম বিল্লাহ’র সাথে এ প্রতিবেদকের সাথে বেশ কিছু বিষয়ে আলাপ হয়। একপর্যায়ে তিনি জানান,তার বাবার দেখানো পথে তারা পরিবারের সবাই এসব বৃক্ষের পরিচর্যা অব্যাহত রেখেছেন। তারা মা খন্দকার দিলরুবা বেগম তিনিও এসব গাছের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন নিঃস্বার্থভাবে। তাদের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই শুধু একটাই আশা বহুল পরিচিত ইত্যাদি’র ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বাবার অবদান টুকু যেনো তুলে ধরা হয়। তাহলে মানুষ গাছের প্রতি আরো যতœবান হবে এবং বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ হবে। আজ তার বাবার নিজের হাতে পরম যতেœ ও মমতায় বৃক্ষ গুলো বেশ বড়সড় হয়ে যেন জানান দিচ্ছে হাকিম স্যার মরেনি এসব বৃক্ষের মধ্যেই তিনি বিরাজ করছেন। তাদের বাড়িটাও যেনো একটা বাগানবাড়িতে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে তাদের বাড়িতে তালবীজ, সহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ, ওষুধি ও বিভিন্ন উদ্ভিদ জাতীয় বৃক্ষের চারা শোভা পাচ্ছে। আর এসব বৃক্ষের চারাগুলো রাস্তার দু’ধারে রোপণ করা হবে একটু বড় হলেই। কিছু অসাধু ব্যক্তি অনেক গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলে বা লাকড়ি তৈরী করে বলেও অভিযোগ করেন মাসুম বিল্লাহ ও এলাকাবাসী। তাদের দাবী সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের রোপণ কৃত গাছগুলোর দেখভালের জন্য যেনো একটু তদারকি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেই কথার সুর ধরে বলতে চাই,বৃক্ষ নিধন নয়,বৃক্ষ রোপণে ঐক্যবদ্ধ হই। তাহলেই সবুজে ভরে যাবে বাংলাদেশ।