ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়ছে তৎপরতা। বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক নেতা আগ্রহী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজ নিজ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এতে ইউনিয়নটির সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ইউনিয়নটিতে মোট ভোটার ২৬ হাজার ৩৪৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৯১৮ এবং নারী ১২ হাজার ৪২৯ জন। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এই ভোটারের সমর্থন আদায়ে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, তৃণমূলের সমর্থন ও স্থানীয় ভোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অন্তত ১১ জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী নেতা, সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তবে তাঁদের কেউই এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো। তিনি পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের উন্নয়ন কমিটি ও সাংগঠনিক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য পেয়ার আহমদ আকাশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১/১১-এর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর তাঁকে কারাবন্দী করা হয় এবং প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস কারাভোগ করতে হয়। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাঁর বাড়িঘরে হামলা এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর আক্রমণের অভিযোগও করেছেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি তাঁর। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য এ এস এম দুলাল ভূঞা। তিনি পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষাজীবনে এলএলবি (অনার্স), এলএলএম ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। এর আগে ২০১১ ও ২০১৬ সালে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এবারও তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন ভূঞা হুদন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ১৯৯০ সালে নোয়াখালীর সেনবাগের মোহাম্মদপুর রামেন্দ্র মডেল উচ্চবিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ফেনী জেলা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের সদস্যসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মঞ্জুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও দাগনভূঞা ইকবাল কলেজের সাবেক জিএস। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। এ ছাড়া বৈরাগীরহাট এলাকায় হামলার শিকার হয়ে আট দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাঁকে। ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাখাওয়াত হোসেন মামুনের নামও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে প্রায় ১০ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন তিনি। এ সময়ে ১৮টি মামলার আসামি হন এবং সাতবার কারাবরণ করেন বলে দাবি তাঁর। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে গত ১৭ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আন্দোলন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পাঁচটি মামলার আসামি হয়েছেন বলে দাবি তাঁর। ৫ আগস্টের পর নিজ গ্রামে ফিরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দলের জন্য তাঁকে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। একই পদে দায়িত্ব পালন করা ইকরাম হোসেন মানিকের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। গত ১৭ বছরে নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে মাত্র চার-পাঁচবার এলাকায় এসেছেন। তবে দাগনভূঞা ও ফেনীতে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলেন। এদিকে, মো. হাসানও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন-হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ২৬ থেকে ২৭টি মামলা ছিল জানিয়ে মো. হাসান বলেন, তাঁদের ঘরবাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। ১৭ বছর আগে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলেও জানান। পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং তরুণদের মধ্যে আলোচিত দেলোয়ার সুমনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। নজরুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে চলমান কমিটিতে তিনি যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাজনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মামলায় আসামি হয়েছেন। অন্যদিকে, দেলোয়ার সুমন ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা। তিনি ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান। বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা বেশি হলেও জামায়াতে ইসলামী পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলটির ব্যবসায়ী শাখার শহর সেক্রেটারি ফখরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসার পর থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ে সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ইউনিয়নটিতে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আজিজুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাগনভূঞা উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত ও জনশক্তি সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। একই দলের একাধিক নেতার আগ্রহের কারণে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি নেতাকর্মীদের অবস্থান, তৃণমূলের সমর্থন এবং প্রার্থীদের পারস্পরিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজ নিজ প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের মাঠে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে। তবে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা কিংবা সাংগঠনিক পদ বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের ফল অনুমান করা সম্ভব নয়। ভোটারদের মনোভাব, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান এবং নির্বাচনী প্রচারণার ধরনও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, ২৬ হাজারের বেশি ভোটারের পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কে দলীয় মনোনয়ন পান এবং অন্য দলগুলোর ঘোষিত প্রার্থীরা ভোটারদের কতটা সমর্থন আদায় করতে পারেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল, দলীয় মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা

আপডেট সময় ০৩:১২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়ছে তৎপরতা। বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক নেতা আগ্রহী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজ নিজ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এতে ইউনিয়নটির সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ইউনিয়নটিতে মোট ভোটার ২৬ হাজার ৩৪৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৯১৮ এবং নারী ১২ হাজার ৪২৯ জন। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এই ভোটারের সমর্থন আদায়ে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, তৃণমূলের সমর্থন ও স্থানীয় ভোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অন্তত ১১ জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী নেতা, সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তবে তাঁদের কেউই এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো। তিনি পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের উন্নয়ন কমিটি ও সাংগঠনিক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য পেয়ার আহমদ আকাশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১/১১-এর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর তাঁকে কারাবন্দী করা হয় এবং প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস কারাভোগ করতে হয়। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাঁর বাড়িঘরে হামলা এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর আক্রমণের অভিযোগও করেছেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি তাঁর। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য এ এস এম দুলাল ভূঞা। তিনি পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষাজীবনে এলএলবি (অনার্স), এলএলএম ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। এর আগে ২০১১ ও ২০১৬ সালে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এবারও তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন ভূঞা হুদন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ১৯৯০ সালে নোয়াখালীর সেনবাগের মোহাম্মদপুর রামেন্দ্র মডেল উচ্চবিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ফেনী জেলা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের সদস্যসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মঞ্জুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও দাগনভূঞা ইকবাল কলেজের সাবেক জিএস। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। এ ছাড়া বৈরাগীরহাট এলাকায় হামলার শিকার হয়ে আট দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাঁকে। ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাখাওয়াত হোসেন মামুনের নামও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে প্রায় ১০ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন তিনি। এ সময়ে ১৮টি মামলার আসামি হন এবং সাতবার কারাবরণ করেন বলে দাবি তাঁর। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে গত ১৭ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আন্দোলন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পাঁচটি মামলার আসামি হয়েছেন বলে দাবি তাঁর। ৫ আগস্টের পর নিজ গ্রামে ফিরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দলের জন্য তাঁকে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। একই পদে দায়িত্ব পালন করা ইকরাম হোসেন মানিকের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। গত ১৭ বছরে নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে মাত্র চার-পাঁচবার এলাকায় এসেছেন। তবে দাগনভূঞা ও ফেনীতে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলেন। এদিকে, মো. হাসানও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন-হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ২৬ থেকে ২৭টি মামলা ছিল জানিয়ে মো. হাসান বলেন, তাঁদের ঘরবাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। ১৭ বছর আগে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলেও জানান। পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং তরুণদের মধ্যে আলোচিত দেলোয়ার সুমনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। নজরুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে চলমান কমিটিতে তিনি যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাজনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মামলায় আসামি হয়েছেন। অন্যদিকে, দেলোয়ার সুমন ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা। তিনি ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান। বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা বেশি হলেও জামায়াতে ইসলামী পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলটির ব্যবসায়ী শাখার শহর সেক্রেটারি ফখরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসার পর থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ে সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ইউনিয়নটিতে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আজিজুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাগনভূঞা উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত ও জনশক্তি সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। একই দলের একাধিক নেতার আগ্রহের কারণে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি নেতাকর্মীদের অবস্থান, তৃণমূলের সমর্থন এবং প্রার্থীদের পারস্পরিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজ নিজ প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের মাঠে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে। তবে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা কিংবা সাংগঠনিক পদ বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের ফল অনুমান করা সম্ভব নয়। ভোটারদের মনোভাব, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান এবং নির্বাচনী প্রচারণার ধরনও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, ২৬ হাজারের বেশি ভোটারের পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কে দলীয় মনোনয়ন পান এবং অন্য দলগুলোর ঘোষিত প্রার্থীরা ভোটারদের কতটা সমর্থন আদায় করতে পারেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল, দলীয় মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।