ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য: প্রধানমন্ত্রী Logo দেড় বছরে যে ক্ষতি করেছে, এখন গ্যাস পাচ্ছি না: বিমানমন্ত্রী Logo আবারও দিল্লি পুলিশের হাতে আটক অভিজিৎ দিপকে Logo ‘পাক-আমেরিকা যুদ্ধ হলে আমরা পাকিস্তানের পাশে থাকব’ Logo দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের Logo ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আনতে অর্থের সমস্যা হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo টাঙ্গাইলে ২৮০০ সনাতন ধর্মাবলম্বীকে প্রতিমন্ত্রী টুকুর দুর্গাপূজার উপহার Logo ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য : বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ Logo ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো Logo আইফোন পানিতে পড়ে গেলে কী করবেন?

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আনতে অর্থের সমস্যা হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ ক্ষেত্রে অর্থের কোনো সমস্যা হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরিমানা থেকে আদায় করা অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ নাগরিকদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সবার দায়বদ্ধতা বাড়িয়েছে। তবে এর প্রকোপ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের কোনো উদ্যোগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকট। বিরোধী দল ডেঙ্গু প্রতিকারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি দেননি। বিপরীতে তারা লং মার্চের মাধ্যমে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতা ছিলো। তারা পার্শ্ববর্তী দেশকে অযাচিত সুযোগ সুবিধা দিতে দেশের সংকটকে অবহেলা করেছে। রাজধানীর মূল সমস্যা দুটি হকার ও অটোরিকশা। হকার ও অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে আশা করি অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে ভোগান্তির নাম। রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ না করলেও হাসপাতালগুলোতে গেলে এর ভায়াবহতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষেরা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে, সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গুর কাছে যাতে আমরা অসহায় হয়ে না পড়ি। ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানে আদা করা অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ পরিবারকে দেওয়া হোক। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর টিকায় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সঠিক হলেও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলে সরকার ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বিগত শাসন আমলে ডেঙ্গু চিকিৎসার নামে নানান ধরনের অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহে অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট, সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। আওয়ামী শাসন আমলে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১,৭০৫ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় দুই সিটি কর্পোরেশন মশার লার্ভা নিধনের জন্য অবিজ্ঞানসম্মতভাবে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁসের চাষের প্রকল্প গ্রহণ করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী সরকার। সেই সময়ে নানা অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দলকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছে সরকারি দল কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, সাংবাদিক প্রতীক ইজাজ, সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান ও সাংবাদিক জেনিয়া কবির সূচনা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য: প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আনতে অর্থের সমস্যা হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেট সময় ০৮:১৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ ক্ষেত্রে অর্থের কোনো সমস্যা হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরিমানা থেকে আদায় করা অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ নাগরিকদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সবার দায়বদ্ধতা বাড়িয়েছে। তবে এর প্রকোপ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের কোনো উদ্যোগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকট। বিরোধী দল ডেঙ্গু প্রতিকারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি দেননি। বিপরীতে তারা লং মার্চের মাধ্যমে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতা ছিলো। তারা পার্শ্ববর্তী দেশকে অযাচিত সুযোগ সুবিধা দিতে দেশের সংকটকে অবহেলা করেছে। রাজধানীর মূল সমস্যা দুটি হকার ও অটোরিকশা। হকার ও অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে আশা করি অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে ভোগান্তির নাম। রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ না করলেও হাসপাতালগুলোতে গেলে এর ভায়াবহতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষেরা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে, সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গুর কাছে যাতে আমরা অসহায় হয়ে না পড়ি। ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানে আদা করা অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ পরিবারকে দেওয়া হোক। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর টিকায় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সঠিক হলেও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলে সরকার ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বিগত শাসন আমলে ডেঙ্গু চিকিৎসার নামে নানান ধরনের অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহে অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট, সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। আওয়ামী শাসন আমলে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১,৭০৫ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় দুই সিটি কর্পোরেশন মশার লার্ভা নিধনের জন্য অবিজ্ঞানসম্মতভাবে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁসের চাষের প্রকল্প গ্রহণ করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী সরকার। সেই সময়ে নানা অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দলকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছে সরকারি দল কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, সাংবাদিক প্রতীক ইজাজ, সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান ও সাংবাদিক জেনিয়া কবির সূচনা।