ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে মোট ৪৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে কুকুরের কামড়ে ৪২ জন এবং বিড়ালের কামড়ে ২৪২ জনসহ মোট ২৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১৫ দিনে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৫ জন। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে ৩০ জন এবং বিড়ালের কামড়ে ১৬৫ জন। দেড় মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুকুরের কামড়ে মোট ৭২ জন এবং বিড়ালের কামড়ে ৪০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ মোট আক্রান্ত ৪৭৯ জনের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ের শিকার। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তের এমন পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন থাকলেও আদতে তা দেখা হচ্ছে না। পৌরসভা জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নিয়মিতভাবে বেওয়ারিশ ও পোষা কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী (অহঃর-জধনরবং) ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি পরিচালনা না করার কারণে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অপরদিকে উপজেলা প্রশাসন যদি বিড়াল পালনের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন প্রদান বাধ্যতামূলক কিংবা সেজন্য একটি কার্ড ইস্যু করে তাহলে পালনকারীরা অবশ্যই তাদের প্রিয় পোষা প্রাণীটির ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদান করবেন। এতে করে বিড়ালে কামড়ানোর রোগীর সংখ্যাও অনেক অংশে কমে যাবে। একই সাথে হাসপাতালে কুকুর বিড়ালে কামড়ানো রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। পোষা বিড়ালের কামড়ে ক্ষতস্থান নিয়ে হাসপাতালে আসা সুরাইয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিড়ালটি আমার অনেক প্রিয়, সব সময় আমার সাথে পাশেই থাকে। বিড়ালটিকে আদর করার এক মুহূর্তে হঠাৎ আমাকে কামড় দিয়ে বসে। এজন্যই হাসপাতালে এসেছি ভ্যাকসিন নিতে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার জিননু রাইন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে সমস্ত বিড়াল পালনকারী ব্যক্তিরা আছেন তারা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ বিড়ালকে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দিয়ে নেন তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিড়াল কুকুর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তির সংখ্যা দুই তৃতীয়াংশ কমে যাবে। এছাড়া সামাজিকভাবে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুরগুলোকে যদি কিছু খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় তাহলে পথের কুকুরের কামড়ানো সংখ্যা অনেক কমে যাবে।
পৌরসভা থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ সমস্ত পথের কুকুরগুলোকে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির আওতায় এনে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শিশির কুমার সানা জানান, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক কিন্তু সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য ভাইরাসবাহিত রোগ, যা সচেতনতা ও সঠিক সময়ে প্রতিষেধক গ্রহণের মাধ্যমে শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কুকুরের বা বিড়ালের কামড় বা আঁচড় লাগলে ক্ষতস্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট সাবান-পানি দিয়ে ধোয়া এবং অবিলম্বে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেওয়া নিশ্চিত করাই জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।জলাতঙ্ক প্রতিরোধী জীবনরক্ষাকারী “র্যাবিস ভ্যাক্সিন “বর্তমানে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মজুদ আছে এবং সরবরাহ থাকার ভিত্তিতে আমরা নিয়মিতভাবে ভ্যাক্সিন প্রদান করছি। এ অবস্থায় কুকুর ও বিড়ালের কামড় প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পোষা প্রাণীর নিয়মিত টিকাদান এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর উপজেলা এবং পৌর প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করবে এমনটি মনে করেন সুধী সমাজ।
সংবাদ শিরোনাম
কালীগঞ্জে কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগ জনক হারে বাড়ছে
-
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৮:৪৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- 5
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















