ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আজ বুধবার বিজয়া দশমী Logo পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে-এমপি হাফিজ ইব্রাহিম Logo এম ক্যাশ লিঃ-এর বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত Logo বোরহানউদ্দিনে ২০টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, ৯০০ পরিবারের হাতে উপহার ও নগদ অর্থ দিলেন এমপি হাফিজ ইব্রাহিম Logo বিকেবি অফিসার কল্যাণ সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত Logo নাজিরপুরে পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সুমন মঞ্জুর Logo বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ-স্পিকার হাফিজ Logo টঙ্গীতে সেতু বন্ধন বরিশাল বিভাগীয় জনকল্যাণ সমিতির কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা Logo ঈশ্বরগঞ্জে লাঠি-বৈঠা হাতে নিয়ে নিষিদ্ধ আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল Logo গঙ্গাচড়ায় ঝুকিপুর্ণ নোহালী ইউপি ভবনে চলছে কার্যক্রম

বিজয়নগরের সাপুটিয়া বিলে মাছ লুটের অভিযোগ ইজারাদারের দাবি, প্রতিবছর ১২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের উত্তর পাশে তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত সাপুটিয়া বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। বিলের ইজারাদার বাঁধ নির্মাণের সময় আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের শত শত মানুষ নৌকা ও বিভিন্ন ধরনের জাল নিয়ে বিলে প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুধন্তি ইউনিয়নের বাসিন্দা নিখিল দাস তাঁর লোকজন নিয়ে পাটি দিয়ে বিলে বাঁধ দেওয়ার কাজ করছেন। এ সময় সাপুটিয়া, রসুলপুর, রাজাবাড়িয়াকান্দি, রামপুর, বৈশামুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন মাছ ধরতে বিলে জড়ো হন। এ সময় অনেককে নৌকা নিয়ে বাঁধের ভেতরে প্রবেশ করে কারেন্ট জাল, কনই জালসহ বিভিন্ন ধরনের জাল সহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করে মাছ ধরতে দেখা যায়। এতে বিলের মাছ আহরণকে কেন্দ্র করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবি, এ বিল তাঁদের গ্রামের নামে পরিচিতি রয়েছে এবং অনেকের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বছরে একদিন এ বিলে মাছ ধরে আসছেন। তাঁদের ভাষ্য, দুপুর থেকে শুরু করে সারা রাত এবং পরদিন দুপুর পর্যন্ত মাছ ধরার এ কার্যক্রম চলবে। গ্রামবাসীর দাবি, এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই এ বিলের মাছের ওপর নির্ভরশীল। সরকার বিলটি ইজারা দিলেও তাঁরা বছরে অন্তত একদিন মাছ ধরার সুযোগ চান। অন্যদিকে, বিলের ইজারাদার নিখিল দাস জানান, তিনি সরকারের কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য সাপুটিয়া বিল ইজারা নিয়েছেন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও তিনি সরকারি কোষাগারে ১২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুম শেষে মাছ ধরে রাখার জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে মাছের খাবার দিতে হয়। পানির পরিমাণ কমতে শুরু করলে মাছ আহরণের সুবিধার্থে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ বিলে প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ায় তিনি প্রতিবছরই লোকসানের মুখে পড়েন। এ নিয়ে গত বছর তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। বিলের ইজারাদার এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর দাবি, সরকারি রাজস্ব দিয়ে ইজারা নেওয়া বিলের মাছ অবাধে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের মাছ ধরার প্রথা এবং সরকারি ইজারার অধিকারÑদুই বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ বুধবার বিজয়া দশমী

বিজয়নগরের সাপুটিয়া বিলে মাছ লুটের অভিযোগ ইজারাদারের দাবি, প্রতিবছর ১২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে

আপডেট সময় ০৮:০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের উত্তর পাশে তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত সাপুটিয়া বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। বিলের ইজারাদার বাঁধ নির্মাণের সময় আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের শত শত মানুষ নৌকা ও বিভিন্ন ধরনের জাল নিয়ে বিলে প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুধন্তি ইউনিয়নের বাসিন্দা নিখিল দাস তাঁর লোকজন নিয়ে পাটি দিয়ে বিলে বাঁধ দেওয়ার কাজ করছেন। এ সময় সাপুটিয়া, রসুলপুর, রাজাবাড়িয়াকান্দি, রামপুর, বৈশামুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন মাছ ধরতে বিলে জড়ো হন। এ সময় অনেককে নৌকা নিয়ে বাঁধের ভেতরে প্রবেশ করে কারেন্ট জাল, কনই জালসহ বিভিন্ন ধরনের জাল সহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করে মাছ ধরতে দেখা যায়। এতে বিলের মাছ আহরণকে কেন্দ্র করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবি, এ বিল তাঁদের গ্রামের নামে পরিচিতি রয়েছে এবং অনেকের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বছরে একদিন এ বিলে মাছ ধরে আসছেন। তাঁদের ভাষ্য, দুপুর থেকে শুরু করে সারা রাত এবং পরদিন দুপুর পর্যন্ত মাছ ধরার এ কার্যক্রম চলবে। গ্রামবাসীর দাবি, এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই এ বিলের মাছের ওপর নির্ভরশীল। সরকার বিলটি ইজারা দিলেও তাঁরা বছরে অন্তত একদিন মাছ ধরার সুযোগ চান। অন্যদিকে, বিলের ইজারাদার নিখিল দাস জানান, তিনি সরকারের কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য সাপুটিয়া বিল ইজারা নিয়েছেন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও তিনি সরকারি কোষাগারে ১২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুম শেষে মাছ ধরে রাখার জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে মাছের খাবার দিতে হয়। পানির পরিমাণ কমতে শুরু করলে মাছ আহরণের সুবিধার্থে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ বিলে প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ায় তিনি প্রতিবছরই লোকসানের মুখে পড়েন। এ নিয়ে গত বছর তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। বিলের ইজারাদার এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর দাবি, সরকারি রাজস্ব দিয়ে ইজারা নেওয়া বিলের মাছ অবাধে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের মাছ ধরার প্রথা এবং সরকারি ইজারার অধিকারÑদুই বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।