প্রশাসনের একের পর এক অভিযানেও থামছে না সিন্ডিকেট, হুমকিতে বসতি ও ফসলি জমি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সমানতালে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও বালু দস্যুদের সিন্ডিকেটের কারণে নদীটি তীব্র পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। যদিও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম ও যানবাহন জব্দ করছে, কিন্তু অভিযানের পরপরই নতুন কৌশলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে এই চক্র। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি সম্প্রতি ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলমের নেতৃত্বে কাকারা লোটনি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বড় ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। একই দিনে সুরাজপুর-মাঝেরফাঁড়ি সংযোগ সেতুর নিচে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলতে থাকা অপর একটি শ্যালো মেশিন গুঁড়িয়ে অকেজো করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে ২০ অক্টোবর কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বানিয়াকুম ও মুহুরীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ এবং দুটি ধ্বংস করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসের অভিযানেও চকরিয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালুভর্তি তিনটি ডাম্পার গাড়ি আটক এবং স্যালো মেশিন ধ্বংস করা হয়েছিল। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে সিন্ডিকেটটি এখন দিনের পরিবর্তে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বালু উত্তোলনে নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার ফলে মাতামুহুরী নদী ও তার তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে সুরাজপুর-মাঝেরফাঁড়ি সংযোগ সেতুসহ নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোর গোড়া থেকে বালু সরানোর ফলে পিলারের স্থায়িত্ব বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ভূ-গর্ভ ও নদীর তলদেশ থেকে লাগামহীন বালু তোলার কারণে মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বাঘগুজারা রাবার ড্যাম (রাবার ব্যারেজ) মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ড্যামের পাশে চোরাবালি ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর গভীর থেকে বালু তোলায় দুই তীরের লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল ও কাকারা অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া নদীর তীরে অবৈধভাবে বালুর স্তূপ করে রাখায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে রবিশস্য ও সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রাণহানি: ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশে গভীর ও বিপজ্জনক গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যা পরবর্তীতে মরণফাঁদ বা ‘চোরাবালি’তে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে নদীতে নেমে এক সাংবাদিক অলি উল্লাহ রনি’র পুত্র সহ এই চোরাবালির গর্তে পড়ে একাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। এ ব্যাপারে, চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মাতামুহুরী নদী রক্ষা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সিন্ডিকেটের কোনো সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না। মেশিন জব্দ ও ধ্বংসের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও কারাদ-ের মতো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মনির আহমদ কক্সবাজার 


















