বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

শিশুর মাথার ওপরের নরম অংশটি দিতে পারে পানিশূন্যতার ইঙ্গিত

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
খুলির হাড়গুলো জন্মের সময় পুরোপুরি জোড়া লাগে না। ছবি/সংগৃহীত

নবজাতক বা ছোট শিশুর মাথার ওপরের নরম জায়গাটি দেখে অনেক সময় বাবা-মা দুশ্চিন্তায় পড়েন। এটি স্বাভাবিক অছে কিনা, না কি কোনো সমস্যার লক্ষণ দিচ্ছে – এ নিয়ে দ্বিধা থাকে অনেকেরই।
মাথার ওপরের এই নরম অংশটি – যার নাম ফন্টানেল – শুধু শিশুর বৃদ্ধির অংশই নয়, এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরের অবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে।
ফন্টানেল কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
শিশুর মাথার খুলির হাড়গুলো জন্মের সময় পুরোপুরি জোড়া লাগে না। জন্মের পরে এটা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে জোড়া লাগে। নবজাতকের মাথার হাড়ের মাঝের এই ফাঁকা জায়গাটিই ফন্টানেল, যা মস্তিষ্কের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের তথ্য অনুযায়ী, এটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অংশ এবং প্রথম দেড় বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
পানিশূন্যতার লক্ষণ হিসেবে ফন্টানেল
চিকিৎসকেরা বলেন, ফন্টানেলের অবস্থান দেখে অনেক সময় পানিশূন্যতা বোঝা যায়। যদি এই নরম অংশটি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বসে যায় এবং এর সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে তা হতে পারে পানিশূন্যতার ইঙ্গিত। অন্যান্য লক্ষণগুলো হলো –
>> ঠোঁট বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া
>> প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
>> শিশুর অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুদের এসব লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি, কারণ শিশুদের পানিশূন্যতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক দ্রুত জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন
শিশুর যত্ন নেওয়ার সময় প্রতিদিনই ফন্টানেলের দিকে কিছুটা নজর রাখুন। যদি হঠাৎ করে বেশি বসে যেতে দেখা যায়, শিশুর খাওয়ার আগ্রহ কমে যায় বা স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন আসে – তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব পরিবর্তনই কি বিপজ্জনক
সব সময় ফন্টানেল সামান্য ওঠানামা করলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শিশুর কান্না বা অবস্থান বদলের কারণে অল্প পরিবর্তন হতে পারে। তবে স্থায়ী বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শিশুর মাথার এই নরম অংশটি শুধু শারীরিক গঠনের অংশ নয়, এটি তার স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেতদাতা। তাই সঠিক সময়ে লক্ষণ বুঝতে পারলে পানিশূন্যতার মতো সমস্যাও দ্রুত সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে লক্ষণ দেখেই নবজাতককে পানি খাওয়াবেন না, শিশুর শরীর সরাসরি পানিতে অভ্যস্ত নয়, তাই লক্ষণ দেখরে দ্রুত চিকিৎসকর পরামর্শ নিন।
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (ইউকে), স্ট্যানফোর্ড চিলড্রেনস হেলথ।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com