ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি মানবপাচারের অভিযোগের। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি মামলা আছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকায় মামলা আছে ৫টি। মোট মামলা ১১টি। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মানবপাচারের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার তিনটি বিচারাধীন হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় আরও তিনটি এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটিসহ আটটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তদন্তাধীন একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান, গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতয়ালী, মিরপুর মডেল ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতকে ডিএমপির ডিবির তদন্তাধীন পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একইসাথে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলার মধ্যে ফেনী জেলার ৩টির বিচার কার্যক্রম চলমান। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় তিনি পলাতক ছিলেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতোয়ালী, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানবপাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা আছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এই কমিটির অধীনই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিম-লীর সদস্যপদ পান। জাপার মনোনয়নে নির্বাচন করেন।