ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

সম্ভাবনাময় সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র বাস্তবায়নে দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দাবি

দুই যুগের অপেক্ষা শেষে আশার আলো রামনাথপুর স্থলবন্দর: সম্ভাবনা, প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সীমান্ত মানেই শুধু বিভাজন নয় সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগে তা হতে পারে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর–মহেষখোলা প্রস্তাবিত স্থলবন্দর সেই সম্ভাবনারই প্রতীক। তবে প্রায় ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক (অভ্যন্তরীণ) ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে সীমান্ত পিলার ১১৮৬/৫-এস ও ১১৮৬/৬-এস সংলগ্ন এলাকায় ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিষয়টি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছে এবং সম্ভাবনার ইতিবাচক ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত স্থানে স্থলবন্দর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সম্ভাবনা বিদ্যমান।
উপজেলা সদর থেকে রামনাথপুর পর্যন্ত আংশিক পাকা সড়ক, নদীপথ ব্যবহারের সুযোগ এবং সীমান্তের ওপারে ভারতের মহেষখোলা এলাকায় কয়লা ও চুনাপাথরের সম্ভাব্য মজুদ সব মিলিয়ে এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে প্রায় ২৮ একর জমিতে ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে তারা নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তাদের মতে, এই স্থলবন্দর চালু হলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত অঞ্চলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ নানা খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে চোরাচালান ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিশ ম্রং বলেন, স্থলবন্দর হলে আমাদের এলাকায় কাজের সুযোগ বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, এই স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, বৈধ বাণিজ্য বাড়লে সরকার পাবে রাজস্ব, মানুষ পাবে কর্মসংস্থানÑএটি একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল হতে পারে। এদিকে নেত্রকোনা জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আলহাজ্ব সোহরাব উদ্দিন আকন্দ (খায়রুল) সমকালকে বলেন, “একটি দেশের উন্নয়ন মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ওপর নির্ভরশীল। নেত্রকোনা জেলা ও কলমাকান্দা উপজেলায় শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কর্মকা- তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এই স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে কয়লা, চুনাপাথর, পাথর, বালু, কাঠসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য, মাছ, গার্মেন্টস, পাট, চামড়া, প্লাস্টিক, সিরামিক ও ইলেকট্রনিক্সসহ নানা পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে। তিনি যোগ করেন, সীমান্ত স্থলবন্দর চালু হলে অবৈধ চোরাচালান অনেকাংশে বন্ধ হবে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ‘মৈত্রী বাজার’ চালু করা গেলে দুই দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সীমান্তবর্তী জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। তবে দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগ এখনো প্রশাসনিক কিছু ধাপে আটকে আছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন পর্যায়ের প্রতিবেদন ও সমন্বয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সচেতন মহলের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে রামনাথপুর স্থলবন্দর একটি ‘উইন-উইন’ প্রকল্প হতে পারে। এতে সীমান্তে বৈধ বাণিজ্য বাড়বে, আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। সব মিলিয়ে, দুই যুগের বেশি সময় ধরে প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে সীমান্তের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতেÑযেখানে লাভবান হবে দুই দেশের জনগণ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি, আর উন্মোচিত হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

সম্ভাবনাময় সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র বাস্তবায়নে দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দাবি

আপডেট সময় ০৯:৩১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

দুই যুগের অপেক্ষা শেষে আশার আলো রামনাথপুর স্থলবন্দর: সম্ভাবনা, প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সীমান্ত মানেই শুধু বিভাজন নয় সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগে তা হতে পারে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর–মহেষখোলা প্রস্তাবিত স্থলবন্দর সেই সম্ভাবনারই প্রতীক। তবে প্রায় ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক (অভ্যন্তরীণ) ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে সীমান্ত পিলার ১১৮৬/৫-এস ও ১১৮৬/৬-এস সংলগ্ন এলাকায় ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিষয়টি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছে এবং সম্ভাবনার ইতিবাচক ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত স্থানে স্থলবন্দর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সম্ভাবনা বিদ্যমান।
উপজেলা সদর থেকে রামনাথপুর পর্যন্ত আংশিক পাকা সড়ক, নদীপথ ব্যবহারের সুযোগ এবং সীমান্তের ওপারে ভারতের মহেষখোলা এলাকায় কয়লা ও চুনাপাথরের সম্ভাব্য মজুদ সব মিলিয়ে এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে প্রায় ২৮ একর জমিতে ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে তারা নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তাদের মতে, এই স্থলবন্দর চালু হলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত অঞ্চলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ নানা খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে চোরাচালান ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিশ ম্রং বলেন, স্থলবন্দর হলে আমাদের এলাকায় কাজের সুযোগ বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, এই স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, বৈধ বাণিজ্য বাড়লে সরকার পাবে রাজস্ব, মানুষ পাবে কর্মসংস্থানÑএটি একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল হতে পারে। এদিকে নেত্রকোনা জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আলহাজ্ব সোহরাব উদ্দিন আকন্দ (খায়রুল) সমকালকে বলেন, “একটি দেশের উন্নয়ন মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ওপর নির্ভরশীল। নেত্রকোনা জেলা ও কলমাকান্দা উপজেলায় শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কর্মকা- তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এই স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে কয়লা, চুনাপাথর, পাথর, বালু, কাঠসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য, মাছ, গার্মেন্টস, পাট, চামড়া, প্লাস্টিক, সিরামিক ও ইলেকট্রনিক্সসহ নানা পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে। তিনি যোগ করেন, সীমান্ত স্থলবন্দর চালু হলে অবৈধ চোরাচালান অনেকাংশে বন্ধ হবে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ‘মৈত্রী বাজার’ চালু করা গেলে দুই দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সীমান্তবর্তী জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। তবে দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগ এখনো প্রশাসনিক কিছু ধাপে আটকে আছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন পর্যায়ের প্রতিবেদন ও সমন্বয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সচেতন মহলের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে রামনাথপুর স্থলবন্দর একটি ‘উইন-উইন’ প্রকল্প হতে পারে। এতে সীমান্তে বৈধ বাণিজ্য বাড়বে, আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। সব মিলিয়ে, দুই যুগের বেশি সময় ধরে প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে সীমান্তের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতেÑযেখানে লাভবান হবে দুই দেশের জনগণ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি, আর উন্মোচিত হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।