ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

জয়পুরহাট মহাসড়কে মেরামতের আড়াই মাসেই পিচ উঠে বেহাল দশা

মেরামতের মাত্র আড়াই মাস পার হতে না হতেই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি বড় অংশ। ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ১৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে শহরের পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও সড়ক দেবে গিয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সওজ সূত্র জানায়, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি স্থলবন্দর মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ মেরামতের জন্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজটি পায় খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড। প্রকল্পের আওতায় পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশে নতুন কার্পেটিং এবং বাকি ১৫ কিলোমিটার অংশে প্যাচিং ও আংশিক মেরামত করা হয়। গত এপ্রিলের শেষ দিকে কাজ শেষ হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে পিচ উঠে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক দেবে গেছে। যানবাহনগুলো গর্ত এড়িয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতকাজ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নি¤œমানের নির্মাণকাজের কারণেই এত দ্রুত সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজটি বাস্তবায়ন করেনি। পুরো কাজের তদারকি করেছেন স্থানীয় একজন। নতুন করে গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কেন আড়াই মাসের মধ্যে সড়কটি নষ্ট হয়ে গেল, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান নিজে কাজ না করে অন্যের মাধ্যমে কেন বাস্তবায়ন করল, কারা কাজ তদারকি করেছে এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। পারুলিয়া এলাকার দোকানি তপন কুমার সরকার ও আমিনা বেগম জানান, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়ক বসে যেতে শুরু করে। এখন বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ৪/৫ দিন আগে থেকে সওজ বিভাগের লোকজন মেরামত করছেন। পাঁচবিবি কলোনিপাড়ার ট্রাক চালক আকতার হোসেন বলেন, মেরামতের আগেও সড়কটি এতটা খারাপ ছিল না। কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই পিচ উঠে যেতে শুরু করে।
এখন গাড়ি চালাতে খুবই ঝুঁকি হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক আড়াই মাসেই নষ্ট হয়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের মেরামত করার কথা থাকলেও বর্তমানে সওজ বিভাগই কাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত। জয়পুরহাট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খাঁন বলেন, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজ করেনি; রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক মাসুম কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। ডিফেক্টস লায়াবিলিটি মেয়াদের মধ্যে হওয়ায় এ ব্যয় ঠিকাদারের বিল থেকে সমন্বয় করা হবে। রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেটি আমাদেরই মেরামত করতে হবে। আমরা শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুনরায় কাজ শুরু করব। আমরা নিজেরাই কাজ করছি। সড়কের বেজ ভালো ছিল না। এ কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেডের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

জয়পুরহাট মহাসড়কে মেরামতের আড়াই মাসেই পিচ উঠে বেহাল দশা

আপডেট সময় ১১:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মেরামতের মাত্র আড়াই মাস পার হতে না হতেই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি বড় অংশ। ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ১৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে শহরের পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও সড়ক দেবে গিয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সওজ সূত্র জানায়, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি স্থলবন্দর মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ মেরামতের জন্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজটি পায় খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড। প্রকল্পের আওতায় পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশে নতুন কার্পেটিং এবং বাকি ১৫ কিলোমিটার অংশে প্যাচিং ও আংশিক মেরামত করা হয়। গত এপ্রিলের শেষ দিকে কাজ শেষ হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে পিচ উঠে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক দেবে গেছে। যানবাহনগুলো গর্ত এড়িয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতকাজ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নি¤œমানের নির্মাণকাজের কারণেই এত দ্রুত সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজটি বাস্তবায়ন করেনি। পুরো কাজের তদারকি করেছেন স্থানীয় একজন। নতুন করে গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কেন আড়াই মাসের মধ্যে সড়কটি নষ্ট হয়ে গেল, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান নিজে কাজ না করে অন্যের মাধ্যমে কেন বাস্তবায়ন করল, কারা কাজ তদারকি করেছে এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। পারুলিয়া এলাকার দোকানি তপন কুমার সরকার ও আমিনা বেগম জানান, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়ক বসে যেতে শুরু করে। এখন বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ৪/৫ দিন আগে থেকে সওজ বিভাগের লোকজন মেরামত করছেন। পাঁচবিবি কলোনিপাড়ার ট্রাক চালক আকতার হোসেন বলেন, মেরামতের আগেও সড়কটি এতটা খারাপ ছিল না। কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই পিচ উঠে যেতে শুরু করে।
এখন গাড়ি চালাতে খুবই ঝুঁকি হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক আড়াই মাসেই নষ্ট হয়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের মেরামত করার কথা থাকলেও বর্তমানে সওজ বিভাগই কাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত। জয়পুরহাট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খাঁন বলেন, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজ করেনি; রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক মাসুম কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। ডিফেক্টস লায়াবিলিটি মেয়াদের মধ্যে হওয়ায় এ ব্যয় ঠিকাদারের বিল থেকে সমন্বয় করা হবে। রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেটি আমাদেরই মেরামত করতে হবে। আমরা শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুনরায় কাজ শুরু করব। আমরা নিজেরাই কাজ করছি। সড়কের বেজ ভালো ছিল না। এ কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেডের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।