সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩

শীতের আগমনের পর পরই কমতে শুরু করেছিল সবজির দাম। সবজির দাম কমে মানুষের নাগালের কাছাকাছি চলে আসছিল বলা যায়। গত সপ্তাহে সবজির যে দাম ছিল গতকাল শুক্রবার সেটা অপরিবর্তিতই বলা চলে। তবে শিমের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন জাতের শিম আসাতে দাম কিছুটা বেশি। তবে কয়েক দিন পরেই কমে যাবে। এদিকে সবজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম। সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। তবে এই দাম বৃদ্ধির কারণ জানেন না বিক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় আজকের বাজার পরিস্থিতি।
গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনা করলে আজকের বাজারে সবজির দাম রয়েছে প্রায় অপরিবর্তিত। আজকের বাজারে শিম ৮০-১০০ টাকা, মৌ শিম ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, পেঁয়াজ পাতা ৯০-১২০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, গাজর ৮০-১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৬০ টাকা, কালো গোল বেগুন ৭০ টাকা, শসা ৫০-৮০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, করল্লা ৮০, পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা , ঢেঁড়স ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, ফুলকপি ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা ও চাল কুমড়া ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে। এক্ষেত্রে দেখা যায়—শিম ও লাউয়ের দাম বেড়েছে ২০ টাকা করে। গত সপ্তাহে এসবের দাম ছিল ৬০ কেজি ও প্রতি পিস।
দুটোই শীতকালীন সবজি, তাহলে দাম কেন বাড়লো জানতে চাইলে বিক্রেতা হানিফ বলেন, নতুন জাতের শিম আসছে, তাই দাম একটু বেশি। কয়েক দিনের মধ্যেই কমে যাবে। আর লাউ তো সারা বছরই এখন পাওয়া যায়, এখনকারটা হচ্ছে শীতের নতুন লাউ, তাই দাম কিছুটা বেশি। এসময় পাশে থাকা সুফিয়ান সবজি কিনছিলেন। তিনি বলেন, এরা (বিক্রেতা) শুধু দাম বাড়ানোর উসিলা খোঁজে। এখন সবজির দাম কমে এসেছে এটা তাদের ভালো লাগছে না। সবজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজের দাম এখনও ১০০ টাকার নিচে নামেনি, উলটো বেড়েছে। আজকের বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ১২০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলুর দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। গত সপ্তাহের মতো আজও লাল ও সাদা আলু ৫০ টাকা দরেই বিক্রি করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে দেখা যায় সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ টাকা এবং ক্রস ও ভারতীয় জাতের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছিল দেশি পেঁয়াজের দাম কমাতে কিংবা দেশি পেঁয়াজের দাম না কমা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ যেনও কম দামে ভারতীয় পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা পূরণ করতে পারে। কিন্তু দিন দিন এই চিত্র পালটে যাচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজই এখন দাম বৃদ্ধিতে দেশি পেঁয়াজকে টক্কর দিতে শুরু করেছে।
দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা শিহাব বলেন, পেঁয়াজের দাম কেন বেড়েছে বলতে পারছি না। তবে নতুন পেঁয়াজ না উঠা পর্যন্ত যে সবার বেশি দামে পেঁয়াজ খেতে হবে সেটা বুঝতে পারছি। পেঁয়াজ কিনতে আসা মোতালেব হোসেন বলেন, পেঁয়াজের দাম কমবে সে আশা ছেড়ে দিয়েছি। অল্প কিনি অল্প খাই। এছাড়া আজকে ভারতীয় আদা ২০০ টাকা, দেশি রসুন ২২০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ইলিশ মাছ ওজন অনুযায়ী, ১৫০০-১৬০০ টাকা, রুই মাছ ৩৮০-৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০-৫৫০ টাকা, কালিবাউশ ৪৫০-৭০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৭০০-১০০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০-৫০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৭০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, বেলে মাছ ৬০০-১২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৮০০ টাকা, মেনি মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, কাজলি মাছ ১২০০-১৪০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৬২-১৭৮ টাকা, কক মুরগি ২৫৬-২৬৩ টাকা, লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেখা যায় গরুর মাংসের দাম কমেছে ২৫০-২৮০ টাকা।
মাছ বিক্রেতা সুনীল বলেন, গরুর মাংসের দাম কমে যাওয়াতে মানুষ মাছ কম কিনছে। তবে বেশি দিন এরকম হবে না। কারণ, মাছ প্রতিদিন খাওয়া যায়, মাংস খাওয়া যায় না, ভালো লাগে না। গরুর মাংস বিক্রেতা মো. সুলতান বলেন, দাম কমার পর অনেক ক্রেতা বেড়েছে। রেস্ট নেওয়ার সময় নাই।
মাংস কিনতে আসা জুয়েল বলেন, গরুর মাংস তো ধরাছোঁয়ার প্রায় বাইরে চলে গিয়েছিল। এখন দাম কিছুটা কমেছে বলেই কিনছি। এছাড়া গত সপ্তাহের মতো অপরিবর্তিত দামেই বিক্রি হচ্ছে মুদি দোকানের পণ্য। আজকে ছোট মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুরের ডাল ১১৫ টাকা, মুগ ডাল ১৪৫ টাকা, খেসারি ডাল ৯৫ টাকা, বুটের ডাল ৯৫ টাকা, ছোলা ৯০ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৯ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, খোলা চিনি ১৪২ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৪০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১২০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুদি দোকানের বিক্রেতারা অভিযোগ করে বলছেন, কয়েকটি কোম্পানি থেকে তারা সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না। তারা বলছেন, হয়তো দাম বাড়াবে বলে এমন করছে। সেলিম জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মো. সেলিম হোসেন বলেন, সয়াবিন তেল পাচ্ছি না এক সপ্তাহ ধরে। কোম্পানির লোককে জিজ্ঞেস করলে বলে, দাম বাড়বে বলেই এখন আপাতত সাপ্লাই বন্ধ। বসুন্ধরা ছাড়া সব কোম্পানি একই কাজ করছে। নিউ বেবি ভ্যারাইটিস স্টোরের বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১৫-২০ দিন ধরে রূপচাঁদা তেল দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ। তীর, বসুন্ধরাসহ অন্যরা মোটামুটি দিচ্ছে। শুনলাম রেট নাকি বাড়াবে, তাই এমন করছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com